জীবনবৃত্তান্ত

সৈয়দ মুহিবুর রহমান ।

সৈয়দ মুহিবুর রহমান(সাবেক মেয়র, বেডফোর্ড শেয়ার, বৃটেন।)

সৈয়দ মুহিবুর রহমান ১৯৫৬ সালে বৃহত্তর সিলেটের হবিগঞ্জ জেলার প্রসিদ্ধ দাউদ নগর সাহেব বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা সৈয়দ মুজিবুর রহমান। পিতামহ দাউদ নগরের প্রখ্যাত সৈয়দ উবেদুর রহমান (গাজী মিয়া সাহেব) হবিগঞ্জ জেলার প্রাক্তন বিশিষ্ট জমিদার ছিলেন। বৃটিশ আমলে হবিগঞ্জের অনারারী ম্যাজিষ্ট্রেট ছিলেন ১২ বছর। সিলেট জেলা জজ এর জুরী বোর্ডের বিচারক ছিলেন। বৃটিশ আমলে ২৫ বছর শায়েস্তাগঞ্জের সরপঞ্চ (চেয়ারম্যান)ছিলেন। তিনি তরফ ও সিলেট বিজয়ী সিপাহসালাহ সৈয়দ নাছির ঊদ্দিন রহ: সুযোগ্য বংশধর,যার আগমন এ দেশে ইসলামী জাগরণ বয়ে এনেছিল।

সৈয়দ রহমান ১৯৭৪ সালে শায়েস্তাগঞ্জ হাইস্কুল থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাস করেন। তিনি প্রাইমারী এবং হাইস্কুলে বৃত্তি পাওয়া ছাত্র। ১৯৭৬ সালে হবিগঞ্জের বৃন্দাবন কলেজ হতে এইচএসসি পাস করেন।৪ বছর পড়াশােনার পর সৈয়দ রহমান আমেরিকান এক কোম্পানীতে ম্যানেজার হিসেবে যােগ দেন।বৃহত্তর সিলেটের হবিগঞ্জের সায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার দাউদ নগর সাহেব বাড়ীতে জন্ম নেয়া সৈয়দ মুহিবুর রহমান ১৯৮৫ সালে বৃটেনে আগম করেন। এদেশে অভিবাসী হওয়ার পর লাইটন বার্জাডে শুরুকরেন রেষ্টুরেন্ট ব্যবসা।গত ৩৩ বছর যাবৎ তিনি বেডফোর্ড শায়ারের লাইটন বাজার্ড এ সফলতা ও সুনামের সাথে ব্যবসা করে আসছেন।বর্তমানে জনাব রহমান একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত । পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথে নিজকে সম্পৃক্ত করেন। মূলতঃ একজন ব্যবসায়ী হিসেবে তিনি এলাকাবাসীর মন জয় করতে সক্ষম হন।

২০০৬ সালে বৃটেনের মূল ধারার রাজনীতির সাথে যুক্ত হন সৈয়দ মুহিবুর রহমান। সৈয়দ মুহিবুর রহমানই প্রথম এশিয়ান হিসেবে কনজারভেটিব পার্টি থেকে এই বারায় কাউন্সিলার নির্বাচিত হন।এই বছরের প্রথম দিকে তিনি লুটন নর্থ রোটারী ক্লাবেরও প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন, তিনিই প্রথম বাঙ্গালী রোটারী ক্লাবের মতো একটি আন্তর্জাতিক সংগঠনর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

২০১৭ মে মাসে তিনি বৃটেনের বেডফোর্ড শেয়ারের লেইটন লিন্সলেড কাউন্সিলের প্রথম বাংলাদেশি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি এই বারায় ডেপুটি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এখানে উল্লেখ্য যে,পাশ্চাত্যের ইতিহাসে তিনিই প্রথম সংখ্যালঘু তথা মুসলিম ব্যক্তি যিনি এই বারায় প্রথম বাংলাদেশী মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে বৃটেনের বহুজাতিক সমাজে বাঙ্গালীর মুখ উজ্বল করেছেন।

জনাব রহমান ১৯৮৪ সালে মিসেস লেবু রহমানের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি একজন সফল মানুষ, তার সহধর্মিনী লুটনে এন-এইচ-এস‘য়ে কর্মরত, বিবাহিত জীবনে তিনি এক কন্যা ও দু‘পুত্রের জনক। তার মেয়ে সৈয়দা পামেলা রহমান ব্রিটিশ হোম অফিসে সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত, তার প্রথম পুত্র সৈয়দ হাসিনুর রহমান লুটনে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সাথে জড়িত, কনিষ্ট ছেলে সিক্সফরম কলেজে স্কুলের শিক্ষক।

বাংলাদেশের প্রতি রয়েছে তার অকৃত্রিম ভালবাসা, তিনি বৃটেনের মূলধারার রাজনীতির পাশাপাশি একাধিক সামজিক সাংস্কৃতিক ও চ্যারিটি সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছেন। সদস্য FREE MAISON, গভর্নর বার্ন ফিল্ড কলেজ যা সমস্ত ইংল্যান্ডের কয়েকটি বড় কলেজের একটি। ভাইস চেয়ারম্যান লিবারেল ডেমােক্রেটিক পার্টি, বেডফোর্ড সায়ার।সাবেক প্রেসিডেন্ট যুক্তরাজ্য বি এন পি।বৃহত্তর সিলেট এডুকেশন ট্রাষ্ট এর উপদেষ্টা।বৃটেনে হবিগঞ্জ জেলা সমিতি ইউকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সিপাহসালার সৈয়দ নাসির উদ্দিন (রহ:) ইনস্টিটিউশন প্রতিষ্ঠাতা সভাপ্রতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সৈয়দ রহমান কোন সভায় বক্তৃতা দিলে সবাই মনােযােগ দিয়ে বক্তব্য শুনতে থাকে । তার বাচনভঙ্গী, ভাষার লালিত্য চমকার।তার পাণ্ডিত্য পূর্ণ বক্তব্যে সভাস্থলে আলােড়ন সৃষ্টি হয়। সারগর্ভ বক্তব্য শুনে মানুষ আশ্বস্ত হয়ে হয়।সৈয়দ রহমান বাংলা, ইংরেজি ছাড়াও উর্দু, হিন্দী, জার্মান ভাষায় কথা বলতে পারেন ।জনাব রহমান সদা সর্বদা মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়ােজিত রেখেছেন।সৈয়দ মুহিবুর রহমান তার চ্যারিটি অর্গানাইজেশন এর মাধ্যমে বাংলাদেশে দরিদ্র বিমোচন ও শিক্ষাক্ষেত্রে কাজ করে যাচ্ছেন।মানুষকে তিনি খুব ভালবাসেন। যুক্তরাষ্ট্র তথা সমস্ত লাইটন বাজার্ডে তাকে সবাই সম্মান করেন। তিনি মানুষের কাজের মূল্যায়ন করতে জানেন।মানবিক গুণাবলির মধ্যে মানুষকে মানুষের মর্যাদা দেয়া তার একটি বড় গুণ। তার কোন অহংকার নেই। ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন জনাব রহমানকে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকলে ভালােবাসেন। তার মধুর ব্যবহার, পরপােকার তাকে সম্মানের শীর্ষে নিয়ে গেছে।

1 Comment

মতামত দিন