প্রবন্ধ স্থানীয় ইতিহাস

সৈয়দ নাসিরুদ্বীন কুদ্বছুররুহু

অষ্টাদশ শতকের শেষের দিকে লেখা মশাজান সাহেব বাড়ির সৈয়দ মোজাফফর আলী দাগু শাহ্‌ পীর সাহেবের খাতা থেকে।

বান্দার কায়মনে যখন মহীয়ান আল্লাহ তায়ালার গোলামী এবং তাঁহার মহিমান্বিত রাসুলুল্যাহি সাল্যে আলাহে ওয়া সালাম এবং তাঁহার পাক আউলাদ সাল্যে আলাইহে ওয়া সালাম গনের জন্য মাওযুদকৃত মোহাব্বত ও মোয়াদ্দাতের সহিত আর্ত মানবের প্রতি দায়িত্ববোধ সম্মিলিত হয়, তখন তাহা বেগবান গাঙের ন্যায় মঞ্জিলে মকসুদ অভিমুখে অপ্রতিরোধ্য গতিতে ধাবমান হইতে থাকে। বান্দার ঈমানী নূরের তাজাল্লী যখন অমানিশার অন্ধকার ভেদ করিয়া দেয়, তখন ঐশী উপায়েই তাহার আপন পন্থ প্রস্তত হইয়া যায়। হুক্কুল্লাহ ও হুক্কুল ইবাদ তখন এমনি এক মহাশক্তি হইয়া দাঁড়ায় যাহা মানবসন্তানকে নির্ভীক ও বেপারওয়া করিয়া তুলে। ফলে আল্লাহের পথের সেই পথিকের বিজয়যাত্রা হইয়া ওঠে অবশ্যম্ভাবী। আল্লাহ্‌র রাসুলের আহলূ বায়্যেতের খাছ আওলাদ তরফ ও সিলহট বিজয়ী ইনসানে কামেল সিপাহসালার সৈয়দ নাসিরুদ্বীন কুদ্বছুররুহু রহেমাতুল্যাহ ছিলেন তেমনি একজন ওলিউল্লাহ।

উল্যেখ্য যে মুসলিমগনের বিজয়ের পূর্বে অত্র অঞ্চল কতিপয় হিঁদু রাজাগনের অধীনে লাউর, গৌড়, জৈন্তা, প্রতাবগড়, ইটা, চন্দ্রপুর, মগধ, জগন্নাতপুর ও তুঙ্গাচল নামধেয় একেকটি সামন্ত রাজ্যে বিভক্ত ছিল। মুসলিম বাহিনী কর্তৃক বিজিত হইয়া গৌড়রাজ্য সিলহট এবং তুঙ্গাচলরাজ্য তরফ নামে ধারিত হয়।

সিলহট ও তরফ বিজয়ের ঘটনাদয় অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কে যুক্ত। গৌড়রাজ্য নিবাসী মুসলিম প্রজা বোরেহানুদ্বীনের পুত্রের আকিকা উপলক্ষে গো কতলের অপরাধে তাহার শিশুপুত্রকে রাজা গোবিন্দ কর্তৃক হত্যা ও তাহার স্বীয় হস্ত কতলের বিচার চাহিয়া বোরেহানুদ্বীন বাঙ্গালার সুলতান সদনে প্রার্থী হইয়াছিলেন। ফলে উক্ত নির্যাতনের প্রতিবিধান কল্পে সুলতান শামসুদ্বীন শাহের হুকুমে ত্বদীয় পুত্র সিকান্দর শাহের বাহিনী জখোন দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে গোবিন্দের অগ্নিবান উপরন্তু ঐন্দ্রজালিক ব্যুহ প্রতিহত করিতে বারংবার ব্যর্থ হইতে ছিলেন, তৎপর্যায়ে পার্শ্ববর্তী তুঙ্গাচল রাজ্যের রাজা আচাকনারায়ণ তাহার রাজ্যে বসবাসকারী মুসলিম প্রজা নুরুদ্বীনের পুত্রের বিবাহ উপলক্ষে গো কতলের অপরাধে তাহাকেও শিরশ্ছেদের প্রতিবিধানার্থে নুরুদ্বীনের ভ্রাতা-পুত্র দিল্লীর সুলতান সকাশে বিচার প্রার্থী হইয়াছিলেন।

