প্রবন্ধ

হবিগঞ্জ থানা পরিচিতি

হবিগঞ্জ থানা পরিচিতি

সৈয়দ আহমদুল হক ও সৈয়দ গাজীউর রহমান [তরফের এই দুই প্রতিভার গবেষণামূলক যৌথ প্রবন্ধ]।

একটি ঐতিহাসিক জনপদের নাম হবিগঞ্জ। এ থানায় জন্ম গ্রহণকারী হাজারাে কীর্তিমান পুরুষগণ ধর্ম, রাজনীতি, শিক্ষা, সাহিত্য ও সমাজসেবা তথা মানবকল্যাণে অবদান রেখে ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। ঐতিহাসিক সুলতানশী হাবেলীর প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ সুলতানের অধঃস্থন পুরুষ সৈয়দ হেদায়েত উল্লাহর পুত্র সৈয়দ হবিব উল্লাহ খােয়াই নদীর তীরে একটি গঞ্জ বা বাজার প্রতিষ্ঠা করেন। কালক্রমে তা ‘হবিবগঞ্জ থেকে হবিগঞ্জ নামে অভিহিত হয়।
[উৎসঃ জালালাবাদের কথাঃ দেওয়ান নূরুল আনােয়ার হােসেন চৌধুরী ও বাংলাদেশ পপুলেশন সেন্সসঃ থানা সিরিজঃ সিলেট জেলাঃ ‘১ম অংশঃ XL IX ও হবিগঞ্জের মুসলিম মানসঃ সৈয়দ মােস্তফা কামাল।]

সিলেট শহর থেকে হবিগঞ্জ থানা ও জেলা শহরের দূরত্ব ১৬১ কিঃমিঃ।

সীমাঃ হবিগঞ্জ সদর থানার উত্তরে হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানা ও নবীগঞ্জ থানা।। দক্ষিণে-হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট ও মাধবপুর থানা। পূর্বে-হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল থানা এবং পশ্চিমে-হবিগঞ্জ জেলার লাখাই ও কিশােরগঞ্জ জেলার সীমারেখা।

অবস্থানঃ ২৪°১৫-২৪°২৭ ডিগ্ৰী উত্তর অক্ষাংশ ও ৯১°১৯-৯১°৩০ ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। থানার মােট আয়তনঃ ২৪৪.০৫ বর্গ কিলােমিটার। [৬২,৭০৯ একর ভূমির আয়তন নিয়ে গঠিত সুজলা সুফলা এ থানার জমিন।

প্রতিষ্ঠাকালঃ আসাম প্রাদেশিক সরকারের গেজেট নােটিফিকেশন নম্বর ২৭৩৩ তাং ৭ এপ্রিল ১৮৯৩ খৃষ্টাব্দ। প্রাচীন নথিপত্রে দেখা যায় থানা প্রতিষ্ঠা সন ১৮৯০ খৃষ্টাব্দ। তখন সদর দফতর ছিল লশকরপুরের নিকট কোট আন্দর নামক স্থানে। পরে ১৮৯৩ খৃষ্টাব্দে যােগাযােগের সুবিধা হেতু ‘হবিবগঞ্জে স্থানান্তর করা হয়।হবিগঞ্জ থানা ১০টি ইউনিয়ন পরিষদ ও ১টি পৌরসভা সমন্বয়ে গঠিত। ১৯৯১ ইং সনের পপুলেশন সেন্সস অনুসারে থানার মােট জনসংখ্যা ২,২৫,৪৬৯ জন। তন্মধ্যে পুরুষ। ১,১৬,৬৯০ জন ও মহিলা ১,০৮৭৭৯ জন। জনবসতির ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলােমিটারে ৭৩১ জন। হবিগঞ্জ পৌরসভার আয়তন ওয়ার্ডওয়ারী, ওয়ার্ড নং ১-৬৭৩ একর, ওয়ার্ড নং ২৪৩৯ একর, ওয়ার্ড নং ৩-৬৪৬ একর। লােকসংখ্যাঃ ওয়ার্ড-১ মােট ১৪,১৩৮ জন। পুরুষ-৭৪০৪ জন, স্ত্রীলােক-৬৭৩৪ জন। ওয়ার্ড ২-মােট জনসংখ্যা-১০৮৩৮ জন। পুরুষ-৫৭৮০ জন, স্ত্রীলােক-৫০৫৮ জন, ওয়ার্ড ৩-মােট লােকসংখ্যা ১০,৯৫২ জন। পুরুষ-৫৯৬৫ জন, স্ত্রীলােক-৪৯৮৭ জন।হবিগঞ্জ থানার মােট আয়তন-৬২,৭০৯ একর। পরিবারের সংখ্যা-৩৮,৯৭৭টি। হবিগঞ্জ শহরে ৬০৭০টি এবং অবশিষ্ট অর্থাৎ ৩২, ৯৬০টি পরিবার গ্রামাঞ্চলে বসবাস করেন।

