লাইলাতুল কদর (আরবি: لیلة القدر‎‎) এর অর্থ অতিশয় সম্মানিত ও মহিমান্বিত রাত বা পবিত্র রজনী। আরবি ভাষায় ‘লাইলাতুল’ অর্থ হলো রাত্রি বা রজনী এবং ‘কদর’ শব্দের অর্থ সম্মান, মর্যাদা, মহাসম্মান। এ ছাড়া এর অন্য অর্থ হলো—ভাগ্য, পরিমাণ ও তাকদির নির্ধারণ করা।১৯শে রমজানের রাত্রি, লাইলাতুল ক্বদরের সূচনার রাত্রি, লাইলাতুল ক্বদর বছরে একবার আসে; এই রাতের ফযিলত অনেক বেশী; এই রাতে কৃত আমল হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম; এই রাতে মানুষের ভাগ্য লিপিবদ্ধ করা হয়; এই রাতে রূহ এবং ফেরেশতারা আল্লাহর নির্দেশে ইমাম মাহদী আল মন্তাজার (আ.) এর সমীপে উপস্থিতির লক্ষ্যে দুনিয়ার বুকে অবতরণ করে এবং মানুষের ভাগ্যলিপিকে তাঁর সম্মুখে উপস্থাপন করে। লাইলাতুল ক্বদরের আমল দুইভাগে বিভক্ত: সাধারণ আমলসমূহ যা তিন রাত্রিতে সম্পাদন করতে হবে এবং আরেকটি আমল যা বিশেষ দিনের সাথে সম্পৃক্ত।

সাধারণ আমলসমূহ (১৯, ২১ এবং ২৩ রমজান রাতে যা সম্পাদন করতে হবে)ঃ

. গোসল করা। আল্লামা মাজলিসি (রহ.) লাইলাতুল ক্বদরের উদ্দেশ্যে সূর্যাস্তের নিকটবর্তি সময়ে গোসল করা উত্তম যেন এই গোসল দ্বারা মাগরিব ও এশার নামাজ পড়া যায়।

. লাইলাতুল কদরের বিশেষ দুই রাকাত নামাজ পড়া।

নিয়তঃ লাইলাতুল ক্বদরের দুই রাকাত নামাজ পড়ছি কুরবাতান ইলাল্লাহ।

নামাজটি পড়ার পদ্ধতিঃ প্রথম রাকাতে সুরা ফাতিহার পর ৭ বার সুরা ইখলাস পাঠ করতে হবে। দ্বিতীয় রাকাতটিও অনুরূপ পদ্ধতিতে পড়তে হবে।

৩. নামাজান্তে ৭০ বার “أَسْتَغْفِرُ اللّه وَ أَتوبُ الَيْهِ”(আসতাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাই) পাঠ করতে হবে। রাসুল (সা.) হতে রেওয়ায়েতে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেনঃ এই আমলকারী তার স্থান হতে ওঠার পূর্বেই আল্লাহ তাকে এবং তার পিতা-মাতাকে ক্ষমা করে দিবেন।

৪. নিজের গুনাহসমূহকে স্মরণ করে ১০০ বার  أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ رَبِّي وَ أَتُوبُ إِلَيْه‏ (আসতাগফিরুল্লাহা রাব্বি ওয়া আতুবু ইলাই) পাঠ করতে হবে।

৫. পবিত্র কুরআন শরীফ খুলে নিজের সামনে রেখে বলতে হবেঃ

اَللَّهُمَّ اِنّي اَسئَلُك بِكِتَابِكَ المُنْزَلِ وَ مَا فِيْهِ اسْمُكَ الاَكْبَرُ و اَسمَاؤُكَ الحُسنَي وَ مَا يُخَافُ وَ يُرجَي اَن تَجعَلَنِي مِن عُتَقائِكَ مِنَ النَّارِ.

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিকিবিকাল মুনযাল ওয়া মা ফিহিস মুকাল আকবার ওয়া আসমাউকাল হুসনা ওয়ামা ইউখাফু ওয়া ইউরজা আন তাজআলানী মিন উতাক্বায়িকা মিনান নার।

অর্থঃ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আপনার অবতীর্ণ করা কিতাবের মাধ্যমে বিনীত অনুরোধ করছি এবং এর ভেতরে যা রয়েছে এবং এর ভেতরে আপনার সবচেয়ে বড় নামের মাধ্যমে এবং আপনার সুন্দর নামগুলোর মাধ্যমে এবং যে সকল বিষয়ে ভয় করা উচিত এবং যা আশা করা হয়, আপনি যেন আমাকে আগুন থেকে রক্ষাপ্রাপ্তদের অন্তর্ভূক্ত করেন।

তারপর মনোবাসনা পূরণের উদ্দেশ্যে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে।

. কোরআন শরীফ মাথায় রেখে বলতে হবেঃ

اَللّهمَّ بِحَقِّ هذاالقُرآنِ وَ بِحَقِّ مَن اَرسَلتَهُ بِه وَ بِحَقِّ كُلِّ مُومِنٍ مَدَحْتَهُ  فِيْهِ وَ بِحَقِّكَ عَلَيْهِمْ فَلاَ اَحَدَ اَعرَفُ بِحَقِّكَ مِنْكَ.

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা বি হাক্বি হাযাল কুরআনি ওয়া বিহাক্কি মান আরসালতাহু বিহি ওয়া বিহাক্কি কুল্লি মু’মিনিন মাদাহতাহু ফিহি ওয়াবি হাক্কিকা আলাইহিম ফালা আহাদা আরাফু বিহাক্কিকা মিনকা।

অর্থঃ হে আল্লাহ! এই কোরআনের অধিকারের মাধ্যমে বিনীত নিবেদন করি এবং তার অধিকারের মাধ্যমে যাকে দিয়ে কোরআন পাঠিয়েছেন এবং ঐ সকল মুমিনদের অধিকারের মাধ্যমে যাদের প্রশংসা এর ভেতরে করেছেন এবং তাদের ওপরে আপনার অধিকারের মাধ্যমে এমন কেউ নেই যে, আপনার অধিকারের বিষয়ে আপনার চেয়ে বেশি জানে।

