জীবনবৃত্তান্ত

মৌলভী সৈয়দ শাহ আব্দুল ওয়াসেহ রহ.(সালেহ)

মযরত মৌলভী সৈয়দ শাহ আব্দুল ওয়াসেহ রহ. (সালেহ) পিতা হযরত সৈয়দ শাহ শায়েদা রহ. এর কনিষ্ঠ পূত্র। তিনি ১৯২৫ইং সালে ২০ এপ্রিল  ঐতিহাসিক নাসিরপুর সাহেব বাড়ীতে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি পড়াশোনা শেষ করে গৌছিয়া খেলাফাত প্রাপ্ত হয়ে তরীকার কাজ শুরু করেন। তিনি এলাকায় ছোট সহেব বলে বহুল পরিচিত ছিলেন। তিনি মৃত্যুর পূর্ব মহুর্ত পর্যন্ত স্থানীয় মসজিদ ও ঈদ গাহের খাতিব ছিলেন অবৈতনিক। তিনি খুবই সাধা সিধে ও সাধারণ মানের জীবন জাপন করেগেছেন। একজন কামেল বুজুর্গ ও সাদামনের মানুষ হিসেবে সমাজে ছিলেন অতিব সম্মানিত। তিনি হযরত শাহজালাল মুজাররাদ ইয়ামনি রহ. এর সফর সঙ্গী হযরত তাজ উদ্দিন কোরেশী(রহ)এর বাংশীয় হবিগঞ্জের খাগাওরা দেওয়ান বাড়ীতে বিবাহ করেন। তিনি তিন কণ্যা ও পাঁচ পুত্রের জনক ছিলেন।

বড় কণ্যাকে অষ্টগ্রাম হাবেলীর পীর লেখক ও গবেষক মাওলানা সৈয়দ কুতুবউদ্দিন আহমেদ আল-হোসাইনীর নিকট বিবাহ দেন। দ্বিতীয় কণ্যাকে গুনিয়াউক সাহেব বাড়ীর পীর সৈয়দ আবুল কালাম আজাদ বাবুল মিয়া সাহেবের নিকট বিবাহ দেন। তৃতীয় কণ্যাকে বাহুবল রাজসুরত দেওয়ান বাড়ীর দেওয়ান আব্দুল মঈজ চৌধুরীর নিকট বিবাহ দেন।বড়ছেলে সৈয়দ মেরাতুল আব্দাল মুস্তাহিদ পরিবার বর্গসহ ওমান বসবাস করছেন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ছেলে সৈয়দ আনোয়ারুল আব্দাল মুজাহিদ ও সৈয়দ মেসবাহুল আব্দাল মুক্তাসিদ পরিবার বর্গসহ লন্ডন বসবাস করছেন। চতুর্থ ছেলে মাওলানা সৈয়দ আশরাফুল আব্দাল মুকাল্লিদ, কুমিল্লা আলিয়া মাদ্রাসা হতে কামেল পাশ করে বাড়ীতে থেকে বাবার দায়ীত্ব পালন করছেন। ছোট ছেলে সৈয়দ এনায়েতুল আব্দুল মুকাম্মিদ চাকুরীর সুবাদে পরিবার বর্গ নিয়ে ঢাকায় বসবাস করছেন। সৈয়দ আব্দুল ওয়াসেহ রহ. (ছোট সাহেবে)র গুণ কারামত সহ অনেক অলৌকিক ঘটনার জনশ্রুতি রয়েছে।

তিনি ইংরেজি ১৯৮৬ সালের ২১ অক্টোবর বাংলা ৬ কার্তিক শুক্রবার ফজর নামাজ আদায় করে সোবহে সাদেকের পর নিজ বাড়ীতেই ইন্তেকাল করেন এবং বাড়ীর অদুরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

@sfhb

মন্তব্য

  • হযরত মাওলানা সৈয়দ কুতুব উদ্দিন আহমদ আল-হোসাইনী চিশতী সাহেব, কিশোরগঞ্জ জেলাধীন অষ্টগ্রাম উপজেলার ঐতিহাসিক হাবেলী নয়কোষা জমিদার বাড়ীর সুপ্রসিদ্ধ সৈয়দ পরিবারে ১৯৩২ ইং সনের ৪ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হযরত শাহজালাল রঃএর প্রধান সহচর শ্রীহট্ট ও তরফ বিজয়ী সিপাহসালার সৈয়দ নাছিরুদ্দিন রঃএর বংশধর।

