দু’আ/যিকির/ওযিফা/আমল

বিপদ ও দুর্যোগ থেকে মুক্তি লাভের দোয়া।

এই দোয়াটি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নাতি বেহেশতের সর্দার ও শহীদদের নেতা ইমাম হোসাইন (সালামুল্লাহি আলাইহি)-এর পুত্র ইমাম আলী বিন হুসাইন আল-যায়নুল আবেদীন (সালামুল্লাহি আলাইহি)-এর দোয়ার গ্রন্থ ‘সাহীফা আস-সাজ্জাদিয়া’-এর ৭ম দোয়া। দোয়াটি নিচে উল্লেখ করা হলােঃ


আর্বী টেক্সটঃ


বাংলা উচ্চারণঃ

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম।ইয়া মান তুহাল্লু বিহি উকাদুল মাকারিহ, ইয়া মান ইউফসায়ু বিহি হাদ্দুশ শাদাইদ, ইয়া মাই ইউলতামাসু মিনহুল মাখরাজু ইলা রাওহিল ফারাজ, যালিকা লেকুদরাতিকাস সিআ’ব, ওয়া তাসাব্বাবাত বি লুতফিকাল আসবাব, ওয়া জারা বি-কুদরাতিকাল কাযা’, ওয়া মাযাত আলা ইরাদাতিকাল আশাইয়া’, ফা-হিয়া বি-মাশিয়্যাতিকা দুনা কাওলিকা মু’তামিরাহ, ওয়া বি-ইরাদাতিকা দুনা নাহয়িকা মুনযাজিরাহ, আনতাল মাদুয়্যু লিলমুহিম্মত, ওয়া আনতাল মাফযায়ু ফীল মুলিম্মাত, লা ইয়ান্দাফিউ মিনহা ইল্লা মা দাফা’তা, ওলা য়্যানকাশিফু মিনহা ইল্লা মা কাশাফতা। ওয়াক্কাদ নাযালা বী ইয়া রাব্বী মা ক্বাদ তাকা’দানী সিক্বলুহু, ওয়া আলাম্মা বী মা ক্বাদ বাহাযানী হামলুহ, ওয়া-বী কুদরাতিকা আওরাদতাহু আলাইয়্যা, ওয়া-বী সুলতানিকা ওয়াজজাহতাহু ইলাইয়্যা, ফালা মুসদিরা লিমা আওরাদতা, ওয়া সারিফা লিমা ওয়াজজাহতা, ওয়া ফাতিহা লিমা আগলাক্বতা, ওয়ালা মুগলিকা লিমা ফাতাহতা, ওলা মুয়্যাসসিরা লিমা আসসারতা, ওয়ালা নাসিরা লিমান খাযালতা।

ফাসাল্লি আলা মুহম্মাদিউ ওয়া আলিহি ওয়াফতাহ লী ইয়া রাব্বাল ফারাজি বি-তাওলিক, ওয়াকসির আন্নী সুলতানাল হাম্মি বি-হাওলিক, ওয়াআনিলনী হুসনান নাযারি ফিমা শাকাওতু, ওয়া আযিকনী হালাওয়াতাস সুনয়ি ফিমা সাআলতুম ওয়াহাবলী মিল্লাদুনতা রাহমাতান ওয়া ফারাজান হানিয়া। ওয়াজ আল-লী মিন ইনদাকা মাখরাজান ওয়াহিয়্যা। ওয়া তাশগালনী বিল-ইহমিমামি আন তাআহুদি ফুরুযিক, ওয়সতিমালি সুন্নাতিক।

ফাক্বাদ যিকতু লিমা নাযালা বি ইয়া রাব্বি যারআন, ওয়ামতালা’তু বি হামলি মা হাদাসা আলাইয়্যা হাম্মা, ওয়া আনতাল কাদিরু আলা কাশফি মা মুনিতু বিহ, ওয়া দাফয়ী মা ওয়াকা’তু ফীহ, ফাফআল বী যালিকা ওয়া ইললাম ইসতাওজিবহু মিনকা ওয়া যাল-আরশিল আযীম। ওয়া যাল-মান্নিল কারীম, ফাআনতা কাদিরুন ইয়া আরহামার রাহিমীন, আমীন ইয়া রব্বাল আলামীন।

বাংলা অনুবাদঃ
হে যার মাধ্যমে অপছন্দনীয় জিনিসের গিটগুলো খুলে যায়! হে যার মাধ্যমে দুঃখকষ্টের তীব্রতাকে প্রশমিত করা হয়! হে যার কাছে কষ্ট লাঘবের আনন্দের দিকে বের হওয়ার আবেদন করা হয়। কঠিন বিষয়ও আপনার বশ্যতা স্বীকার করে আপনার মহাশক্তির কারণে, এবং কারণগুলো পরিণতি লাভ করে আপনার কোমলতার কারণে, এবং চূড়ান্ত রায় সংঘটিত হয় আপনার মহাশক্তির কারণে, এবং সব জিনিস এগিয়ে যায় আপনার ইচ্ছা অনুযায়ী। ফলে আপনার কথা ছাড়াই শুধু আপনার ইচ্ছার মাধ্যমে তারা আপনার আদেশ মেনে চলে এবং আপনার নিষেধ ছাড়াই আপনার ঐশী ইচ্ছার মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞাগুলো মেনে চলে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে আপনার কাছেই দোয়া করা হয় এবং বিপর্যয়গুলোতে আপনিই আশ্রয়স্থল; কাউকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়—যদি না আপনি তাড়িয়ে দেন, এবং কাউকে সরিয়ে দেওয়া হয় না— যদি না আপনি সরিয়ে দেন।