তারপর বলতে হবেঃ-

  • ১০ বার : ((بِكَ يَا اللَّهُ))- বিকা ইয়া আল্লাহু
  • ১০ বার : ((بِمُحَمَّدٍ))- বিমুহাম্মাদিন
  • ১০ বার : ((بِعَليٍّ))- বিআলী য়্যিন
  • ১০ বার : ((بِفاطِمَةَ))- বিফাতিমাহ
  • ১০ বার : ((بِالحَسَنِ))- বিল হাসানী
  • ১০ বার : ((بِالحُسَينِ))- বিল হুসাইনী
  • ১০ বার : ((بِعلي بنِ الحُسين))- বিআলী ইবনিল হুসাইন
  • ১০ বার : ((بِمُحَمَّدِ بنِ عَلِى))- বিমুহাম্মাদ ইবনি আলী
  • ১০ বার : ((بِجَعفَر بنِ مُحَمَّدٍ))- বিজাফার ইবনি মুহাম্মাদ
  • ১০ বার : ((بِموُسي بنِ جَعفَرٍ ))- বিমুসা ইবনি জাফার
  • ১০ বার : ((بِعلي بنِ مُوسي))- বিআলী ইবনি মুসা
  • ১০ বার : ((بِمُحَمَّدِ بنِ عَلَى))- বিমুহাম্মাদ ইবনি আলী
  • ১০ বার : ((بِعَلَى بنِ مُحَمَّدٍ))- বিআলী ইবনি মুহাম্মাদ
  • ১০ বার : ((بِالحَسَنِ بنِ عَلَى))- বিল হাসান ইবনি আলী
  • ১০ বার : ((بِالحُجَّةِ))- বিল হুজ্জাহ

তারপর দোয়া করতে হবে।

৭. ইমাম হুসাইন (আ.)এর যিয়ারত পাঠ করা। রেওয়ায়েতে বর্ণিত হয়েছে যে, শবে ক্বদরে সপ্তম আসমান থেকে  আহবান জানানো হয় যে, যারা ইমাম হুসাইন (আ.)’র কবর যিয়ারতের জন্য এসেছে মহান আল্লাহ ঐ সকল ব্যক্তিদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন ।

৮. রাত্রী জাগরণ করা। রেওয়ায়েতে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি লাইলাতুল ক্বদরে জাগ্রত থাকে, তার গুনাহসমূহকে ক্ষমা করে দেয়া হয়; যদিও তার গুনাহ আকাশের নক্ষত্রের সমপরিমাণ এবং পাহাড়সমূহের ন্যায় ভারী হয়।

৯. লাইলাতুল ক্বদরে ১০০ রাকাত নামাজ পড়ার বিশেষ ফজিলত রয়েছে।ইমাম জাফর সাদিক্ব (আ.) আবু বাসিরকে ১০০ রাকাত নামাজ পড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আবু বাসির ইমাম (আ.)কে জিজ্ঞাসা করেনঃ আমি যদি ১০০ রাকাত নামাজের সবগুলো উঠাবসা করতে না পারি তাহলে আমি কি করব? ইমাম (আ.) বলেনঃ সেক্ষেত্রে তুমি তা বসে পড়তে পার। আবু বাসির জিজ্ঞাসা করলেনঃ যদি আমি বসেও না পড়তে পারি? ইমাম (আ.) বললেনঃ তখন তুমি বিছানাই শুয়ে থেকে পড়তে পার।

নামাজটি পড়ার পদ্ধতিঃ প্রতি রাকাতে সুরা ফাতিহার পর ১০ বার সুরা ইখলাস পাঠ করতে হবে। দ্বিতীয় রাকাতটিও অনুরূপ পদ্ধতিতে পড়তে হবে। অবশিষ্ট নামাজগুলো দুই দুই রাকাত করে পড়তে হবে।

১০. এই দোয়াটি পাঠ করাঃ শেখ কাফআমি (রহ.) এই দোয়াটি ইমাম জয়নুল আবেদীন (আ.) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি এই দোয়াটি লাইলাতুল ক্বদরের রাতগুলোতে কিয়াম, রুকু ও সেজদারত অবস্থায় পাঠ করতেন।

اللَّهُمَّ إِنِّي أَمْسَيْتُ لَكَ عَبْداً دَاخِراً لا أَمْلِكُ لِنَفْسِي نَفْعاً وَ لا ضَرّاً وَ لا أَصْرِفُ عَنْهَا سُوءاً أَشْهَدُ بِذَلِكَ عَلَى نَفْسِي وَ أَعْتَرِفُ لَكَ بِضَعْفِ قُوَّتِي وَ قِلَّةِ حِيلَتِي فَصَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ وَ أَنْجِزْ لِي مَا وَعَدْتَنِي وَ جَمِيعَ الْمُؤْمِنِينَ وَ الْمُؤْمِنَاتِ مِنَ الْمَغْفِرَةِ فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ وَ أَتْمِمْ عَلَيَّ مَا آتَيْتَنِي فَإِنِّي عَبْدُكَ الْمِسْكِينُ الْمُسْتَكِينُ الضَّعِيفُ الْفَقِيرُ الْمَهِينُ اللَّهُمَّ لا تَجْعَلْنِي نَاسِياً لِذِكْرِكَ فِيمَا أَوْلَيْتَنِي وَ لا لِإِحْسَانِكَ فِيمَا أَعْطَيْتَنِي وَ لا آيِساً مِنْ إِجَابَتِكَ وَ إِنْ أَبْطَأَتْ عَنِّي فِي سَرَّاءَ  أَوْ ضَرَّاءَ أَوْ شِدَّةٍ أَوْ رَخَاءٍ أَوْ عَافِيَةٍ أَوْ بَلاءٍ أَوْ بُؤْسٍ أَوْ نَعْمَاءَ إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاءِ.

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ইন্নি আমসাইতু লাকা আবদান দাখিরান লা আমলিকু লিনাফসি নাফআউ ওয়ালা যাররাউ ওয়ালা আসরিফু আনহা সুআন আশহাদু বিযালিকা আলা নাফসি ওয়া আতারিফু লাকা বিযাঅফি কুউওয়াতি ওয়া কিল্লাতি হিলাতি ফাসাল্লি আলা মুহাম্মাদিউ ওয়া আলি মুহাম্মাদ ওয়া আনজিযলি মা ওয়াদতানি ওয়া জামিআল মুমিনিনা ওয়াল মুমিনাতি মিনাল মাগফিরাতি ফি হাযিহিল লাইলাতি ওয়া আতমিম আলাইয়া মা আতাইতানি ফা ইন্নি আব্দুকাল মিসকিনুল মুসতাকিনুয যায়িফুল ফাক্বিরুল মাহিন আল্লাহুম্মা লা তাজআলনি নাসিয়াঁল লিযিকরিকা ফিমা আও লাইতানি ওয়ালা লি ইহসানিকা ফিমা আতাইতানী ওয়া লা ওয়ালা আয়িসাম মিন ইজাবাতিকা ওয়া ইন আবতাআত আন্নি ফি সাররাআ আউ যাররাআ আউ শিদ্দাতিন আউ রাখাইন আউ আফিয়াতিন আউ বালাইন আউ বুঅসিন আউ নাঅমাআ ইন্নাকা সামীউদ দুয়া।

