প্রবন্ধ

জারজ মুয়াবিয়া ও তার অনুসারী মালাউন’দের সূক্ষ নেফাকী

জারজ মুয়াবিয়া ও তার অনুসারী মালাউন’দের সূক্ষ নেফাকী


আফসোস আমরা আজ এমন এক পর্যায়ে এসে দাড়িয়েছি যে নিকৃষ্ট নর্দমার কীট,জারজ মালাউন মুয়াবীয়া কে নিয়ে লিখতে হয়।ইদানিং কালে কিছু নতুন উপদ্রব ফেইসবুকে পরিলক্ষিত হয়েছে,সিলেট ও তরফ রাজ্য বিজয়ী মহান মনীষীর সিপাহসালার সৈয়দ নাসির উদ্দিন (রহঃ) বংশের নাম ভাঙ্গিয়ে  কিছু ‘জারজ সৈয়দ’ (যারা আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত,ফেরেশতাকুল, মনুষ্যকুলের অভিশাপ্ত) থার্ড ক্লাস মৌলভী মুয়াবিয়ার প্রশংসায়  এতই  পঞ্চমুখ যে,দ্বীন ও মায্হাবের দৃষ্টিতে একজন বুজুর্গ ব্যক্তি হিসাবে প্রতিষ্ঠাত করতে তৎপর।প্রথমতঃ এই নাপাক কুলাঙ্গার নিজের পিতা সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও অপর কাউকে পিতা বলে দাবী করে, সে কুফরি করলো। (সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম) দ্বিতীয়তঃ জারজ মুয়াবিয়ার গুনকীর্তন তথা গোড়ামির মাধ্যমে হক ও সত্যবাদিতার সাথে দুশমনী করেছে এবং মুসলমানদের ধোঁকা ও বিভ্রান্তির মধ্যে নিমজ্জিত করেছে।অসীম লানত আহলে বাইত বিদ্বেষী এই দুর্গন্ধময় নর্দমার কীটের উপর যারা মহান মনীষীর সিপাহসালার বংশের নাম ভাঙ্গিয়ে উনার নামে কলঙ্কের কালিমা লেপন করতে চায়।জারজ মালাউন জানেনা আধ্যাত্নিক সাধনায় সিপাহসালার সৈয়দ নাসির উদ্দিন (রহ:) ছিলেন ইমামিয়া শুলুকের সায়খ। তিনি ছিলেন আহলে বাইয়্যেতে রাসুল স: তথা রসুলের অধস্থন ১২ জন মহীমান্বিত ইমামগণের সরাসরি নসবি সিলসিলায়, যারা ছিলেন ছিরাতুল মুস্তাকীমে অধিষ্ঠিত।মহান দরবেশ এই আদর্শের আকিদার ধারাবাহিকতা এখনও উত্তরাধিকার সূত্রে বহন করে চলেছি আমরা।  এই উত্তরাধিকার গৌরবের,যা মাথা তুলে দাঁড়াবার প্রেরণা দেয়।

এরা যেমন নিজেরা কোন উপযুক্ত দলীল পেশ করতে অক্ষম, তেমনি কোনো সঠিক তথ্য বা দলিল মানতেও নারাজ । মুয়াবিয়ার অপকর্মগুলোকে জায়েজ করার জন্য প্রয়োজনে পবিত্র কোরআন ও হাদিসের অর্থ ও ব্যাখ্যা কে বিকৃত করতেও দেখা যায় । মুয়াবিয়ার অপকর্মগুলো সম্পর্কে যে সমস্ত হাদীস ও ঐতিহাসিক দলিল  থাকা সত্ত্বেও তারা সূক্ষ নেফাকী করে চলছে ।নবী পাক (সা:) উনার সাহাবায়ে কেরামদের সমালোচনা করতে নিষেধ করেছেন তথাকথিত ফোর্থ হ্যান্ড হাদীস দেখিয়ে,মুয়াবিয়ার জুলমাতি প্রকাশ-প্রচারনায়, তাকে লানত-তাবার্রায় কাউকে নিরোৎসাহিত করছে যা আসলে রসুল সঃএর হাদিস অনুযায়িই জালিমের পক্ষে তথা একধরনের সূক্ষ নেফাকী। আর এরকম সুক্ষ নেফাকীগত কৌশলি ফাঁদ থেকে সরল উম্মাহর বড় একটা অংশ এখনো মুক্ত হতে পারেনি। হারামকে হালাল বলা কুফরি। মুলুকিয়তকে খেলাফত বলা ব্যভিচারকে বিয়ে বলার চেয়েও নিকৃষ্ট কুফরি।তাদের এই সমস্ত উদ্দেশ্য প্রণীত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এটাই প্রমাণিত হয় যে,তারা চায় সত্যের উপর পর্দা পড়ে থাকুক আর মিথ্যা প্রতিষ্টিত হোক । এরা মূলতঃ হক ও সত্যের পরিপন্থী। এই সমস্ত লোকদের ‘নাসেবি’ তথা দুশমনে আহলে বাইত রাসুল (সাঃ) হিসাবে আখ্যায়িত করা হয় ।তাদের ইমাম বা নেতা হচ্ছে মুয়াবিয়া ।