এককালে প্রবাদ ছিল”জাগার নাম তরপ, ঘরে ঘরে হরফ”
অর্থাৎ এ অঞ্চলের (তরপের) ঘরে ঘরে জ্ঞান চর্চা হতাে। শিক্ষাদীক্ষা ও আধ্যাত্মিক সাধনায় এ অঞ্চল প্রাচীনকাল থেকেই দেশ-বিদেশে খ্যাতিমান। বর্তমানে হবিগঞ্জ থানার শিক্ষার হার ৩০.০৬%। মােট গ্রামের সংখ্যা ৩১০টি ও মৌজার সংখ্যা ১৬১টি।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানঃ কলেজ ৩টি। হাইস্কুল সরকারী ১টি (বালক) ও ১টি (বালিকা) উচ্চ বিদ্যালয়। বেসরকারী ৮টি (বালক) ও ১টি (বালিকা) উচ্চ বিদ্যালয়। জুনিয়র হাইস্কুল ৪টি। বেসরকারী মাদ্রাসাঃ আলীয়া বেসরকারী ২টি, দাখিল বেসরকারী ৬টি, কওমী (বেসরকারী) টাইটেল মাদ্রাসা ৩টি। সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৯৩টি এবং বেসরকারী ২৩টি। এছাড়া হবিগঞ্জ শহরে প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য একটি প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট রয়েছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-১, হবিগঞ্জ সরকারী বৃন্দাবন কলেজ ২. হবিগঞ্জ মহিলা কলেজ ৩. শায়েস্তাগঞ্জ কলেজ।

হাইস্কুলঃ ১. হবিগঞ্জ সরকারী হাইস্কুল ২. হবিগঞ্জ (বি.কে.জি.সি) সরকারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ৩. হবিগঞ্জ হাইস্কুল ৪. জে.কে. এন্ড এইচ.কে. হাইস্কুল ৫. পৈল হাইস্কুল ৬, উচাইল হাইস্কুল ৭. শৈলজুরা মােজাহের হাইস্কুল ৮, শায়েস্তাগঞ্জ হাইস্কুল ৯. সুকরিপাড়া হাইস্কুল ১০. শাহজালাল হাইস্কুল, চরহামুয়া ১১. হবিগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ১২. শায়েস্তাগঞ্জ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়।

জুনিয়র হাইস্কুলঃ ১. আশেরা জুনিয়র হাইস্কুল ২. নূরপুর জুনিয়র হাইস্কুল ৩. কবি নজরুল জুনিয়র হাইস্কুল, বহুলা ৪. রিচি জুনিয়র হাইস্কুল।