পূর্বে প্রাপ্ত গৌড়গোবিন্দের মুসলিম নির্যাতনের প্রতিকারার্থে ভাগেনেয় সিকান্দার শাহার উপর্যুপরি ব্যর্থতার সংবাদে সম্রাট আলাউদ্দীন শাহী ইতুমধেই মর্মাহত হইয়া ছিলেন, উপরন্তু গৌড় পার্শ্ববর্তী তুঙ্গাচলের মুসলমানের উপর একঐ নির্যাতনের স্বকরুণ অভিযোগে মহামতি বাদশাহ সাতীশয় চিন্তিত হইয়া দিল্লীর অতি উচ্চমান আধ্যাত্নিক মহিষী হযরত নিজামুদ্বীন আউলিয়া রহেমতুল্যাহের স্মরনাপন্ন হইলেন। অতঃপর হযরতের আধ্যাত্নিক পরিষদবর্গ বাদশাহকে এই মর্মে সমাধান প্রদান করিলেন যে, সমূহ কালবৈশাখীর দুরন্ত তাণ্ডবে বাদশাহের সেনা পল্টনের যেই তাম্বু খানার প্রদীপ অনির্বাণ থাকিবে সেই তাম্বুভ্যন্তরে অবস্থানকারী লোক দ্বারা আলোচ্য অভিযানের সফলতা প্রাপ্তি সুনিশ্চিত।

এই স্বীদ্ধান্ত অবগতি ক্রমে একদা  আপতিত ঝড় স্থিমিত হইলে বাদশাহের পর্যবেক্ষক দল সৈয়দ নাসিরুদ্বীন ক্বুদছুররুহকে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি মর্মে বাদশাহের সমীপে পেশ করিলেন।

উল্যেখ্য যে, ঘটনাক্রমে কুনিয়াতের সুবিখ্যাত মজরদ দরবেশ শাহজলাল রহেমতুল্যাহ তখন দিল্লীশ্বরের পীর নিজামুদ্বীনের মর্যাদাবান অতিথি মর্মে বাদশাহের আমন্ত্রণে দরবারে সমাসীন ছিলেন।

বাদশাহ নামধার মুহাজের নাসিরুদ্বীনের বিস্তারিত বৃত্তান্ত জানিতে চাওয়ায় তিনি বাদশাহকে স্বীয় বৃত্তান্ত পেশ করিলে বাদশাহ সন্তুষ্টচিত্তে তাঁহাকে সাম্রাজের পূর্বাচলাস্থ পাহাড়ি অঞ্চলের উক্ত দুই অত্যাচারী রাজার ঐন্দ্রজালিক শৌর্যের বিষয় বিবৃত্তিক্রমে আধ্যাত্মিক পরিষদ বর্গ প্রদিত সমাধানকল্প অবগত করত তাঁহাকে সিপাহসালারের সনন্দ প্রদানোত্তর বাহিনী সহ সেই পাহাড়ি রাজ্য সমুহে সমরাভিযানে প্রেরণ করিবার ইচ্ছা ব্যাক্ত করিলে নাসিরুদ্বীন আপনাকে আড়াল করিবার নিমিত্তে উক্ত সমরনায়কত্ব ও আধ্যাত্নিক যোগ্যতার তুলনায় নিজেকে হীনবল মর্মে পেশ করিলে উপস্থিত দরবেশ হযরত শাহজলাল মজরদ নাসিরুদ্বীনকে উৎসাহ প্রদানোত্তর এই মর্মে অঙ্গিকার ব্যাক্ত করিলেন যে, তিনি স্বীয় দরবেশকুল সমবিব্যাহারে অত্র ধর্মযুদ্ধে তাহাকে পূর্ণ সঙ্গতি প্রদান করিবেন।

এক্ষনে উল্যেখযোগ্য যে আমার বরজাখ নিবাসী পীর ও পিতামহ সৈয়দ গোলাম রজা রহেমতুল্যাহ হইতে এইমর্মে জানিতে পারিয়া ছিলাম যে, সৈয়দ নাসিরুদ্বীন রহেমাতুল্লাহের পিতা বিংশত্তম নবীবংশ সৈয়দ হাসন আরবী রহেমতুল্যা একজন অকপট বক্তা হওয়ার কারনে চরম ক্ষমতান্ধ বাদশাহ মস্তসিম শাহের রোষানলের শিকার হইয়া আপন প্রাণ ও শিশুপুত্রের ভবিষ্যৎ রক্ষার্থ সংগোপনে রাত্রান্ধকারে বুগদাদ হইতে স্বপরিবারে হিন্দুস্থানাভিমুখে হিজরত করত দিল্লী নগরে স্থিত হইয়া ছিলেন। তথায় তিনি অতিশয় ন্যূন আয়ের একখানা ব্যবসায় দ্বারা সংসারাতিপাত করিতেন।