পাক পাঞ্চাতনের সদস্য এবং আহলে বাইতের অন্যতম সদস্য ইমামগনকে হত্যা, অত্যাচার, নির্যাতনকারীরাই ধর্মীয় প্রচার কেন্দ্র গুলো প্রতিষ্ঠা এবং দখল করে বিকৃত ধর্মীয় বিধান চালু করেছিল।সেই বিকৃত ধর্মে দীক্ষিত মুসলমান ধর্মের মোল্লারা ধর্মের সত্য হতে এমনভাবে বেড়িয়ে গেছে যেভাবে ধনুক হতে একটি তীর বেড়িয়ে যায়।সমাজে আজ যাদেরকে মানুষ মুসলমান বলে মনে করছে এরাই কারবালার ময়দানে মহানবির ধর্মদর্শন ও নবি-পরিবারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে মূল ইসলাম থেকে ছিটকে গিয়ে টুপি-দাঁড়ি মার্কা অনুষ্ঠানসর্বশ্ব ভোগবাদী এক এজিদী ইসলামের সূচনা করেছিল যা এখনও প্রচলিত আছে; সেই নবগঠিত ইসলামের খাঁটি উত্তরসুরিই বর্তমান কালের মোল্লা-মুন্সি ও মুফতি-মাওলানারা । ইসলামের চেহারাকে পাল্টে দেয়া হয়েছে, এজিদী ধর্মকেই মোহাম্মদী ধর্ম বলে সমাজে, ধর্মগ্রন্থে, জনমনে বলপূর্বক চাপিয়ে দেয়া হয়েছে।কিছু জ্ঞানপাপী আলেম শতশত বছর ধরে অবান্তর হাদিসের ভিত্তিতে দুশ্চরিত্র মুয়াবিয়াকে সাহাবী বানিয়ে রেখেছে৷যদিও কুরআন কারা সাহাবী হিসেবে গণ্য হবে তা স্পষ্ট করে বলে দিয়েছে তারপরও তারা নির্লজ্জের মত ফোর্থ হ্যান্ড হাদীস দেখিয়ে দাঁত কেলাচ্ছে! আজকাল ধর্মব্যবসায়ী মোল্লারা বাঈজীর ছেলেকে নিয়ে কৌশলী অবস্থান রত।মুয়াবিয়ার কথা বললেই ক্ষেপে যায়, আর ওদিকে মাওলা আলী (আ:) ও আহলে বাইত (আ:)-দের ভালোবাসার কথা বলে। ওরে বাটপার!

অথচ মাওলা আলী (আ:) বলেন—

“আমার ও মুয়াবিয়ার মহব্বত এক সাথে কোন ব্যক্তির হৃদয়ে থাকতে পারে না।” [সূত্র -নাসাঈ এ কাফিয়া]

আজকে যারা মুয়াবিয়া পন্থী তাদের দলের বিখ্যাত কিতাব ফতোয়ায়ে শামী। আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত এর মশহুর কিতাব ফতোয়ায়ে শামী তে উল্লেখ আছে হজরত মওলা আলী (আ:) এবং তার অনুসারীরা সঠিক পথে ছিল এবং তার দুশমন মুয়াবিয়া ছিল বিদ্রোহী।মওলা আলী (আ:)যদি হক হইয়া থাকেন আর জারজ মুয়াবিয়া যদি বাতীল হইয়া থাকে তাহলে কোরআনের নির্দেশেই তো মুয়াবিয়া লানতী।কোরআনে যে আহলে বায়েতকে মুয়াদ্দাত করতে আদেশ দিয়েছে! আর আহলে বায়েতরে যখন মুয়াদ্দাত করেন তাহলে আহলে বায়েতের বিরোধী বাতীলরে তো কোরআনের আদেশ অনুযায়ীই ঘৃনা করতে হইবে! কোরআন যে বাতীলকে ধিক্কার দিয়েছে!