এবং অবশ্যই হে আমার প্রভু, আমার ওপর এমন জিনিস অবতীর্ণ হয়েছে যার ভার আমাকে কষ্ট দিচ্ছে, এবং অবশ্যই আমার ওপর এসে পড়েছে এমন জিনিস যার বোঝা আমাকে চেপে ধরেছে। এবং আপনার মহাশক্তির মাধ্যমে তা আমার ওপর এনেছেন, এবং আপনার কর্তৃত্বের মাধ্যমে তা আমার কাছে পাঠিয়েছেন। তাই কেউ তা দূরে পাঠাতে পারবে না যা আপনি এনেছেন, এবং কেউ তা পরিবর্তন করতে পারবে না যা আপনি পাঠিয়েছেন, আর না তা কেউ খুলতে পারবে যা আপনি বন্ধ করে দিয়েছেন, এবং না তা কেউ বন্ধ করতে পারবে যা আপনি খুলে দিয়েছেন, এবং কেউ তা সহজ করতে পারবে না যা আপনি কঠিন করেছেন, এবং তার কোন সাহায্যকারী নেই যাকে আপনি পরিত্যাগ করেছেন। তাই, কল্যাণ বর্ষণ করুন মুহাম্মাদ ও তার পরিবারের ওপর, এবং আমার জন্য স্বস্তির দরজাকে খুলে দিন আপনার শক্তির মাধ্যমে, এবং আমার কাছ থেকে উদ্বেগের কর্তৃত্বকে চূর্ণ করে দিন আপনার ক্ষমতার মাধ্যমে, এবং আমি যে অভিযোগ করি তার প্রতি দান করুন আপনার সুন্দর দৃষ্টি, এবং আমি যা চাই সেগুলোতে আমাকে কর্মের মিষ্টতার স্বাদ গ্রহণ করান, এবং আপনার কাছ থেকে আমাকে দান করুন দয়া ও আনন্দদায়ক স্বস্তি, এবং আপনার কাছ থেকে আমার জন্য নির্ধারণ করুন দ্রুত বের হওয়ার ঐশী প্রেরণা! এবং আমাকে দুশ্চিন্তা দিয়ে কর্মব্যস্ত করবেন—যাতে তা আপনার ফরজগুলোর যত্ন নেওয়া এবং আপনার সুন্নাতগুলোর বাস্তবায়ন করা থেকে মনোযেগকে বিচ্ছিন্ন না করে।

এরপর অবশ্যই হে প্রভু, আমার ওপর যা এসেছে তা বহন করতে আমি অক্ষম হয়ে পড়েছি, এবং আমার ওপর যা ঘটেছে তার চিন্তার বােঝায় আমি পূর্ণ হয়ে গেছি, কিন্তু আপনার শক্তি রয়েছে তা দূর করার যার মাধ্যমে আমি আক্রান্ত হয়েছি এবং আপনি তা তাড়িয়ে দিতে সক্ষম যা আমাকে আঘাত করেছে; তাই আমার জন্য তা-ই করুন—যদিও আমি আপনার কাছ থেকে তা পাওয়ার যােগ্য নই, হে গৌরবময় আরশের মালিক।


সিপাহসালার ইনস্টিটিউশন | ফেব্রুয়ারি ২০২১এস এইচ হক

About the author

Syed Hossain ul Haque

সৈয়দ হোসাইন উল হক তরফ ও শ্রীহট্ট বিজয়ী মহান মনিষী সিপাহসালার সৈয়দ নাসির উদ্দিন (রহঃ)এর অধস্থন পুরুষ ‘নবী বংশ পরিচিতি ও মহান কোরবানি’ গ্রন্থের লেখক, হবিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সুরাবই সাহেব বাড়ীর সিংহপুরুষ সৈয়দ মোঃ ইসহাক আল হুসাইনী (রহঃ)সাহেবের মেঝ ছেলের ঘরের বড় নাতি।মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাজ্য গমন অতঃপর ইউনিভার্সিটি অফ সান্ডারল্যান্ড থেকে বিজনেস ম্যানেজমেন্টে অনার্স এবং কুইন মেরী ইউনিভার্সিটি থেকে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস এন্ড পলিটিক্সের উপর এম এস সি। তারপর ২০১৮ সালে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে ইসলামিক স্টাডিজ এন্ড হিস্টোরি’তে এম-ফিল। শিক্ষানবিশ কালে সেই সকল বিশ্ববিদ্যালয় সমুহের বিভিন্ন ছাত্র সংঘটনের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন।বর্তমানে লন্ডনে স্থায়ী ভাবে বসবাস করছেন পাশাপাশি লন্ডনের একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ম্যানেজারের দায়িত্বরত।তাছাড়াও যুক্তরাজ্যে একটি ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে ভিজিটর লেকচারার ও গবেষনা কেন্দ্রে অবিরাম বিভিন্ন বিষয়ে গবেষনা চালিয়ে যাচ্ছেন।আল-কোরআন ও হাদীসের আলোকে “যবহে আজিম এবং জিকিরে শাহাদাত”শীর্ষক গ্রন্থখানা তার দীর্ঘ গবেষনা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল।

মতামত দিন