অর্থঃ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আপনার একজন হীন দাস রূপে সন্ধ্যায় উপনীত হয়েছি, আমি আমার আত্মার জন্য লাভ ও ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ করি না এবং এর কাছ থেকে খারাপকে ‍দূর করে দিতে পারি না আমি আমার আত্মার ওপর এই বিষয়ে সাক্ষ্য দিচ্ছি আর আমি আমার শক্তির দূর্বলতা এবং স্বল্প উপায়ের কথা আপনাকে জানাচ্ছি তাই কল্যাণ বর্ষণ করুন মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারের ওপর, এবং যা আমার কাছে আপনি অঙ্গীকার করেছেন তা পূরণ করুন এবং সব মুমিন পুরুষ ও নারীর জন্য এই রাতেই আপনার ক্ষমা এবং যা আপনি আমাকে দান করেছেন তা পূর্ণ করে দিন কারণ আমি আপনার নিঃস্ব ও বিনীত, দূর্বল, দরিদ্র ও নগণ্য একজন দাস। হে আল্লাহ! আপনার স্মরণকে যেন আমি ভুলে না যায় যে বিষয়ে আপনি আমাকে যোগ্য করেছন এবং আমাকে উদাসীন হতে দিবেন না আপনার উপকার স্মরণের বিষয়ে যা আপনিই আমাকে দান করেছেন এবং আমাকে আপনার সাড়া দেওয়ার বিষয়ে নিরাশ হতে দিবেন না যদি আপনি তা আমার জন্য স্থগিতও করে থাকেন সমৃদ্ধি অথবা ক্ষতির সময়ে, কঠিন বা সহজ সময়ে, সুস্থতায় বা দূর্যোগে, দূর্দশায় বা স্বাচ্ছন্দে নিশ্চয় আপনি দোয়াকে শোনেন।

১১. আল্লামা মাজলিসি (রহ.) বলেছেনঃ এই রাত্রির উত্তম আমল হচ্ছে ইস্তিগফার পাঠ করা, নিজের পিতামাতা, ভাই, মৃতব্যাক্তি ও নিজের জন্য দোয়া করা এছাড়া যতটুকু সম্ভব যিকির, দুরুদ পাঠ করা।

১২. দোয়া জওশান কাবীর পাঠ করা। রেওয়ায়েতে বর্ণিত হয়েছে যে, এই তিন রাতে দোয়া-এ জওশান কাবীর পাঠ করা উত্তম। রেওয়ায়েতে বর্ণিত হয়েছে যে, একজন ব্যাক্তি রাসুল (সা.)কে জিজ্ঞাসা করে লাইলাতুল ক্বদরে আল্লাহর কাছে আমাদের কি চাওয়া উচিত? তিনি বলেনঃ লাইলাতুল ক্বদরে চাওয়া উচিত হচ্ছে আল্লাহ যেন আমাদের প্রতি সহায় হন।

১৯শে রমজান রাতের (১৮ই রমজান দিবাগত রাত) বিশেষ আমলসমূহঃ

১. ১০০ বার পাঠ করতে হবেঃ (اَسْتَغْفِرُاللَّهَ رَبّي‏ وَ اَتُوبُ إلَيهِ)।

২. ১০০ বার পাঠ করতে হবেঃ (اَللَّهُمَّ الْعَنْ قَتَلَةَ اَميرِ الْمُؤْمِنينَ)।

৩.ইমাম আলী (আ.)এর যিয়ারত পাঠ করা।

৪. এ দোয়াটি পাঠ করতে হবে। দোয়াটি নিন্মরূপঃ

اللَّهُمَّ اجْعَلْ فِيمَا تَقْضِي وَ تُقَدِّرُ مِنَ الْأَمْرِ الْمَحْتُومِ وَ فِيمَا تَفْرُقُ مِنَ الْأَمْرِ الْحَكِيمِ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ وَ فِي الْقَضَاءِ الَّذِي لا يُرَدُّ وَ لا يُبَدَّلُ أَنْ تَكْتُبَنِي مِنْ حُجَّاجِ بَيْتِكَ الْحَرَامِ الْمَبْرُورِ حَجُّهُمْ الْمَشْكُورِ سَعْيُهُمْ الْمَغْفُورِ ذُنُوبُهُمْ الْمُكَفَّرِ عَنْهُمْ سَيِّئَاتُهُمْ وَ اجْعَلْ فِيمَا تَقْضِي وَ تُقَدِّرُ أَنْ تُطِيلَ عُمْرِي وَ تُوَسِّعَ عَلَيَّ فِي رِزْقِي وَ تَفْعَلَ بِي كَذَا وَ كَذَا.

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মাজ আল ফিমা তাক্বযি ওয়া তুক্বাদ্দিরু মিনাল আমরিল মাহতুমি ওয়া ফিমা তাফরুক্বু মিনাল আমরিল হাকিমি ফি লাইলাতিল ক্বাদরি ওয়া ফিল কাযায়িল্লাযি লা ইউরাদ্দু ওয়া লা তুবাদ্দালু আন তাকতুবানি মিন হুজ্জাজি বাইতিকাল হারামিল মাবরুরি হাজ্জুহুমুল মাশকুরি সাঅ ইউহুমুল মাগফুরি যুনুবুহুমুল মুকাফফারি আনহুম সাইয়িআতুহুম ওয়াজ আল ফিমা তাক্বযি ওয়া তুক্বাদ্দিরু আন তুতিলা উমরি ওয়া ওয়াসসিয়া আলাইয়া ফি রিযক্বি ওয়া তাফআলা বি কাযা কাযা।

(كَذَا وَكَذَا) এই স্থানে নিজের মনোবাসনা পূরণের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে।

অর্থঃ হে আল্লাহ আপনি অবধারিত বিষয়ের যা কিছু নির্ধারণ ও ফয়সালা করেন এবং ক্বদরের রাতে প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়ে যা কিছু আপনি আলাদা করেন এবং ভাগ্যর ঐ সকল বিষয় যেগুলো ফিরিয়ে নেওয়া হয় না এবং পরিবর্তিত হয় না যেন আপনি বাইতুল হারামে এবং হজ্বকারীদের মধ্যে আমার নামকে লিখে দেন যাদের হজ্ব আপনার কাছে গৃহিত হয়েছে যাদের সাঈ কৃতজ্ঞতা হিসেবে গৃহীত হয়েছে যাদের গুনাহগুলো ক্ষমা করা হয়েছে যাদের অপকর্মগুলোর প্রায়শ্চিত্ত হয়েছে এবং যখন আপনি সিদ্ধান্ত নেন ও মাত্রা নির্ধারণ করেন আপনি আমার জীবনকে দৃর্ঘায়িত করে দেন এবং আমার রিযিককে প্রশস্ত করে দেন।