আহলে বায়েত আলাইহি ওয়া সাল্লামের দুশমনদের হক মনে করা ও তাদের পক্ষে যাওয়াই পবিত্র আহলে বায়েত আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিপক্ষে যাওয়া। মাওলা আলী (আ:) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং খোতবায় তাঁর উপর লাআনত গালি দিয়ে মুসলিম হতে পারে না।তেলাপোকা একটি পাখি মোয়াবিয়া একজন সাহাবা!  সাহাবি মানে মোয়াবিয়া নয়।সাহাবী মানে অনুসরণীয় কিন্তু সাহাবী নামের সাথে সামঞ্জস্য নয় তথা সাহাবী আদর্শের সাথে মিলেনা এমন কর্মকান্ড কখনো অনুসরণীয় অনুকরণীয় গ্রহনীয় নয়! সাহাবী একটি বৈশিষ্ট্য, সাহাবী একটি চরিত্র, সাহাবী একটি আদর্শ, সাহাবী মানে বিশ্বস্ত, সাহাবী মানে উৎসর্গ, সাহাবী ঈমানের পথে সর্বদা অটল থাকা এবং সর্ব কুফরির বিরুদ্ধে চির আপোষহীন এক মহা অবস্থানের নাম।ঈমানের প্রাণ আহলে বায়েত আলাইহিস সালামের  খুনি শত্রু সাহাবি দূরের কথা মুসলিমও নয়।

মওলা আলী (আ:) বাবুল ইলম অর্থাৎ উনার জ্ঞান উনার সিদ্ধান্ত উনার অবস্থান সবকিছু মদিনাতুল ইলম প্রিয়নবী থেকে সরাসরি আসা সুতরাং কেউ যদি উনার সিদ্ধান্ত উনার জ্ঞানের বিপরীতে অবস্থান নেয় তখন তাকে মুমিন বলার কোন সুযোগ নাই কেননা মাওলা আলী (আ:)মুমিনের অবিভাবক, মুমিন ছাড়া কেউ তাঁর আপন হবেনা আর মুনাফিক ছাড়া তার কেউ শত্রু হবেনা।

সাহাবীরা বলতেন—

আমরা আলী এর প্রতি ঘৃনা দেখে মুনাফেকদেরকে চিনতাম”।

[সূত্র – ফাযাইলে সাহাবা , ইমাম হাম্বাল হাদিস নং ১০৮ / রিয়াদ আন নাদারা , মুহিউদ্দিন তাবারি , খণ্ড – ৩ , পাতা- ২৪২]

মনের মধ্যে শুধু ঘৃনা রাখলে মুনাফেক হয়ে যায়।অথচ মুয়াবিয়া এমন কোনো অপকর্ম নেই সে লিপ্ত হয়নি।মুয়াবীয়া স্বয়ং নিজে ইমাম আলী (আঃ) এর সাথে যুদ্ধ করেছিল সিফফিনের যুদ্ধ । হাদিস অনুযাই যে ঘৃনার বহিঃপ্রকাশ করবে সেট মস্ত বড় মুনাফেক ও ইসলামের শত্রু,আর সে তো সরাসরি মৌলার বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল।এবারে দেখে নিন মহানবী (সাঃ) এর হাদিস,যে ব্যক্তি ইমাম আলী (আঃ) এর বিরুদ্বে যুদ্ধ করে সে রাসুল পাক (সাঃ) এর বিরুদ্বে যুদ্ধ করে ।

 

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ الْبَغْدَادِيُّ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ قَادِمٍ حَدَّثَنَا أَسْبَاطُ بْنُ نَصْرٍ الْهَمْدَانِيُّ عَنْ السُّدِّيِّ عَنْ صُبَيْحٍ مَوْلَى أُمِّ سَلَمَةَ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِعَليٍّ وَفَاطِمَةَ وَالْحَسَنِ وَالْحُسَيْنِ أَنَا حَرْبٌ لِمَنْ حَارَبْتُمْ وَسِلْمٌ لِمَنْ سَالَمْتُمْ

হযরত যায়েদ বিন আরকম (রাঃ) বলেছেন যে-আল্লাহের রাসুল (সাঃ) আলী (আঃ) , ফাতেমা (সাঃআঃ),ইমাম হাসান (আঃ) ও ইমাম হুসাইন (আঃ)দের সমদ্ধে বলেছেন যে , আমি তাদের সাথে শান্তি স্থাপন করি যারা এদের সাথে শান্তি স্থাপন করে , আমি তাদের সাথে যুদ্ধরত হই যারা এদের সাথে যুদ্ধ করে