যাহা হওক, অতপর সৈয়দ নাসিরুদ্বীন শাহা সুলতানের প্রদেয় সিপাহসালার পদবী গ্রহন করতঃ যথাসীগ্র প্রায় এক সহস্র ঘোড়সওয়ারীর একখানা বাহিনী প্রস্তুত করিয়া গন্তব্যাভিমুখে দক্ষিণ-পূর্বে রওয়ানা হইয়া লখনৌ ও এলাহাবাদের মধ্যবর্তী দ্বারা মাত্র চারিমঞ্জিলে এই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতঃ নদগঙ্গা ও ভ্রহ্মপুত্র উল্লঙ্ঘন করিয়া চৌদ্দগাঁও নামক স্থানে দরবেশ শাহজলাল ও তৎসঙ্গীয় দরবেশকুলের সঙ্গে মিলিত হইলেন। তদোপরি আরও অগ্রসর হইলে নদমেঘনা তীরবর্তী স্থলে ইতিপূর্বে গোবিন্দের মোকাবেলায় বারংবার পরাস্ত্র সেনাপতি সিকান্দার শাহা প্রায় দ্বিসহস্র পদাতিক সন্য সহযোগে তাঁহাদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার পর তাঁহারা উপরন্ত এক মঞ্জিল উত্তরাভিমুখে শতরখণ্ডল অতিক্তম করত তুঙ্গাচল রাজ্যে প্রবেশান্তে দুর্বার গতিতে আচক নারায়নের প্রাসাদাভিমুখে ধাবিত হইলেন।

দিল্লীশ্বর ও বঙ্গেশ্বর এতদুভয় সুলতানের ফরমানে সুবিশাল বীর্যবলী সেনাকুল তদসঙ্গে ঐশীবলে বলীয়ান তাপসকুলের ক্ষমতা উপলব্ধ হইয়া ভীতসন্ত্রস্ত রাজা স্ববাহিনী সহকারে পলায়নপর আত্নগুপন করিল। অগত্যা ধর্মযুদ্ধের আদর্শবলে বলীয়ান মুসলিম বাহিনী রাজপুর ও খঁওয়াই গাঙের মধ্যবর্তী স্থানে সেনাছাউনী স্থাপন করত ত্রিপার্শে বেষ্টনাবন্দী রাজাসদনে এই মর্মে এত্তেলা প্রেরণ করিলেন যে, হয় আসিয়া ইসলামে সমর্পিত হও নাহয় পলায়ন করো; নচেৎ তোমাকে স্বদলে হত্যা করা হইবেক; দুর্বিনীত কাফের শাসক ও শাসন ব্যবস্থাকে নির্মূল করাই খোদার বিধান।

ফলে রাত্রান্ধকারে রাজা স্বদলে পলাতক হইলে সপ্তাহকাল রাজ্য পর্যবেক্ষণার্থ পর্যাপ্ত বাহিনী সহ সদ্যবিজিত রাজ্যের দখল রক্ষণ ও তত্বাবধানার্থ ত্বদীয় অলিকুল হইতে শৌর্যবান দ্বাদশ কুতুব নিয়োগ করত অন্যায় সংহারী খোদার দল গৌড় বিজয়ের মহতি উদ্দেশ্যে তথায় হইতে উত্তরাভিমুখে দিনারপুর পাহাড় পার্শ্ব দ্বারা গমন করিবার দিন কয়েক আন্তে একদা দুর্মতি আচাকনারায়ণ দায়িত্বপ্রাপ্ত ওলিগণের তুলনামুলক বাহিনী সল্পতার সুযোগে আত্নগুপন হইতে স্বদলে আবির্ভূত হইলে খঁওয়াই তীরে অলিকুল ধন্য কুতুব গেছুদারাজ শাহপীর ও তাঁহার বাহিনীর মোকাবেলায় এক সম্মুখ সমরে স্বদলে নিহত হয়।

উল্যেখ্য যে আমার মরহুম পিতা রহেমতুল্লাহ বলিতেন, অত্র জঙ্গে শাহাপীর সহ মুসলিম বাহিনীর মাত্র চত্বারিংশতি মুজাহেদ শাহাদাত পাইয়া ছিলেন পকরান্তরে সিকান্দার শাহ ও নাসিরুদ্বীন শাহের নবজওয়ান দুই পুত্র কাল্লুশাহা ও সিরাজশাহের বীরোচিত ও দুর্দমনীয় সমর নৈপুণ্যে আচাকনারায়ন সহ সহস্র কাফের নিহত হয়।

তাহার কিছুকাল অন্তে অত্যাচারী গোবিন্দকে পরাস্ত করত গৌড়রাজ্য বিজয় সমাপনান্তে সিপাহসালার সৈয়দ নাসিরুদ্বীন কুদ্বসুররুহু তরফরাজ্যে প্রত্যাবর্তন করিয়া অত্র রাজ্যর শাসনভার গ্রহন করত মোড়ারবন্দ নামক স্থানে স্বীয় হুজরা ও দরবার স্থাপনান্ত কিছুকাল রাজ্যাশাসনান্তে সুযোগ্য পুত্র সিরাজুদ্বীন শাহার হস্তে রাজ্যের শাসনভার অর্পণ করিয়া আপনা ধামে খোদা তায়ালার সুগভীর বন্দেগীতে আবিষ্টি ও তথায় পূর্ব-পশ্চিমে সমাহিত হওন।