২১শে রমজান (২২শে রমজান দিবাগত রাত) রাতের বিশেষ আমলসমূহঃ

২১শে রমজানের রাতটি ১৯শে রমজানের রাতের তুলনায় আরো বেশী মহিমান্বিত। এই রাতে গোসল করা, রাত্রি জাগরণ করা, যিয়ারত পাঠ করা (ইমাম আলী (আ.)এর যিয়ারত পাঠ ), লাইলাতুল ক্বদরের বিশেষ নামাজ পড়া, কোরআনের আমল সম্পাদন করা, ১০০ রাকাত নামাজ পড়া এবং জওশান কবীর পাঠ করা উত্তম। ২১শে রমজানের ন্যায় ২৩শে রমজানেও উল্লেখিত আমলগুলো সম্পাদন করতে হবে। কেননা এই রাত দুটিকে (২১ ও ২৩শে রমজান) লাইলাতুল ক্বদরের হিসেবে বেশী গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিভিন্ন রেওয়ায়েতে বর্ণিত হয়েছে যে, মহীমান্বীত আয়েম্মাহ আঃগণকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে এ দুই রাত্রির মধ্যে কোন রাতটি লাইলাতুল ক্বদর? তাঁরা লাইলাতুল ক্বদরকে নিদৃষ্ট না করে বলেছেনঃ এই দুই রাতে আমল সম্পাদন করা উত্তম। শেখ সাদুক্ব (রহ.) বলেছেনঃ ইমামীয়া আলেমগণ একটি সমাবেশে ইমামিয়া মাযহাব সম্পর্কে আলোচনার সময় বলেছেন: এই দুই রাত্রিতে জাগ্রত অবস্থায় জ্ঞানগর্ভ বিষয় নিয়ে আলোচনা করাও উত্তম।

🔘 শেখ মুহম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-কুলায়নী (রহ.) কর্তৃক সংকলিত হাদিসগ্রন্থ  ‘আল-কাফীতে’ ইমাম জাফর সাদিক্ব (আ.) হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেনঃ রমজান মাসের শেষ দশ রাত্রিতে নিন্মোক্ত দোয়াটি পাঠ করা উত্তম।

أَعُوذُ بِجَلالِ وَجْهِكَ الْكَرِيمِ أَنْ يَنْقَضِيَ عَنِّي شَهْرُ رَمَضَانَ أَوْ يَطْلُعَ الْفَجْرُ مِنْ لَيْلَتِي هَذِهِ وَ لَكَ قِبَلِي ذَنْبٌ أَوْ تَبِعَةٌ تُعَذِّبُنِي عَلَيْهِ

উচ্চারণঃ আউযু বিজালালি ওয়াজহিকাল কারিম আন ইয়ানক্বাযিয়া আন্নি শাহরু রামাযানা আউ ইয়াতলুআল ফাজরু মিন লাইলাতি হাযিহি ওয়া লাকা ক্বিবালি যাম্বু আউ তাবিআতুন তুআযযিবুনি আলাইহি।

অর্থঃ আমি আপনার সম্মানিত চেহারার মহিমার কাছে আশ্রয় চাই আমার কাছ থেকে রমজান মাস শেষ হওয়া থেকে অথবা এই রাতের সকাল উদয় হওয়া থেকে অথচ আপনার কাছে আমার পক্ষ থেকে কোন দায়ভার রয়েছে যে কারণে আপনি আমাকে শাস্তি দিবেন।

🔘 ‘কাফআমি বালাদুল আমীন’ নামক গ্রন্থে এই দোয়ার ব্যাখ্যা দিয়ে ইমাম জাফর সাদিক্ব (আ.) হতে বর্ণিত একটি রেওয়ায়েত উল্লেখ করেছেন যে, রমজান মাসের শেষ দশ রাত্রিতে মাগরিব ও ইশার ওয়াজিব ও নফল নামাজের পরে এই দোয়াটি পাঠ করবে।তিনি বলেনঃ কেউ যদি এ দোয়াটি পাঠ করে তাহলে পূর্বের রমজান মাসে সে যদি কোন গুনাহ করে থাকে তাহলে তা ক্ষমা করে দেয়া হবে এবং তাকে এই মাসের অবশিষ্ট দিনগুলোতে গুনাহ থেকে বিরত রাখা হবে।

اللَّهُمَّ أَدِّ عَنَّا حَقَّ مَا مَضَى مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ وَ اغْفِرْ لَنَا تَقْصِيرَنَا فِيهِ وَ تَسَلَّمْهُ مِنَّا مَقْبُولا وَ لا تُؤَاخِذْنَا بِإِسْرَافِنَا عَلَى أَنْفُسِنَا وَ اجْعَلْنَا مِنَ الْمَرْحُومِينَ وَ لا تَجْعَلْنَا مِنَ الْمَحْرُومِينَ

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা আদ্দি আন্না হাক্কা মা মাযা মিন শাহরি রামাযানা ওয়াগ্বফিরলানা তাকসিরানা ফিহি ওয়া তাসাল্লামহু মিন্না মাক্ববুলা ওয়া লা তুআখিযনা বিইসরাফিনা আলা আনফুসিনা ওয়াজআলনা মিনাল মারহুমিনা ওয়া লা তাজআলনা মিনাল মাহরুমিন।

অর্থঃ হে আল্লাহ রমজান মাসের চলে যাওয়া অধিকারগুলো আমাদের পক্ষ থেকে সম্পন্ন করে দিন, এবং তাতে আমাদের ঘাটতি ক্ষমা করে দিন এবং আমাদের পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করে নিন এবং আমাদের নিজেদের ওপর বাড়াবাড়ির কারণে আমাদেরকে ধরবেন না এবং আমাদেরকে অনুগ্রহপ্রাপ্তদের মাঝে অন্তর্ভূক্ত করুন এবং আমাদেরকে বঞ্চিতদের মাঝে অন্তর্ভূক্ত করবেন না।

🔘সৈয়দ ইবনে তাউস (রহ.) তাঁর ইক্ববালুল আমাল নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে আবি উমাইর (রহ.) মুরাযিম হতে বর্ণনা করেছে যে, তিনি বলেছেনঃ ইমাম জাফর সাদিক্ব (আ.) রমজান মাসের শেষ দশ রাত্রিতে এ দোয়াটি পাঠ করতেন। দোয়াটি নিন্মরূপঃ