 সূত্রঃ – সুনান তিরমিযি (বাব / অধ্যায় ফাযাইলে ফাতিমা বিনতে মুহাম্মাদ) / মুস্তাদ্রক আলা সাহিহাইন , হাকিম নিশাবুরি । (অধ্যায় মান মানাকিবে আহলে রসুল সাঃ) / সুনান ইবনে মাজা, অধ্যায় ফাযাইলে হাসান ও হুসাইন ।
عن أبي هريرة رضي الله عنه قال : نظر النبي صلى الله عليه و سلم إلى علي و فاطمة و الحسن و الحسين فقال : أنا حرب لمن حاربكم و سلم لمن سالمكم هذا حديث حسن من حديث أبي عبد الله أحمد بن حنبل عن تليد بن سليمان فإني لم أجد له رواية غيرها و له شاهد عن زيد بن أرقم “
 

হযরত আবু হুরাইরা বর্ণনা করেছেন যে- “ রাসুল (সাঃ) আলী (রাঃ) , ফাতেমা (সাঃআঃ), ইমাম হাসান (আঃ) ও ইমাম হুসাইন (আঃ) এর দিকে দৃস্টিপাত করলেন এবং বললেন যে , ‘আমি তাদের যাথে যুদ্ধরত থাকি যারা এদের সাথে যুদ্ধরত হয়,আর আমি তাদের সাথে শান্তি স্থাপন করি যারা এদের সাথে শান্তি স্থাপন করে

সূত্রঃ – ফাদাইলে সাহাবা , খন্ড ২ হাদিস নং ১৩৫০ , ইমাম হাম্বাল,মুস্তাদ্রাক ‘আলা সাহিহাইন, হাকিম নিশাবুরি । (অধ্যায় মান মানাকিবে আহলে রসুল সাঃ) ।

নাসেবিদের কাছে চ্যালেঞ্জ,মুয়াবিয়ার ভুল গুলো ইজতিহাদী খাতা নয়। ইজতিহাদী খাতা বলা ফিকহী বিষয়ের ক্ষেত্রে। আহলে বাইতের বিষয়ে তো তো ইজতিহাদী খাতার সুযোগই নেই।আর আপনাদের তর্কের খাতিরে যদি ধরে নেই সুযোগ ছিল তাহলে, মওলার খেলাফতের দীর্ঘ ৪ বছর ৯ মাসের সময় কালিন সময়ে কি? কখনো ? মাওলার কাছে বায়াত হয়েছে? মাওলার খিলাফত মেনে নিয়েছে? নাকি পুরো সময় জুড়ে মুনাফিকি করেছে?

কাফের মোয়াবিয়ার অনুসারীদের অভিযোগ, যেহেতু মাওলা আলী আর মোয়াবিয়া পরবর্তীতে আপোষ হয়ে গেছে। তাই দুই পক্ষের সাহাবীরা শহীদের মর্যাদা লাভ করছে। দুই পক্ষের লোকজনই মুমিন ছিলো।আমি মোয়াবিয়ার অনুসারীদের কথা অনুযায়ী ধরে নিলাম দুই পক্ষের লোকজনই মুমিন। তাহলে আল্লাহ বলেছেন, কোন মুমিন ব্যক্তিকে হত্যা করলেই সে চির জাহান্নামী। তাহলে তাদের কথা অনুযায়ী বুঝা যায় দুই পক্ষের লোকজনই চির জাহান্নামী। কারণ আল্লাহর এই পবিত্র কুরআন শরীফের কথা কিভাবে উল্টাবেন। যদি বলেন তারা উভয় পক্ষই জান্নাতী, তাহলে আল্লাহ তায়ালা মিথ্যাবাদী হয়ে যাবে। (নাউজুবিল্লাহ)।যুদ্ধ ক্ষেত্রে কখনো দুই পক্ষ হক থাকতে পারে না। এক পক্ষ হক এবং অপর পক্ষ বাতিল থাকে। হকে হকে কখনো যুদ্ধ হয় না। এটা পৃথিবীর সৃষ্টির ইতিহাসে কোথাও দেখাইতে পারবেন না।

মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন,—

‎وَمَن يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُّتَعَمِّدًا فَجَزَآؤُهُۥ جَهَنَّمُ خَٰلِدًا فِيهَا وَغَضِبَ ٱللَّهُ عَلَيْهِ وَلَعَنَهُۥ وَأَعَدَّ لَهُۥ عَذَابًا عَظِيمًا

