প্রবন্ধ

তিনদিনের ভিতর খলিফা হয়ে আবু বকর ও ওমর একদল সৈন্য কোথা থেকে আবিষ্কার করলেন?

হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হায়াতে জিন্দেগীতে একবার হজরত আবু বকর মসজিদের জামাতের ইমামতি করেছিলেন বলে আবুবকর খলিফা হবার যােগ্যতা অর্জন করেছেন। হজরত ওমর জীবিত থাকতেই যে এক গােলাম মসজিদে তিন দিন ইমামতি করল তাকে ওমরের মনােনীত বলে খলিফা করার কথা উঠল না কেন? প্রথম খলিফা তাে হজরত ওমরই মনােনীত করেছিলেন। একবার ইচ্ছা করে বিপথগামী হলে আর পথ পাওয়া বড় মুসকিল। মুখের ব্যাখ্যায় কিছু হয় না। মুমূর্য হজরত ওমরের পরবর্তী খলিফা বিষয়ক অছিয়ত তাবারী, ইবনে আবিল হাদিদ, আবিল ফিদার ঘটনার উল্লেখ হতে নিয়ে যা ইবনে খালদুন, ইবনে কুতায়বা প্রমুখ ইতিহাস পর্যালােচনা করেছেন।

হজরত আবু বকর খলিফা পদে বরিত হয়ে মনে করলেন, হয়ত হজরত আলী(আঃ) ও তদীয় বন্ধুবর্গ এই নির্বাচনে অসন্তুষ্ট হয়ে গােলযােগ সৃষ্টি করে বসবেন। এই আশংকায় তিনি হজরত ওমরকে অনুরােধ করলেন যে, আপনি একদল সৈন্যসহ মা ফাতেমাতে জোহরার বাসগৃহ অবরােধ করুন। পরম রাজনৈতিক ওমর তৎক্ষণাৎ একদল সৈন্যসহ উক্ত কাজ সম্পন্ন করে হজরত আলীকে হজরত আবু বকর ছিদ্দিকের খেলাফত সংক্রান্ত বিষয় সংবাদ দিয়ে তাঁর সম্মতি প্রার্থনা করলেন।

হুজুরে পাক (দঃ)-এর কোন স্থায়ী সেনাবাহিনী ছিল না। তিনদিনের ভিতর খলিফা হয়ে আবু বকর ও ওমর একদল সৈন্য কোথা থেকে আবিষ্কার করলেন? নিজেদের পকেটের টাকা দ্বারাই তারা তখন নিজেদের দায়ীত্বে এই সৈন্য দল গঠন করেছেন। আসলে তারা কি বাহিনী? এই বেতন ভুক্ত বাহিনী গঠনের জন্য আল্লাহর রছুল দায়ী হতে যাবেন না।(হজরত আলী মাের্তজা, ২য় সংস্করন মৌঃ সফিউদ্দিন আহমদ পৃঃ ৬৭৬৮/ মাওলানা নুরুদ্দীন, হজরত ওমর পৃঃ ৩৯)।

নবী করিম (দঃ)-এর পরেই খেলাফতের উপর হজরত আলীর স্বাভাবিক দাবী ছিল। তিনি নিজেকে খলিফা পদের যােগ্যতম ব্যক্তি মনে করতেন (খিলাফতের ইতিহাস পৃঃ ৫৯)। কারণ তা ছাড়া হজরত আলীর আর কোন উপায় ছিল না। তিনি যাকে তার জীবনের সর্বাধিনায়ক করেছেন সেই রছুলে করিম (দঃ) তাকে প্রভু (অন্য সকলের মাওলা) বলে অভিষিক্ত করে গেছেন, তিনি আল্লাহর হুকুম ছাড়া তা করেন নাই। তাহলে আলীর পক্ষে সেই মনােনয়ন অমান্য করা কি আল্লাহ ও রছুলে পাক (দঃ)-এর মনােনয়ন অগ্রাহ্য করার দায়ে অভিযুক্ত হতে হয় না? তা হজরত আলীর পক্ষে সম্ভব নয়। জুলফিকার পরিচালনা করে তিনি সব কেটে ছাফ করতে পারতেন। নানা চিন্তা করে বহু অত্যাচার সহ্য করেও তলােয়ার তুলেন নাই। কিন্তু আল্লাহর মনােনয়ন প্রসূত ও তাগীদ দেওয়া দাবী উল্লেখ না করে পারেন নাই।