اللَّهُمَّ إِنَّكَ قُلْتَ فِي كِتَابِكَ الْمُنْزَلِ شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيْهِ الْقُرْءَانُ هُدًى لِلنَّاسِ وَ بَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَى وَ الْفُرْقَانِ فَعَظَّمْتَ حُرْمَةَ شَهْرِ رَمَضَانَ بِمَا أَنْزَلْتَ فِيهِ مِنَ الْقُرْآنِ وَ خَصَصْتَهُ بِلَيْلَةِ الْقَدْرِ وَ جَعَلْتَهَا خَيْراً مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ اللَّهُمَّ وَ هَذِهِ أَيَّامُ شَهْرِ رَمَضَانَ قَدِ انْقَضَتْ وَ لَيَالِيهِ قَدْ تَصَرَّمَتْ وَ قَدْ صِرْتُ يَا إِلَهِي مِنْهُ إِلَى مَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي وَ أَحْصَى لِعَدَدِهِ مِنَ الْخَلْقِ أَجْمَعِينَ فَأَسْأَلُكَ بِمَا سَأَلَكَ بِهِ مَلائِكَتُكَ الْمُقَرَّبُونَ وَ أَنْبِيَاؤُكَ الْمُرْسَلُونَ. وَ عِبَادُكَ الصَّالِحُونَ أَنْ تُصَلِّيَ عَلَى مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ وَ أَنْ تَفُكَّ رَقَبَتِي مِنَ النَّارِ وَ تُدْخِلَنِي الْجَنَّةَ بِرَحْمَتِكَ وَ أَنْ تَتَفَضَّلَ عَلَيَّ بِعَفْوِكَ وَ كَرَمِكَ وَ تَتَقَبَّلَ تَقَرُّبِي وَ تَسْتَجِيبَ دُعَائِي وَ تَمُنَّ عَلَيَّ [إِلَيَ ] بِالْأَمْنِ يَوْمَ الْخَوْفِ مِنْ كُلِّ هَوْلٍ أَعْدَدْتَهُ لِيَوْمِ الْقِيَامَةِ إِلَهِي وَ أَعُوذُ بِوَجْهِكَ الْكَرِيمِ وَ بِجَلالِكَ الْعَظِيمِ أَنْ يَنْقَضِيَ أَيَّامُ شَهْرِ رَمَضَانَ وَ لَيَالِيْهِ وَ لَكَ قِبَلِي تَبِعَةٌ أَوْ ذَنْبٌ تُؤَاخِذُنِي بِهِ أَوْ خَطِيْئَةٌ تُرِيْدُ أَنْ تَقْتَصَّهَا مِنِّي لَمْ تَغْفِرْهَا لِي سَيِّدِي سَيِّدِي سَيِّدِي أَسْأَلُكَ يَا لا إِلَهَ إِلا أَنْتَ إِذْ لا إِلَهَ إِلا أَنْتَ، إِنْ كُنْتَ رَضِيْتَ عَنِّي فِي هَذَا الشَّهْرِ فَازْدَدْ عَنِّي رِضًا وَ إِنْ لَمْ تَكُنْ رَضِيتَ عَنِّي فَمِنَ الْآنَ فَارْضَ عَنِّي يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِيْنَ يَا اللَّهُ يَا أَحَدُ يَا صَمَدُ يَا مَنْ لَمْ يَلِدْ وَ لَمْ يُولَدْ وَ لَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوا أَحَدٌ

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ইন্নাকা কুলতা ফি কিতাবিকাল মুনযালি শাহরু রামাযানাল্লাযি উনযিলা ফিহিল কুরআনু হুদাল লিননাসি ওয়া বাইয়্যিনাতিম মিনাল হুদা ওয়াল ফুরকানি ফা আযযামতা হুরমাতা শাহরি রামাযানা বিমা আনযালতা ফিহি মিনাল কুরআনি ওয়া খাসাসতাহু বিলাইলাতিল ক্বাদরি ওয়া জাআলতাহা খায়রাম মিন আলফি শাহরি। আল্লাহুম্মা ওয়া হাযিহি আইয়্যামু শাহরি রামাযানা ক্বাদিন কাযাত ওয়া লাইয়ালিহি ক্বাদ তাসাররামাত ওয়া ক্বাদ সীরতু ইয়া ইলাহী মিনহু ইলা মা আনতা আলামু বিহি মিন্নি ওয়া আহসা লিআদাদিহি মিনাল খালক্বি আজমাইন ফা আসআলুকা বিমা সাআলাকা বিহি মালায়িকাতুকাল মুক্বাররাবুনা ওয়া আম্বিয়াউকাল মুরসালুন ওয়া ইবাদুকাস সালিহুন আন তুসাল্লিয়া আলা মুহাম্মাদিউ ওয়া আলি মুহাম্মাদ ওয়া আন তাফুক্কা রাক্বাবাতি মিনান নারি ওয়া তুদখিলনিল জান্নাতা বিরাহমাতিকা ওয়া আন তাতাফাদদালা আলাইয়া বি আফউয়িকা ওয়া কারামিকা ওয়া তাক্বাব্বালা তাক্বাররুবি ওয়া তাসতাজিবা দুআয়ি ওয়া তামুন্না আলাইয়া বিল আমনি ইয়াউমাল খাউফি মিন কুল্লি হাওলিন আদাদতাহু লি ইয়াউমিল কিয়ামাতি ইলাহী ওয়া আউযু বি ওয়াজহিকাল কারিম ওয়া বিজালালিকাল আযিম আই ইয়ানকাযিআ আইয়ামু শাহরি রামাযানা ওয়া লাইয়ালিহি ওয়া লাকা ক্বিবালি তাবিআতুন আউ যাম্বুন তুআখিযুনি বিহি আউ খাতিয়াতু তুরিদু আন তাক্বতাসসাহা মিন্নি লাম তাগ্বফিরহা লি সাইয়্যিদি সাইয়্যিদি সাইয়্যিদি আসআলুকা ইয়া লা ইলাহা ইল্লা আনতা ইয লা ইলাহা ইল্লা আনতা ইন তুকনতা রাযিতা আন্নি ফি হাযাশ শাহরি ফাযদাদ আন্নি রিযাউ ওয়া ইন লাম তাকুন রাযিতা আন্নি ফামিনাল আনা ফারযা আন্নি ইয়া আরহামার রাহিমিন ইয়া আল্লাহু ইয়া আহাদু ইয়া সামাদু ইয়া মান লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ ওয়ালাম ইয়া কুঁল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ।