অর্থ: “যে ব্যাক্তি জ্ঞাতসারে মোমিন কে হত্যা করে তাহার পুরষ্কার জাহান্নাম, উহাতে সে স্থায়ী হইয়া থাকিবে এবং তাহার উপরে আল্লাহর গজব ও লানত, এবং তাহার জন্য মহা শাস্তি প্রস্তুত করিয়াছেন৷”-সূরা আন নিসা ঃ ৯৩।

পবিত্র কোরআন মতে , একজন মুমিনের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ করে সে কাফের ।আর ইমাম আলী (আঃ) শুধু মুমিন নন বরং সমগ্র মুমিনগণের মাওলা , নেতা ও ইমাম ।কিন্ত এই মুয়াবীয়া সেই মাওলা আলী (অাঃ) এর বিরুদ্ধেই তার বিশাল গুন্ডাবাহিনী নিয়ে যুদ্ধে লিপ্ত হন , যা সিফফিনের যুদ্ধ বলে পরিচিত ।এবার আপনি ই সিদ্ধান্ত নেন কোরআন মানবেন নাকি মুয়াবিয়াকে ভালবেসে যাবেন।কারণ মোয়াবিয়া সিফফিনের যুদ্ধে মাওলা আলীর পক্ষের হাজার হাজার বিখ্যাত সাহাবীদেরকে হত্যা করেছে। তাছাড়া সে এই যুদ্ধে সবাই ছিলেন প্রথম শ্রেণীর মুমিন। সিফফিনের যুদ্ধে আপনি কার পক্ষ নিবেন মাওলা আলী এর দল নাকি যে দল হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসির রাঃ কে শাহাদত করেন। যার সম্পর্কে রাসুলাল্লাহ সাঃ ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন।

আম্মার সম্পর্কে রাসুলে পাক সাঃ বলেন,

“হায়! হায়! সত্যত্যাগী একদল বিদ্রোহী আম্মার কে হত্যা করবে।আম্মার তাদের জান্নাতের দিকে আহ্বান করবে তারা আম্মার কে জাহান্নামের দিকে ডাকবে। তার হত্যাকারী এবং তার অস্র ও পরিচ্ছেদ খুলে ফেলবে তারা জাহান্নামের অধিবাসী।”

সূত্রঃ-বুখারি ৮ম খন্ড, পৃ ১৮৫-১৮৬/তিরমীজী, ৫ম খন্ড পৃ ৬৬৯/মুসনাদে হাম্বল, ২য় খন্ড পৃ ১৬১,১৬৪,২৬৪,৩য় খন্ড পৃ ২২-২৮।

প্রায় ২৫ জন রাবী থেকে বর্ণিত হাদিস শরীফটি নিঃসন্দেহে মুতাওয়াতির হাদিস যার ব্যাপারে সন্দেহ রাখলেও ঈমান থাকবেনা এই হাদিস শরীফ দ্বারা প্রমাণিত যে, সেই বিদ্রোহী গ্রুপ কোনটা? কে সেই বিদ্রোহী গ্রুপের নেতৃত্বে ছিল?আর কেহ নয়, কাফের এজিদের বাপ।রাসুল (সাঃ) এর প্রিয় মুমিন সাহাবী হযরত আম্মাার (রাঃ) মুয়াবীয়ার বিরুদ্ধে সিফফিনের যুদ্ধে শহীদ হন । মৃত্যুর সময় আম্মাার (রাঃ) কে এক ফোটা পানিও দেয়া হয় নাই।এরপরেও একজন বিবেক সম্পন্ন মানুষ কিভাবে মহানবী (সাঃ) এর আপন চাচা হযরত হামজাহ (রাঃ) এর কলিজা ভক্ষনকারীনী পতিতা সর্দারনী হিন্দার জারজ পুত্র মূয়াবীয়াকে কাতেবে ওহী মার্কা রাঃআনহু সনদযুক্ত সাহাবা হিসাবে অভিহিত করেন!জারজ মুয়াবিয়া কে মুসলিম মনে করা আমরা কুফরি মনে করি। আজ এ পর্যন্ত ।
সকলকে ধন্যবাদ ও সালাম জানিয়ে আজকের মত বিদায়।


 

নিবেদনে

সৈয়দ হোসাইন উল হক
এম-ফিল,ইসলামিক স্টাডিজ এন্ড হিস্টোরি,অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি।

মতামত দিন