মাদ্রাসাঃ ১. হবিগঞ্জ দারুস সুন্নাহ আলীয়া মাদ্রাসা ২. শায়েস্তাগঞ্জ আলীয়া মাদ্রাসা ৩. শাহপরান দাখিল মাদ্রাসা, উমেদনগর ৪. শাহজালাল দাখিল মাদ্রাসা, ব্রাহ্মণঢুরা ৫. উচাইল দাখিল মাদ্রাসা ৬. শাহজালাল ইবতেদায়ী মাদ্রাসা, উমেদনগর ৭. পৈল জাহেদীয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা, পৈল ৮, মাদ্রাসায়ে হিফজুল কোরআন, কোর্ট মসজিদ, হবিগঞ্জ ৯. সুরাবৈ সুন্নিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ১০. লশকরপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসা ১১. শায়েস্তাগঞ্জ হাফেজিয়া মাদ্রাসা ১২. কাটাখালি হাফেজিয়া মাদ্রাসা ১৩. উমেদনগর টাইটেল মাদ্রাসা ১৪. জামেয়া সইদীয়া রায়ধর ১৫, কুতুবের চক মাদ্রাসা, শায়েস্তাগঞ্জ ১৬. আলীম উদ্দীন দাখিল মাদ্রাসা, বাতাশহর।কিন্ডারগার্ডেন ২টিঃ দি রােজেস ও সৈয়দ নাসির উদ্দিন রঃ একাডেমী।

হবিগঞ্জ থানার মােট মসজিদের সংখ্যা ২১৩টি। ঐতিহাসিক উচাইল শংকরপাশা শাহী মসজিদের কিঞ্চিত বিবরণ সংগত কারণেই প্রাসঙ্গিক। মসজিদটি বাংলাদেশ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত পুরাকীর্তি। যার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সরকারের প্রত্নতত্ব অধিদপ্তরের আওতাধীন। মসজিদটি উচাইল শংকরপাশা গ্রামে অবস্থিত। এতদঞ্চলে সুলতানী আমলে তৈরী অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। এ মসজিদের দেয়ালে স্থাপিত শিলালিপির সম্পূর্ণ পাঠোদ্ধার এখনাে সম্ভব না হলেও মসজিদটির নির্মাণ কৌশল, দেয়ালে পােড়া মাটির অলংকরণ ইত্যাদি বিবেচনায় সুলতানী আমলের তথা বাংলার সুলতান আলাউদ্দিন হােসেন শাহ’র আমলে (১৪৯৩-১৫১৯] নির্মিত বলে ঐতিহাসিকগণ একমত। মূল মসজিদের অভ্যন্তরীণ মাপ ২১-৬ x ২১-৬ এবং এর সম্মুখে ২১-৬ x ৫-৩ মাপের একটি বারান্দা আছে। মসজিদের দেয়াল ৫-৩ পুরু। কেন্দ্রীয় কক্ষের উপরে একটি বড় গম্বুজ ও বারান্দা, তিনটি অপেক্ষাকৃত ছােট গম্বুজ আছে। কেন্দ্রীয় কক্ষের পশ্চিম দেয়ালে তিনটি মেহরাব এবং পূর্ব উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে তিনটি এবং উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে একটি করে দরজা আছে। কেন্দ্রীয় কক্ষের চারকোণে (বাহিরদিকে) চারটি ও বারান্দার দু’কোণে অষ্ট কোণাকৃতির কর্ণার টারেট আছে। সম্ভবতঃ এটাই বাংলাদেশের প্রাচীনতম মসজিদ ও মুসলিম স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন। মসজিদ প্রাঙ্গণে সরকার কর্তৃক বিজ্ঞপ্তির সাইনবাের্ড লেখা রয়েছেঃউচাইল শংকর পাশা ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ।

উচাইল শংকর পাশা ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ।

উচাইল শংকর পাশা ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ

মন্দির ১৭টি এবং গীর্জা ১টি। শ্রী শ্রী মহাপ্রভুর আখড়া, শ্রী শ্রী রাধা গােবিন্দ জিউর আখড়া, শ্রী শ্রী ব্রজানন্দ স্বামীর আখড়া বিশেষভাবে উল্লেখযােগ্য। এছাড়া হবিগঞ্জ শহরস্থিত কৃষিব্যাংক সংলগ্ন রামকৃষ্ণ মিশনটি শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের অনুসারীদের প্রধান ধর্মীয় পীঠস্থান। এখানে বছরের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি মহাসমারােহে উদ্যাপিত হয়ে থাকে।