অর্থঃ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আপনি আপনার অবতীর্ণ কিতাবে বলেছেন যে, এই হলো রমজান মাস যার ভেতরে আপনি অবতীর্ণ করেছেন কোরআন যা মানব জাতীর জন্য পথনির্দেশ, হেদায়াতের প্রকাশ্য প্রমাণাদি এবং মানদন্ড স্বরূপ অতএব রমজান মাসের পবিত্রতাকে বড় করেছেন একে কোরআন অবতীর্ণ করার মাধ্যমে এবং ক্বদরের রাত দিয়ে একে বিশেষায়িত করার মাধ্যমে এবং এটিকে হাজার মাসের চেয়ে উত্তম করেছন, হে আল্লাহ! এগুলো হচ্ছে রমজান মাসের দিনগুলো যা শেষ হয়েছে এবং এর রাতগুলো যা চলে গেছে এবং হে আমার ইলাহ আমি সেদিকে ফিরেছি যা আপনি আমার চেয়ে বেশি জানেন এবং সব সৃষ্টির চেয়ে বেশি হিসাব রাখেন তাই আমি তার মাধ্যমে আপনার কাছে চাই যার মাধ্যমে আপনার নিকটবর্তি ফেরেশতাগণ চেয়েছিল এবং আপনার প্রেরিত নবীগণ এবং সৎ কর্মশীল বান্দাগণ যেন আপনি কল্যাণ বর্ষণ করেন মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারের ওপর এবং যেন আমার ঘাড়কে আগুন থেকে মুক্ত করেন এবং আমাকে আপনার দয়ার মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ করান এবং যেন আপনার দয়া ও বদান্যতা দিয়ে অনুগ্রহ করেন এবং যেন আমার নৈকট্যকে কবুল করেন ও আমার দোয়ায় সাড়া দেন এবং যেন ভয়ের দিনে সব ভয় থেকে নিরাপত্তা দিয়ে আমাকে দয়া করেন যা আপনি কেয়ামতের দিনের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন। হে আমার খোদা আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই আপনার সম্মানিত চেহারার মাধ্যমে এবং বিরাট মহত্বের মাধ্যমে যেন রমজান মাসের দিনগুলো ও রাতগুলো শেষ হয়ে যায় অথচ আপনার কাছে আমার পক্ষ থেকে এক দায়ভার ও অপরাধ রয়েছে যে কারণে আপনি আমাকে ধরবেন অথবা তা ক্ষমা না করে আমার ওপর প্রতিশোধ নিবেন আমার মালিক আমার মালিক আমার মালিক আমি আপনার কাছে চাই হে আপনি ছাড়া কোন খোদা নেই যখন আপনি ব্যাতিত কোন খোদা নেই যদি আপনি এই মাসে আমার প্রতি সন্তুষ্ট থাকেন তাহলে আমার সন্তুষ্টিকে বৃদ্ধি করে দিন আর যদি আমার প্রতি সন্তুষ্ট না থাকেন তাহলে এখন থেকে আমার প্রতি সন্তুষ্ট হোন হে মমতাময়দের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মমতাময় হে আল্লাহ হে অদ্বিতীয় হে অমুখাপেক্ষি হে যিনি জন্ম দেন নি এবং জন্মমগ্রহণ করেন নি এবং যার সমকক্ষ কেউ নেই।

يَا مُلَيِّنَ الْحَدِيدِ لِدَاوُدَ عَلَيْهِ أَلسَّلاَمُ  يَا كَاشِفَ الضُّرِّ وَ الْكُرَبِ الْعِظَامِ عَنْ أَيُّوبَ عَلَيْهِ أَلسَّلاَمُ  أَيْ مُفَرِّجَ هَمِّ يَعْقُوبَ عَلَيْهِ أَلسَّلاَمُ  أَيْ مُنَفِّسَ غَمِّ يُوسُفَ عَلَيْهِ أَلسَّلاَمُ  صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا أَنْتَ أَهْلُهُ أَنْ تُصَلِّيَ عَلَيْهِمْ أَجْمَعِينَ وَ افْعَلْ بِي مَا أَنْتَ أَهْلُهُ وَ لا تَفْعَلْ بِي مَا أَنَا أَهْلُهُ

উচ্চারণঃ ইয়া মুলাইয়ানাল হাদীদি লি দাউদা আলাইহিস সালামু ইয়া কাশিফায যুররি ওয়াল কুরাবিল ইযামি আন আইয়ুবা আলাইহিস সালামু আই মুফাররিজা হাম্মি ইয়াক্বুবা আলাইহিস সালামু আই মুনাফফিসা গ্বাম্মি ইউসুফা আলাইহিস সালামু সাল্লি আলা মুহাম্মাদিউ ওয়া আলি মুহাম্মাদ কামা আনতা আহলুহু আন তুসাল্লিয়া আলাইহিম আজমাইনা ওয়াফআল বি মা আনতা আহলুহু ওয়া লা তাফআল বি মা আনা আহলুহু।

অর্থঃ হে যিনি দাউদের জন্য লোহাকে অনুগত করে দিয়েছেন তার ওপরে শান্তি বর্ষিত হোক হে যিনি আইয়ুবের কাছ থেকে দূর্দশা ও বিরাট দুঃখ কষ্টগুলোকে অপসারণ করে দিয়েছেন তার ওপরে শান্তি বর্ষিত হোক হে যিনি ইয়াকুবকে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিয়েছেন তার ওপরে শান্তি বর্ষিত হোক হে যিনি ইউনুসের মর্মবেদনা মুছে দিয়েছেলেন তার ওপরে শান্তি বর্ষিত হোক কল্যাণ বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারের ওপর যতটুকু করা আপনার জন্য মানায় যেন তাদের সবার ওপর কল্যাণ বর্ষণ করেন।

যে দোয়াগুলো হাদিসগ্রন্থ  আল-কাফীতে  সনদ সহ এবং মোক্বনেআ ও মেসবাহ নামক গ্রন্থে মুরসাল হিসাবে বর্ণিত হয়েছে তন্মধ্যে ২১শে রমজানের দোয়া একটি। দোয়াটি নিন্মরূপঃ

يَا مُولِجَ اللَّيْلِ فِي النَّهَارِ وَ مُولِجَ النَّهَارِ فِي اللَّيْلِ وَ مُخْرِجَ الْحَيِّ مِنَ الْمَيِّتِ وَ مُخْرِجَ الْمَيِّتِ مِنَ الْحَيِّ وَ رَازِقَ مَنْ يَشاءُ بِغَيْرِ حِسابٍ يَا اللَّهُ يَا رَحْمَانُ يَا رَحِيمُ يَا اللَّهُ يَا اللَّهُ يَا اللَّهُ لَكَ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى وَ الْأَمْثَالُ الْعُلْيَا وَ الْكِبْرِيَاءُ وَ الْآلَاءُ أَسْأَلُكَ أَنْ تُصَلِّيَ عَلَى مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ وَ أَنْ تَجْعَلَ اسْمِي فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ فِي السُّعَدَاءِ وَ رُوحِي مَعَ الشُّهَدَاءِ وَ إِحْسَانِي فِي عِلِّيِّينَ وَ إِسَاءَتِي مَغْفُورَةً وَ أَنْ تَهَبَ لِي يَقِيناً تُبَاشِرُ بِهِ قَلْبِي وَ إِيمَاناً يُذْهِبُ الشَّكَّ عَنِّي وَ تُرْضِيَنِي بِمَا قَسَمْتَ لِي وَ آتِنا فِي الدُّنْيا حَسَنَةً وَ فِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَ قِنا عَذابَ النَّارِ الْحَرِيقِ وَ ارْزُقْنِي فِيهَا ذِكْرَكَ وَ شُكْرَكَ وَ الرَّغْبَةَ إِلَيْكَ وَ الْإِنَابَةَ وَ التَّوْبَةَ وَ التَّوْفِيقَ لِمَا وَفَّقْتَ لَهُ مُحَمَّداً وَ آلَ مُحَمَّدٍ عَلَيْهِ وَ عَلَيْهِمُ السَّلَام‏