    তিনি সাত বছর বয়স হতেই নামজ রোজা এবদত বন্দেগিতে মশগুল থাকতেন। ক্লাসের সমসাময়িকদের মধ্যে ছিলেন সর্বাধিক মেধাবী। মাদ্রাসার শিক্ষা শেষ করে তিনি হাদিস ও ফিকাহ শাস্ত্রের উপর বিশেষ জ্ঞান অর্জন করতে তৎকালীন মুফতিয়ে আজম সৈয়দ আমিমুল ইহসান রহ.এর সান্নিধ্যে যান এবং উনার কাছেই বাইয়াত গ্রহন করেন। উর্দু ফার্সি আরবী মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করলেও বাংলা ইংরেজি ও গনীত তিনি নিজ আগ্রহে জ্ঞানলব্দ হন। অষ্টগ্রাম হোসাইনিয়া আলিম সিনিয়র মাদ্রাসার সভাপতি থাকা কালে উনাকে দাখিল আলিম ক্লাসের আরবীর পাসাপাসি ইংরেজি ক্লাস নিতেও দেখা যেতো। তিনি ধর্মীয় জ্ঞানের পাশাপাশি সমাজ ও রাজনীতিতেও বিশেষ জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। তিনি শাহ কুতুব মসজিদ ও মাদ্রাসা এবং উপজেলা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের প্রায় ৩০ বছর সভাপতি ছিলেন। অষ্টগ্রাম আলিম মাদ্রাসার সুদীর্ঘকাল সভাপতি ও কেন্দ্রীয় পাকপাঞ্জতন পরিষদের সহ সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। উনার প্রতিষ্ঠিত পাকপাঞ্জতন পাঠাগারসহ এলাকা ও এলাকার বাহিরে বহু হোসাইনি মাকাম, মসজিদ, মাদ্রাসা, ঈদময়দান ও কবরস্থান নির্মাণ করে গেছেন। এর মধ্যে উল্লেখ্য অষ্টগ্রাম আল-হোসাইনী জামে মসজিদ, হাবেলি পাড়া কবরস্থান, কমিউনিটি ক্লিনিক, পাকপাঞ্জতন পাঠাগার, এস কে উদ্দিন হাফেজিয়া মাদ্রাসা। ভৈরব লক্ষিপুর আল-হোসাইনী ঈদ খানা, হোসাইনি মোকাম, আল হাসান ও আল-হোসাইনী জামে মসজিদ সহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।তিনি জীবনে কোন দিন পান সিগারেট বা রিচফোড জাতিয় কোন খাবার খাননি এমন কি হাটে বাজারে কোন দোকানে বসে এক কাপ চাও পান করেননি। উনার নিত্যসঙ্গী ছিলো খাতা কলম ও কিতাবাদী আর আহলে বায়েতের বানী আলোচনা ও প্রচার।

    স্থানীয় লোকদের ভাষ্য, এত অল্প আহার অল্প ঘুম ও এমন এবাদতকারী ব্যাক্তি পাওয়া বর্তমান সমাজে খুবই বিড়ল। তিনি আমিত্ব বর্জনকারী হয়ে তরীকতের কাজে মনোনিবেশ করার পর হতে বিভিন্ন অঞ্চলের হাজার হাজার আলেম, ডাক্তার, ইন্জিনিয়র ও সাধারণ মানুষ বাইয়াতে তাজকিয়া গ্রহন করেন। তাঁর লিখা শতাধিক উর্দু, বাংলা, কাসিদা, গজল, জারি-মার্সিয়া রয়েছে যেগুলো জ্ঞানীদের নিকট আত্মার খোরাক হিসাবে সমাদৃত। তাঁর লিখা-

    * নেয়ামতে খোদা আহলে বয়তে মস্তফা

    * সত্যের মানদণ্ড ইমাম হোসাইন আ.

    * আত্মার খোরাক

    * অসায়েফে হেসাইনী ও

    * প্রদীপ।

    উপরুক্ত পাণ্ডুলিপি গুলো পুস্তক আকারে প্রকাশিত হয় যা জ্ঞান পিপাসুদের নিকট ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। আরো কয়েক খানা পান্ডুলিপি প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। উনার আরো অনেক অলৌকিক কারামতের ঘটনাসহ উনার জীবন চলার মান নিয়ে পূর্নাঙ্গ জীবনী প্রকাশিত হতে যাচ্ছে।

    উনার জীবদ্দশায় উচ্চমাধ্যমিক পড়োয়া ছেলে ২০০৩ইং সনে এক মর্মান্তিক লঞ্চ দুর্ঘটনায় সৈয়দ নিয়াজ হাসান সোহাগ এবং তার নয় মাস পর নবম শ্রেণির ছাত্রী সৈয়দা নাফা সুলতানা নামে দুই সন্তানের অকাল মৃত্যু হয়। তিনি নিজেই সন্তানদের জানাজা পড়ান। তখন তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, পিতার নিকট সর্বাধিক ভারী তার সন্তানের লাশ! তবে আমার কোন দুঃখ নেই, আমার মালিকের খুশিতেই আমি খুশি! তবে আমার সন্তানরা কাউকে কোন কষ্টদিয়ে থাকলে তাদের আপনারা ক্ষমা করে দিবেন।যুবক সন্তানের লাশ সামনে রেখে কোন পিতা এই ভাবে কথা বলতে পারেন সেটা খুবই বিড়ল।এতে করে লোকজন বুঝতে পাড়লেন যে সৈয়দ কুতুবউদ্দিন সাহেব স্রষ্টার প্রতি কতইনা অবিচল।

    তিনি ইন্তেকালের পূর্বে স্ত্রী দুই ছেলে সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান, সৈয়দ মোমতাজ হাসান সুজন এবং দুই কণ্যা সৈয়্দা মুশফিকা সুলতানা রোমা (মজ্জুবিয়ত হালত) ছোট কণ্যা সৈয়দা শেগুফ্তা সুলতানা জিবা স্বামী ঐতিহাসিক খান্দুরা হাবেলীর পীর সৈয়দ আহমদ বখত মতিন। এ ছারাও তিনি লক্ষাধিক মুরিদ ভক্ত আশিক আত্মীয় ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গত ৩০ জুলাই ২০১৬ইং মোতাবেক ১৫ শ্রাবণ ১৪২৩ বাংলায় ইহলোক ত্যাগ করেন।প্রতি বছর বাংলায় ১৫ শ্রাবণ বাৎসরিক বেসাল দিবস পালিত হয়।

    @sfhb

  • এই কিতাবগুলো আমাদের পড়া দরকার।বইগুলো আমার লাগবে।

মতামত দিন