প্রবন্ধ

মাওলা আলী (আঃ) ঈমানের কষ্টিপাথর

হযরত আলী আঃ বলেন, “আমার এ তরবারী দ্বারা কোন ঈমানদারের নাকে যদি আমি আঘাতও করি তবু সে আমাকে ঘৃণা করবেনা, আবার আমার ভালবাসার জন্য যদি আমি মোনাফেকের সামনে দুনিয়ার সকল সম্পদ স্তূপীকৃত করে দেই, তবুও সে আমাকে ভালবাসবে না” এর কারন হলো পরম প্রিয় রসুল সঃ তাঁর নিজ পবিত্র মুখে বলেছেন যে, “ইয়া আলী, ঈমানদারগণ কখনো তোমাকে ঘৃণা করবে না এবং মুনাফেকগণ কখনো তোমাকে ভালবাসবে না”।

এ হাদিসটি সহীহ বলে সর্বজন গৃহীত এবং এতে কেউ কোনদিন কোনও সংশয় প্রকাশ করেনি। এ হাদিসটি আব্দুলাহ ইবনে আব্বাস রাঃ, ইমরান ইবনে হুসাইন রাঃ, উম্মুল মোমিনিন উম্মে সালমা রাঃ সহ আরও অনেক সাহাবী দ্বারা বর্ণিত হয়েছে।
আমিরুল মোমিনিন হযরত আলী ইবনে আবী তালীব আঃ নিজেও এই হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, “যিনি বীজ হতে চারা গজান ও আত্মা সৃষ্টি করেন, সেই আল্লাহ্‌র কসম, নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌র রাসুল সাঃ আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, প্রকৃত মোমিন ছাড়া আমাকে কেউ ভালবাসবে না এবং মুনাফেকগণ ছাড়া কেউ আমার প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন করবে না”।

রসুল সঃএর সাহাবাগন হযরত আলী আঃএর প্রতি ভালবাসা অথবা ঘৃণা দ্বারা কোন লোকের ঈমান ও নিফাকী পরখ করতেন।

আবুজার গিফারী রাঃ, আবু সাইদ খুদরীরাঃ, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ রাঃ ও জাবির ইবনে আবদুল্লাহ আনসারী রাঃ হতে বর্ণিত হয়েছে যে, “আমরা সাহাবাগন হযরত আলীর প্রতি ঘৃণা দ্বারা মুনাফেক খুঁজে বের করতাম”।

সুত্রঃ- কাতেবীনে ওহী, পৃঃ-২১২, (ইসঃ ফাঃ বাঃ)। সহীহ তিরমিজি, খঃ-৫,পৃঃ-৬৩৫ (মিশর)। জামে আত তিরমিজি, খঃ-৬, হাঃ-৩৬৫৪,৩৬৫৫,(ইসলামিক সেন্টার)। ইবনে মাজাহ, খঃ-১,পৃঃ-৫৫ (মিশর)। সহীহ মুসলিম, খঃ-১, হাঃ-১৪৪, (ইসঃ ফাঃ বাঃ)। আশারা মোবাশশারা, পৃঃ-১৯৭, (এমদাদিয়া লাইঃ)। মিশকাত, খঃ-১১, হাঃ-৫৮৪১ (এমদাদিয়া লাইঃ)। সহীহ মুসলিম, খঃ-১, পৃঃ-৬০ (মিশর)। মুসনাদে হাম্বল, খঃ-১, পৃঃ-৮৪,৯৫, এবং খঃ-৬, পৃঃ-২৯২ (মিশর)। হযরত আলী, পৃঃ-১৪ (এমদাদিয়া লাইঃ)। আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খঃ-৭, পৃঃ-৩৫৪। তাফসীরে দূররে মানসুর, খঃ-৬, পৃঃ-৬৬-৬৭। আরজাহুল মাতালেব,পৃঃ-৮৪৮,৮৬০। ইয়ানাবিউল মুয়াদ্দাত, পৃঃ-৮৬-৮৭। তারিখে বাগদাদ, খঃ-২, পৃঃ-২৫৫ ও খঃ-৮, পৃঃ-৪১৭ ও খঃ-১৩, পৃঃ-১৫৩ ও খঃ-১৪, পৃঃ-৪২৬ (মিশর) নাহজুল বালাঘা ( ইবনে হাদীদ), খঃ-১, পৃঃ-৩৬৭। শারাহ নাহজ আল বালাঘা (ইবনে আবিল হাদীদ মুতাজেলী), খঃ-৪, পৃঃ-৬৪। জামেউল কাবির ( আল্লামা জালাল উদ্দীন সুয়ুতী), পৃঃ-১৫২,৪০৮। সুনানে নাসাঈ, খঃ-৮, পৃঃ-১১৫ (মিশর)। জামেউল উসুল, খঃ-৯, পৃঃ-৪৭৩ (মিশর)। ইবনে মাজাহ, খঃ-১, পৃঃ-৫৫ (মিশর)। আল মুস্তাদারাক, খঃ-৩, পৃঃ-১২৯ (মিশর)। মাজমা আজ জাওয়ারেদ, খঃ-৯, পৃঃ-১৩৩ (মিশর)। হিলিয়াতুল আউলিয়া, খঃ-৪, পৃঃ-১৮৫ ও খঃ-৬, পৃঃ-২৯৪ (মিশর)।

@sat

মতামত দিন