উচ্চারণঃ ইয়া মুলিজাল লাইলি ফিন নাহারি ওয়া মুলিজা নাহারি ফিল লাইলি ওয়া মুখরিজাল হাই মিনাল মাইতি মিঁল হাই ইয়া রাযিক্বা মাইয়াশাউ বি গ্বাইরি হিসাবি, ইয়া আল্লাহু ইয়া রাহমানু ইয়া আল্লাহু ইয়া রাহিমু ইয়া আল্লাহু ইয়া আল্লাহু ইয়া আল্লাহু লাকা ইল্লাসমাউল হুসনা ওয়া ইল্লামসালুল উলইয়া ওয়াল কিবরিয়াউ ওয়া ইল্লা লাউ আসআলুকা আন তুসাল্লি আলা মুহাম্মাদিউ ওয়া আলি মুহাম্মাদ ওয়া আন তাজআলাসমি ফি হাযিহিল লাইলাতি ফিস সুআদদায়ি ওয়া রুহি মাআশ শুহাদায়ি ওয়া ইহসানি ফি ইল্লিয়িনা ওয়া ইসসাআতি মাগ্বফুরাতাউ ওয়া আন তাহাবা লি ইয়াক্বিনান তুবাশিরু বিহি ক্বালবি ইমানাই ইয়াযহিবুশ শাক্কা আন্নি ওয়া তুরযিয়ানি বিমা কাসামতা লি ওয়া আতিনা ফিদ দুনিয়া হাসানাতাউ ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাউ ওয়া ক্বিনা আযাবান নারিল হারিক্ব ওয়ার যুক্বনি ফিহা যিকরাকা ওয়া শুকরাকা ওয়ার রাগ্ববাতা ইলাইকা ওয়াল ইনাবাতা ওয়াত তাওবাতা ওয়াত তাউফিক্বা লিমা ওয়াফফাক্বতা লাহু মুহাম্মাদাউ ওয়া আলা মুহাম্মাদিন আলাইহি ওয়া আলাইহিমুস সালাম।

অর্থঃ হে তিনি যিনি রাতকে দিনের মধ্যে প্রবেশ করান, হে তিনি যিনি দিনকে রাতের ভেতরে প্রবেশ করান, যিনি  জীবিতদেরকে বের করে আনেন মৃতদের মাঝ থেকে, হে যিনি মৃতদেরকে বের করে আনেন জীবিতদের মাঝ থেকে হে রিযিক দানকারী যাকে ইচ্ছা হিসাব ছাড়া রিজিক দান করেন হে আল্লাহ হে সর্বদয়ালু হে আল্লাহ হে সর্বমমতাময় হে আল্লাহ হে আল্লাহ হে আল্লাহ আপনারই হলো সুন্দর নামগুলো এবং উচ্চতম দৃষ্টান্তগুলো  এবং সব বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব ও দানসমূহ। আপনার কাছে চাই যেন আপনি কল্যাণ বর্ষণ করেন মুহাম্মাদ ও তার পরিবারের ওপর এবং আমার নামকে এই রাতে আনন্দিতদের মাঝে অন্তর্ভূক্ত করেন এবং আমার ভাল কাজগুলোকে ইল্লিয়্যিনে অধিষ্ঠিত রাখেন এবং আমার অপকর্মগুলোকে ক্ষমা করেন এবং আমাকে নিশ্চিত বিশ্বাস দান করেন যা আমার অন্তরকে সুসংবাদ দিবে এবং এমন এক ঈমান দিন যা আমার কাছ থেকে সন্দেহকে দূর করে দিবে এবং আমাকে তাতে সন্তুষ্ট করুন যা আপনি আমার জন্য নির্ধারণ করেন এবং আমাদেরকে কল্যাণ দান করুন এই পৃথিবীতে এবং কল্যাণ দান করুন আখেরাতে এবং আমাদেরকে রক্ষা করুন তীব্র আগুনের শাস্তি থেকে এবং এই বিষয়ে আমাকে দান করুন আপনার স্মরণ এবং আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং আপনাকেই চাওয়া এবং অনুতপ্ত হয়ে ফেরা এবং ঐ সফলতা  যে বিষয়ে আপনি সফলতা দিয়েছেন মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারকে তার ওপর ও তাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।

২৩শে রমজান রাতের (২২শে রমজান দিবাগত রাতে) বিশেষ আমলসমূহঃ

এই রাতটি পূর্বের দুই রাতের তুলনায় বেশী গুরুত্বপূর্ণ। আহলে বাইত (আ.)’র সীরাতে এই রাতের গুরুত্বটি এইভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে। হযরত ফাতিমা যাহরা সালামুল্লাহি আলাইহা ২৩শে রমজান রাতে তাঁর পরিবারের সদস্যদেরকে ঘুমাতে দিতেন না এবং তাঁদের খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিতেন এবং দিনের বেলায় তাঁদেরকে ঘুমাতে দিতেন যেন তাঁরা রাতের বেলা যেন ঘুমিয়ে না যায়। তিনি বলতেন: প্রকৃতপক্ষে সে বঞ্চিত যে এই রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়। ইমাম জাফর সাদিক্ব (আ.) একবার ২৩শে রমজানের রাতে তাঁর গৃহভৃত্যদেরকে বললেন তাঁকে মসজিদে বহন করে নিয়ে যেতে, কারণ তখন তিনি অসুস্থ ছিলেন। তিনি মসজিদে সকাল পর্যন্ত রাত্রি জাগরণ করেন।

  • গোসল করা।
  • সুরা আনকাবুতসুরা রূম পাঠ করতে হবে। ইমাম জাফর সাদিক্ব (আ.) বলেছেন: কেউ যদি এই সুরা দুইটি পাঠ করে তাহলে তাকে বেহেশতের লোকদের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত করা হবে।
  •  সুরা দুখান পাঠ করা।
  • এক হাজার বার সুরা ক্বদর পাঠ করা।
  •  দোয়া হুজ্জাত পাঠ করা।
  •  ইমাম হুসাইন (আ.)’র রওযা যিয়ারত করা।
  • ১০০ রাকাত নামাজ পড়া। নামাজটি পড়ার পদ্ধতি: প্রথম রাকাতে সুরা ফাতিহার পরে দশ বার সুরা ইখলাস পাঠ করতে হবে। দ্বিতীয় রাকাতটি অনুরূপ পদ্ধতিতে পড়তে হবে। অবশিষ্ট নামাজগুলো উল্লেখিত পদ্ধতিতে পড়তে হবে।নিয়তঃ ২৩শে রমজান রাতের দুই রাকাত নামাজ পড়ছি কুরবাতান ইলাল্লাহ।
  • এই রাতে পূর্বের রাতগুলোর ন্যায় বর্ণিত দোয়া ও নামাজ পড়তে হবে।
  •  দোয়া জওশান কাবীর পাঠ করা।
  •  কোরআন শরীফ তেলাওয়াত করা ।
  •  ২৩শে রমজান রাতে এই দোয়াটি পাঠ করা:

