জীবনবৃত্তান্ত

সৈয়দ ফখরুল হাসান মুরাদ

নরপতির সৈয়দ বংশজাত সন্তান জনাব ফখরুল হাসান মুরাদ সাহেবের জন্ম হবিগঞ্জ জেলা শহরের শায়েস্তানগর আবাসিক এলাকায় তার পৈত্রিক বাসায়, ১৯৫৭ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর। তিনি সিপাহসালার সৈয়দ নাসিরুদ্দীন রহঃএর অষ্টম অধস্থন পুরুষ সৈয়দ গদা হাসান (রঃ)এর বংশের একজন সুযোগ্য অধস্থন। সৈয়দ গদা হাসান রঃ থেকে বংশক্রম তার পিতা সৈয়দ আবুল হাসান(নুহ মিয়া) সাহেব পর্যন্ত নিম্নরুপঃ সৈয়দ গদা হাসান> সৈয়দ শরফুদ্দীন হাসান> সৈয়দ বদরুদ্দীন হাসান> সৈয়দ গওসুল হাসান> সৈয়দ সুলেমান হাসান> সৈয়দ সিরাজুল হাসান> সৈয়দ আবুল হাসান (নুহ মিয়া)।

যুবক বয়স থেকেই সৈয়দ মুরাদ হাসান ছিলেন সৃজনশীল ও সংস্কৃতিমনা। এস,এস,সি পরীক্ষার আগের বছর ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হওয়ার পরপরই ৪ঠা ডিসেম্বরে হবিগঞ্জ শহরের যে ক’জন দামাল ছেলে মিলে ‘জয়বাংলা সংসদ’ প্রতিষ্ঠা করেছিল- তিনি ছিলেন তাদেরই একজন। স্বাধিনতা উত্তর তারা ঝাপিয়ে পড়েন দেশগড়ার স্বেচ্ছাসেবায়; ভারতের খোয়াই শহর গিয়ে শরণার্থীদেরকে স্বদেশে ফিরিয়ে আনা, জায়গায় জায়গায় অস্থায়ী মঞ্চনাটকের মাধ্যমে দেশবাসীকে পুনরায় নতুন করে বাঁচা ও আপন দেশকে গড়ে তোলায় উদ্ভুদ্ধকরণ ইত্যাদি কাজে। ৭২ সনে এস,এস,সি পাশ করে তিনি ভর্তি হন ঢাকার সরকারী বিজ্ঞান কলেজে যা তৎকালে ইন্টারমিডিয়েট টেকনিক্যাল কলেজ নামে অভিহিত হতো। সেখানে অধ্যায়ন রত অবস্থায়ই তিনি লেখালেখিতে নিজেকে সংশ্লিষ্ট করে ফেলেন। বিভিন্ন ধরনের ফিচার, রিপোর্ট, বিভিন্ন ব্যক্তিত্বে স্বাক্ষাতকার ইত্যাদিতে। ১৯৭৫এর শেষ দিকে ভর্তি হন বাংলাদেশ টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটে। সেখানেও চলে বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও সাহিত্যচর্চা। ‘অংকুর’ নামিয় একটি অনুপত্রিকার সম্পাদনা, সেই সুবাদে দেশের বরেণ্য গন্যমান্য সম্প্রদায়ের সাথে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা। বাংলাদেশ বেতারে ‘তরুণ তরঙ্গ’ নামে একটা অনুষ্ঠানে কথিকা পাঠ অতঃপর উপস্থাপনার দায়িত্ব। ১৯৭৬ সালে হবিগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত ‘চক্রবাক’ নজরুল সাহিত্য সংসদ পরবর্তীতে নজরুল সাহিত্য মজলিশে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা ও বেশ কিছু ছায়া নাটক রচনা যা তখন প্রায়ই মঞ্চায়ন হতো।

১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘দি ইন্সটিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স এন্ড টেকনোলজিস বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠা কালীন সময়েও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখেন। পরে অলিম্পিয়া টেক্সটাইল মিলে চাকুরীরত অবস্থায়ই ব্রিটিশ সরকারের ব্রিটিশ কারিগরি সহায়তার অধীনে বৃত্তি নিয়ে ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর ডিগ্রির জন্য স্বপরিবারে ব্রিটেন গমন। ১৯৯০ সালে দেশে ফিরে বি,টি,এম,সি’তে যোগদান। ১৯৯৩ সালে লিপিকা ফেব্রিক্স নামক রপ্তানি শিল্প প্রতিষ্ঠানে ডিরেক্টর অ্যান্ড শেয়ার হোল্ডার হিসাবে যোগদান। ২০০৪ সালে হজ্বব্রত পালন অতঃপর ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান। পড়াশোনা, কনফারেন্স ও পেশাগত কাজে এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার প্রায় ২৬ টি দেশে ভ্রমণ।

সৈয়দ ফখরুল হাসান মুরাদ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়টাকে উচ্চস্থরের পড়াশোনার বিষয় হিসাবে জনপ্রিয় করে তুলতে যথেষ্ট অবদান রেখেছেন। তাছারাও তিনি পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর টেক্সটাইল ম্যানেজমেন্ট নামে একটা মাধ্যম ও উচ্চতর ব্যাবস্থাপনায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের প্রশিক্ষণের ব্যাবস্থা করেন। তিনি ইন্সটিটিউশন অফ ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ এর ফেলো মেম্বার ইন্সটিটিউশন অফ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স এন্ড টেকনোলজিস্ট বাংলাদেশ এর আজীবন সদস্য। ইউকে ভিত্তিক দ্যা টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট এর এ,টি,আই এর দুটি এনজিও’র সাথে জরিত সাবেক বোর্ড মেম্বার। সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট, ইনুভেশন অ্যান্ড প্র্যাকটিস এবং বাংলাদেশ ইয়ুথ এন্টারপ্রাইজ এন্ড হেল্প সেন্টার এর বোর্ড মেম্বার এবং কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বেও রত আছেন। রোটারি ক্লাবের সাথেও তিনি ওতপ্রোত ভাবে জড়িত আছেন।

@sat

মতামত দিন