জীবনবৃত্তান্ত

সৈয়দ উবেদুর রহমান

সৈয়দ উবেদুর রহমান

হবিগঞ্জের বিশিষ্ট প্রাক্তন জমিদার ও প্রাক্তন অনারারী ম্যাজিস্ট্রেট ও বিচারক

সৈয়দ উবেদুর রহমান (গাজী মিয়া) সংক্ষিপ্ত জীবন বৃত্তান্ত (১৯০০-১৯৭৩ খ্রীষ্টাব্দ)।

হবিগঞ্জের বিশিষ্ট প্রাক্তন জমিদার ও প্রাক্তন অনারারী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ উবেদুর রহমান (গাজী মিয়া) ১৯০০ ইংরেজীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাহার পিতা সৈয়দ আব্দুর রহমান (রঃ)-ও হবিগঞ্জ জেলার প্রাক্তন বিশিষ্ট জমিদার ছিলেন।তিনি সিপাহসালার সৈয়দ নাসিরুদ্দীন রহঃ এর অধস্থন পুরুষ মধ্যযোগের মহাকবি সৈয়দ সুলতান (রঃ)এর বংশের একজন সুযোগ্য অধস্থন।সৈয়দ সুলতান রঃ থেকে বংশক্রম তার পিতা সৈয়দ আব্দুর রহমান সাহেব পর্যন্ত নিম্নরুপঃ সৈয়দ সুলতান রঃ> সৈয়দ জিক্রিয়া রঃ> সৈয়দ ফাত্তাহ রঃ> সৈয়দ নাজির রহ:> সৈয়দ আছির র;> সৈয়দ বাতির রহ:> সৈয়দ ছাতির রহ:>সৈয়দ আ: গফুর (সুলতানশী)>সৈয়দ আব্দুর রহমান (রঃ)।

সৈয়দ উবেদুর রহমান (গাজী মিয়া) বৃটিশ আমলে হবিগঞ্জের অনারারী ম্যাজিষ্ট্রেট ছিলেন ১২ বছর। সিলেট জেলা জজ এর জুরী বোর্ডের বিচারক ছিলেন। বৃটিশ আমলে ২৫ বছর শায়েস্তাগঞ্জের সরপঞ্চ (চেয়ারম্যান)ছিলেন। সিলেট রেফারেন্ডামের সময় তার অগ্রণী ভূমিকা ছিল এবং এই আন্দোলনে তিনি প্রথম সারির একজন নেতা ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন শায়েস্তাগঞ্জ মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। হবিগঞ্জ মহকুমা মুসলীম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে হবিগঞ্জ মহকুমা আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন।

সিলেট রেফারেন্ডামের সময় তার অগ্রণী ভূমিকা ছিল এবং এই আন্দোলনে তিনি প্রথম সারির একজন নেতা ছিলেনতিনি দীর্ঘদিন শায়েস্তাগঞ্জ মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেনপরবর্তীতে তিনি হবিগঞ্জ মহকুমা আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নেতা ছিলেন। সমাজের যে কোন জটিল কলহ বিবাদের সুষ্ঠু ও সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত প্রদানে তিনি ছিলেন অদ্বিতীয়।সাহেব বাড়ির সামনে আটাশ গ্রামের বিচার সালিশি হতাে।তিনি হবিগঞ্জ দক্ষিন এলাকার ২৮ গ্রামের সভাপতি ছিলেন ২৫ বছর। 

সৈয়দ উবেদুর রহমান (গাজী মিয়া) বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ঢাকা সােনারগাঁও দাউদ নগরে সৈয়দা ধন বিবি ওয়াকফ স্টেটের মােতওয়াল্লী ছিলেন। শায়েস্তাগঞ্জ, হবিগঞ্জ, বাহুবল, চুনারুঘাট, মাধবপুর, সোনারগাঁ, রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার, বৈদ্যের বাজার (ঢাকা) অধীন মোট ৬১টি মৌজা উক্ত ওয়াকফ এষ্টেটের অন্তর্গত। উক্ত ওয়াকফ এষ্টেটটি সরকারী ভাবে বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসন কর্তৃক রেজিষ্ট্রিকৃত। বর্তমানে উক্ত ওয়াকফ এষ্টেটের দালিলিক মোতাবেক ও অফিসিয়ালী মোতাওয়াল্লী তাহার পৌত্র সৈয়দ অলিউর রহমান।

তিনি বিভিন্ন সমাজ উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। তৎকালীন আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের অনুরোধে শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে ষ্টেশনের ভূমি, রেলওয়ে লাইনের ভূমি সহ রেলওয়ের সাকুল্য ভূমি তাহার পিতা প্রাক্তন জমিদার মরহুম সৈয়দ আব্দুর রহমান সাহেব ও তিনি জনস্বার্থে দান করেন। তাহার বাড়ীর সিমানার নিজস্ব ভূমি হইতে ঢাকা-সিলেট ও শায়েস্তাগঞ্জ-বাল্লা রেলওয়ে লাইনের ভূমি দান করেন। তাহার পূর্ব পুরুষ সৈয়দ শায়েস্তা (রঃ) নামানুসারেই রেলওয়ে কর্ত্তৃপক্ষ শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে ষ্টেশনটির নামকরন করেন এবং শায়েস্তাগঞ্জ নামকরণ হয়। বৃটিশ আমলে তৎকালীন মহকুমা প্রশাসন ও সিএন্ডবি কর্ত্তৃপক্ষের অনুরোধে হবিগঞ্জ-শায়েস্তাগঞ্জ সিএন্ডবি সড়কের পূর্ব বাগুনীপাড়া হইতে রেলওয়ে ষ্টেশন ও রেলওয়ে ষ্টেশন হেইতে শায়েস্তাগঞ্জ পুরান বাজার পর্যন্ত সিএন্ডবির সড়ক তাহার নিজস্ব ভূমি হইতে জনস্বার্থে দান করেন। ঐতিহাসিক দাউদ নগর বাজারটি তারই বাড়ির সীমানার মধ্যে নিজস্ব ভূমিতে তার পূর্ব পুরুষ বন্দেগী সৈয়দ শাহ দাউদ এর নামে তিনি দাউদ নগর বাজার প্রতিষ্ঠা করে গেছেনতিনি অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অনেক সমাজ কল্যান কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

কর্ম ও ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ঢাকার নবাব মরহুম খাজা নাজীম উদ্দিন, মরহুম হুসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মরহুম শের-এ-বাংলা এ.কে ফজলুল হক, মরহুম মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানী ও প্রাক্তন মন্ত্রী মরহুম আতাউর রহমান খান সাহেবের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। আসাম বেঙ্গল এর প্রাক্তন মন্ত্রী মরহুম সাদ উল্লাহ সাহেবের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মরহুম মিজানুর রহমান চৌধুরী সাহেবের সঙ্গে তাহার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।

তিনি একজন পরহেজগার ও আল্লাহওয়ালা লােক ছিলেন। ১৯৭৩ সালের ১৩ নভেম্বর তিনি পরলােক গমন করেন। সাংসারিক জীবনে তিনি দুই পুত্র সন্তানের জনক। ছেলেরা যথাক্রমে  সৈয়দ নজিবুর রহমান (ইকবাল) ও সৈয়দ মুজিবুর রহমান (আবদাল)।

মতামত দিন