يَا رَبَّ لَيْلَةِ الْقَدْرِ وَ جَاعِلَهَا خَيْراً مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ وَ رَبَّ اللَّيْلِ وَ النَّهَارِ وَ الْجِبَالِ وَ الْبِحَارِ وَ الظُّلَمِ وَ الْأَنْوَارِ وَ الْأَرْضِ وَ السَّمَاءِ يَا بَارِئُ يَا مُصَوِّرُ يَا حَنَّانُ يَا مَنَّانُ يَا اللَّهُ يَا رَحْمَنُ يَا اللَّهُ يَا قَيُّومُ يَا اللَّهُ يَا بَدِيعُ يَا اللَّهُ يَا اللَّهُ يَا اللَّهُ لَكَ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى وَ الْأَمْثَالُ الْعُلْيَا وَ الْكِبْرِيَاءُ وَ الْآلَاءُ أَسْأَلُكَ أَنْ تُصَلِّيَ عَلَى مُحَمَّدٍ وَ آلِ مُحَمَّدٍ وَ أَنْ تَجْعَلَ اسْمِي فِي هَذِهِ اللَّيْلَةِ فِي السُّعَدَاءِ وَ رُوحِي مَعَ الشُّهَدَاءِ وَ إِحْسَانِي فِي عِلِّيِّينَ وَ إِسَاءَتِي مَغْفُورَةً وَ أَنْ تَهَبَ لِي يَقِيناً تُبَاشِرُ بِهِ قَلْبِي وَ إِيمَاناً يُذْهِبُ الشَّكَّ عَنِّي وَ تُرْضِيَنِي بِمَا قَسَمْتَ لِي وَ آتِنا فِي الدُّنْيا حَسَنَةً وَ فِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَ قِنا عَذابَ النَّارِ الْحَرِيقِ وَ ارْزُقْنِي فِيهَا ذِكْرَكَ وَ شُكْرَكَ وَ الرَّغْبَةَ إِلَيْكَ وَ الْإِنَابَةَ وَ التَّوْبَةَ وَ التَّوْفِيقَ لِمَا وَفَّقْتَ لَهُ مُحَمَّداً وَ آلَ مُحَمَّدٍ صَلَوَاتُكَ عَلَيْهِ وَ عَلَيْهِمْ.

উচ্চারণ: ইয়া রাব্বা লাইলাতিল ক্বাদরি ওয়া জায়েলাহা খায়রাম মিন আলফি শাহরিউ ওয়া রাব্বাল লাইলা ওয়ান নাহার ওয়াল জিবালা ওয়াল বিহারি ওয়ায যুলামি ওয়াল আনওয়ারি ওয়াল আরযি ওয়াস সামায়ি ইয়া বারিউ ইয়া মুসাও ওয়িরু ইয়া হান্নানু ইয়া মান্নানু ইয়া আল্লাহু ইয়া রাহমানু ইয়া আল্লাহু ইয়া কাইয়ুমু ইয়া আল্লাহ ইয়া বাদিউ ইয়া আল্লাহু ইয়া আল্লাহু ইয়া আল্লাহু লাকাল আসমাউল হুসনা ওয়াল আমসালুল উলইয়া ওয়াল কিবরিয়াউ ওয়াল আলাউ আসআলুকা আন তুসাল্লিয়া আলা মুহাম্মাদিউ ওয়া আলি মুহাম্মাদ ওয়া আন তাজআলাসমি ফি হাযিহিল লাইলাতি ফিসসুআদায়ি ওয়া রুহী মাআস শুহাদায়ি ওয়া এহসানী ফি ইল্লিয়িনা ওয়া ইসাআতি মাগফুরাতাউ ওয়া আন তাহাবা লি ইয়াক্বিনান তুবাশিরু বিহি ক্বালবি ওয়া ইমানাই ইউযহিবুশ শাক্কা আন্নি ওয়া তারযিয়ানী ওয়ামা ক্বাসামতা লি ওয়া আতিনা ফিদদুনিয়া হাসানাতাউ ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাউ ওয়াক্বিনা আযাবান নারিল হারিক্ব ওয়ার যুক্বনি ফিহা যিকরাকা ওয়া শুকরাকা ওয়ার রাগ্ববাতা ইলাইকা ওয়াল ইনাবাতা ওয়াত তাওবাতা ওয়াত তাওফিক্বা লিমা ওয়াফফাক্বতা লাহু মুহাম্মাদাউ ওয়া আলা মুহাম্মাদ সালাওয়াতুকা আলাইহি ওয়া আলাইহিম।

অর্থ: হে ক্বদরের রাতের প্রভু এবং যিনি একে করেছেন হাজার মাসের চেয়ে উত্তম এবং রাত ও দিনের প্রভু এবং পাহাড়গুলো ও সমুদ্রগুলোর (প্রভু) এবং অন্ধকার এবং আলোসমূহের (প্রভু) এবং পৃথিবী ও আকাশের (প্রভু) হে সৃষ্টিকর্তা হে রূপদানকারী হে সহানুভূতিপূর্ণ হে আনুকুল্যকারী! হে আল্লাহ হে সর্বদয়ালু হে আল্লাহ হে চীর বিরাজমান হে আল্লাহ হে উদ্ভাবক হে আল্লাহ হে আল্লাহ হে আল্লাহ  আপনারই হলো সুন্দর নামগুলো এবং উচ্চতম দৃষ্টান্তগুলো এবং সব বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব ও দানসমূহ আমি বিনিতভাবে চাই যেন আপনি কল্যাণ বর্ষণ করেন মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারের ওপর, এবং যেন এই রাতে আমার নামকে অন্তর্ভূক্ত করেন আনন্দিতদের মাঝে এবং আমার রূহকে শহীদদের সাথে এবং আমার ভাল কাজগুলোকে ইল্লিয়্যিনের স্থানে রাখেন এবং আমার অপকর্মগুলোকে করেন ক্ষমাপ্রাপ্ত এবং যেন আমাকে দান করেন নিশ্চিত বিশ্বাস যা আমার অন্তরকে সুসংবাদ দিবে এবং এক ঈমান যা আমার কাছ থেকে সন্দেহ দূর করে দিবে এবং আমাকে সন্তুষ্ট করবে যা আপনি আমার জন্য নির্ধারণ করবেন এবং দান করুন এই পৃথিবীতে কল্যাণ এবং আখেরাতেও কল্যাণ এবং আমাদেরকে তীব্র আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন এবং আমাকে এই বিষয়ে দান করুন আপনার স্মরণ ও আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং আপনাকেই চাওয়া এবং অনুতপ্ত হয়ে ফেরা এবং ঐ সফলতা যে বিষয়ে আপনি সফলতা দিয়েছেন মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারকে তাঁর ওপর এবং তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।

-এস, এ, এ


সিপাহসালার ইনস্টিটিউশন | এপ্রিল ২০২১এস এইচ হক