সিপাহসালার সৈয়দ নাসিরুদ্বীন কুদ্বসুররুহু রহেমতুল্যাহ ছিলেন এমনই একজন উচ্চমার্গের কামেল ওলী যে অত্র কাফেলার সমুদয় আউলিয়াকুল সহ দরবেশ শিরোমণি স্বয়ং শাহজলাল মজরদ যাঁহার আধ্যাত্নশক্তির প্রতি অনন্যরুপ সমীহ এবং ভরসা করিতেন। বলা বাহুল্য যে দরবেশ কুলের সুপারিশে অত্র অভিযানের সমুদয় কারামতির সিংহভাগ তাঁহার দ্বারা সংগঠিত হইয়াছিল মর্মে ঘটমান সময়কাল হইতে প্রজন্ম পরম্পরায় অদ্যাবধী কথিত হয়, তেমন কি ইহার প্রমান কতিপয় পুথিপুস্তকেও পাওয়া যায় যে তাঁহার আসর ও ফজরের স্রষ্টোপাসনা কোন দিন হয় নাই ক্বাযা, যাঁহার নিনাধকণ্ঠে ফুঁৎকারিত আজানের ধ্বনিতে প্রকম্পিত হইয়াছিল গৌড়ের প্রাসাদভূম, গোবিন্দের প্রেরিত দানবীয় লৌহধনুতে তিনিই সংযোজন করিয়াছিলেন বিকট ছ্বিলা, তাহাঁরই উৎক্ষেপিত সেই লৌহ তীরজাঘাতে গোবিন্দের দেবালয় গম্বুজ হইয়াছিল ভূপাতিত।

এই যে তাঁহার পূর্ব-পশ্চিমে সমাহিতের ঘটনায়ও এক আশ্চর্য কারামতির বিবরণ সুপ্রসিদ্ধ হইয়া আছে। কিন্তু পারমার্থিকতায় অবিশ্বাসীগনের জন্য ইহাই পরিতাপ যে তাহারা এইমর্মে প্রশ্ন উত্থাপন করিয়া থাকেন যে একজন ওলিয়ে খোদা কি মর্মে পবিত্রতম ক্বাবাভিমুখে পদ স্থাপনারত কবরে সমাহিত হওয়ার ওছিয়ত করিলেন? আজোও স্মরণ হয়, যুবা বয়সে একদা আমার আপন বিশ্বাসের নিরিখে দেওবন্দ মাদ্রেছার একজন সম্মানিত আলেম ছাহেব কৃত এহেন যৌক্তিক জিজ্ঞাসার সদুত্তরে ব্যর্থ হইয়া বিষম বিব্রত বোধ করিয়াছিলাম। পরে বাটিতে ফিরিয়া উক্ত আলেম ছাহেবের জিজ্ঞাসাখানা আপন পীরছাহেব সমীপে পেশ করিলে ইহার ইতিবৃত্ত যাহা জানিতে পারিয়া ছিলাম তাঁহার মর্ম এই যে, মৃত্যুপিরায় পিরীত নাসিরুদ্বীন কুদ্বছুররুহ আপনা খোদা সমীপে নামাজ জারির নিমিত্তে তাঁহাকে পূর্ব ছীনানায় শায়িত করাইয়া দেওয়ার জন্য খাদেমদিগকে আদেশ করিয়াছিলেন, তদুপরি এক্ষণে তাঁহার মৌতের আলামত লক্ষ্য করত কতিপয় সম্মানিত বহিরাগত দর্শনার্থী তাঁহাকে উত্তর ছীনানা করিতে তৎপর হইলে হেরেম বাসীগন তাহাতে অস্বীকৃতি প্রকাশোত্তর ইহা সিপাহসালারের স্বীয়স্বীদ্ধান্ত মর্মে ওজর পেশ করিলেন। তৎশ্রবণে মারেফাতে অর্বাচীন আলেম বৃন্দ বিস্ময়াভিভূত হইয়া বলিতে লাগিলেন, এতকাল আমরা যাহাকে একজন আরেফ বলিয়া শুনিয়া আসিতেছি, অদ্য তাহার এহেন মতিবিভ্রম চাক্ষসে সেই শ্রুতি মিথ্যা প্রতিপন্ন হইল। অতঃপর তাহারা হেরেমবাসী দিগকে এই মর্মে

[দুর্ভাগ্য বসত খাতার পরবর্তী একটি কিংবা একাধিক পাতা হারিয়ে যাওয়ায় লেখাটা অসমাপ্ত]

মন্তব্য

মতামত দিন