নবী পরিজন-এর বাহির হতে যারা খলিফা হয়েছিলেন তাঁদের বহু কাহিনী ইতিহাসে পাতা ভরে আছে। এমন কোথাও কি আছে যে, তাঁরা কেউ কখনও এক বেলার জন্য না খেয়ে ভুখা রয়েছেন? তখনকার খলিফাদের শাষনামলে যখন ভূখা লােকের অভাব নেই, দুর্ভিক্ষ পর্যন্ত হয়েছে, ইছলামের কোন্ আইনের বলে তখনকার শাসকদের আহার করা শােভা পেয়েছে? অথচ রাছুলে পাক সহ তদীয় পরিজন (আলী, ফাতেমা, হাছান, হােছাইন (আঃ) সহ এমনকি উনাদের কাজ করার মেয়ে ফিদ্দার) না খেয়ে থাকার কথা আল্লাহ পাক নিজেই কোরআন পাকে ব্যক্ত করেছেন। (ছুরা দহরের শানে নজুল ও আল্লামা কবি ইকবালের নানা কবিতা) উনারা যে এভাবে দিনের পর দিন না খেয়ে উপােস করেছেন, তাহলে মা খােদেজাতুল কোবরার বিপুল সহায় সম্পদ ইতিমধ্যে গেল কোথায়? রছুল প্লাক (দঃ) মক্কায় তা ফেলে এসেছিলেন বটে কিন্তু মােহাজিরদের যারা মদিনায় পুজিপতি হয়েছিলেন,তারাও তাে আগের সহায় সম্পদ মক্কায় ফেলে এসেছিলেন। তাদের ত মা খাদিজা বা রছুল (দঃ)-এর মত এত সম্পদ ছিল না। মদিনায় কোথা থেকে এত সম্পদ জন্ম নিল। মােহাজির আবদুর রহমান ইবনে আউফ (যিনি তৃতীয় খলিফা তৈরীর কারসাজী করেছিলেন)-এর মৃত্যুর পর তার উয়ারিশান পাল্লা বাটখারা দিয়ে সােনা জহরত ওজন করে ভাগ করে নিয়েছে। সারা আরবে কিছুদিন আগেই দুর্ভিক্ষ হয়ে গেছে অথচ খলিফা ওমরের মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশেরা কেউই এক লাখ দিরহামের কম পায় নাই। ব্যাপার কি? মদিনার উপকণ্ঠে সাআদ বিন আবী ওয়াকাছ-এর মুল্যবান আকীক নির্মিত ইমারত কোথা থেকে আসে? রছুলে পাক (দঃ) ও তার পরিজনের এমন সম্পদ হল না কেন? অথচ রছুলে পাক (দঃ)-ই ছিলেন সবকিছুর উপরে শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত এবং আল্লাহর কালাম মােতাবেক তিনিই আয়ত্ত কৃত সমস্ত সম্পদের মালিক (ছুরা হাশর)। কোন কারসাজীতে নবী পরিজনকে না খেয়ে মরতে দেওয়ার আয়ােজন হয়েছে তা বুঝবার লােক কি মােটেই ছিল না? যে রছুল পাক (দঃ)-কে দুনিয়ার সমস্ত সম্পদের চাবি আল্লাহ পাক দান করেছিলেন।সত্য চিরকালই সত্য থাকে। কোন অবস্থাতেই তা লুকান সম্ভব নয়। একদিন না এক দিন তা জ্বল তারকার মত ভেসে উঠবেই।

[আলোচ্য প্রবন্ধটি তরফ ও শ্রীহট্ট বিজয়ী মহান মনিষী সিপাহসালার সৈয়দ নাসির উদ্দিন (রহঃ) এর অধস্থন পুরুষ ইরফানিয়াত মশহুর পীর, হবিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সুরাবই সাহেব বাড়ীর সিংহপুরুষ সৈয়দ মোঃ ইসহাক আল হোসাইনী (রহঃ) এর স্বরচিত ‘নবী বংশ পরিচিতি ও মহান কোরবানি’ গ্রন্থের ৮২,৮৩,৮৪ পৃষ্ঠা থেকে নেয়া হয়েছে।কালের প্রবাহ তাঁর নূরানী যিন্দেগীর পৃষ্ঠা উল্টে সামনে এগিয়ে গিয়েছে কিন্তু এ মহান অলির ‘ইলমের খাতা, রচনাবলী, আল্লাহ্ তা‘আলার ও দ্বীনের পথে তাঁর খেদমত এখনো একইভাবে উন্মুক্ত রয়েছে।]

মতামত দিন