স্মরণাতীতকাল থেকে যে সমস্ত ধর্মীয় কীর্তিমান পূর্বসূরীদের কারণে এ থানা গর্ববােধ করতে পারে, তাদের মধ্যে ঐতিহাসিক সুলতানশী হাবেলীর প্রতিষ্ঠাতা মধ্যযুগীয় মহাকবি সৈয়দ সুলতান রঃ, লস্করপুর হাবেলীর সৈয়দ মুসা রঃ, পৈল হাবেলীর সৈয়দ শাহ নূরী ও পীর বাদশা রঃ, মসাজান গ্রামের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ গােয়াস রঃ, দাউদনগর হাবেলীর সৈয়দ শাহ দাউদ রঃ, আউশপাড়ার সৈয়দ শাহ মাইজলা খন্দকার রঃ, ফকিররাবাদের সৈয়দ ইয়াকুব উরফে শাহ ফকীর রঃ, সুরাবই গ্রামের সৈয়দ শাহ করার রঃ(ফুলশাহ)পুড়াসুন্দার শাহ সালেহ জঙ্গি রঃ ও ফুরকান শাহ রঃ প্রমুখ বিশেষভাবে উল্লেখযােগ্য। এছাড়া শংকরপাশা শাহী মসজিদের পাশে শায়িত আধ্যাত্মিক পুরুষ হযরত শাহজালাল রঃ-এর সঙ্গীয় দরবেশ শাহ মজলিস আমীন রঃ– নাম বিশেষভাবে উল্লেখযােগ্য। উল্লেখিত প্রায় বুজুর্গানের মাজার শরীফেই বৎসরের নির্দিষ্ট তারিখে ওরস উদ্যাপিত হওয়ার রেওয়াজ প্রচলিত আছে। অগণিত আশেকান ও ভক্তবৃন্দের কাছে মাজারগুলাে জিয়ারতগাহ হিসেবে স্মরণাতীতকাল থেকে শ্রদ্ধার আসনে মর্যাদাবান।

হবিগঞ্জ সদর থানার যােগাযােগ ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে উন্নত। এ থানায় ২৭ কিঃ মিঃ রেলপথ, ৩২ কিঃ মিঃ পাকা সড়ক ও ৯৬ কিঃ মিঃ কাঁচা রাস্তা রয়েছে।
পাকা রাস্তাঃ ১. হবিগঞ্জ-শায়েস্তাগঞ্জ-লস্করপুর সিলেট ঢাকা রাস্তা] ২. শায়েস্তাগঞ্জশাহজিবাজার-শায়েস্তাগঞ্জ-জগদীশপুর রাস্তা ৩. হবিগঞ্জ-রিচি লাখাই রাস্তা] ৪. হবিগঞ্জকালারডুবা বািনিয়াচঙ্গ রাস্তা] ৫. হবিগঞ্জ-আলমপুর (নবীগঞ্জ রাস্তা) ৬. হবিগঞ্জ বাসস্টেড থেকে গরুর বাজার পৌরসভার পিছনের সড়ক] ৭. শায়েস্তানগর-মাছুলিয়া সেতু পৈল রাস্তা]

কাঁচা রাস্তাঃ ১. ধুলিয়াখাল-মীরপুর ২. শাহজীবাজার (সুতা)-লাদিয়া-লালচান– শাহজীবাজার রাস্তা ৩. শাহজীবাজার-পুড়াইখলা বাজার ৪. শাহজীবাজার-শেরপুর ৫. শ্রীরামপুর-কাটাখালি ৬. মাছুলিয়া-কটিয়াদী বাজার (পৈল রাস্তা] ৭. বহুলা-গােপালগঞ্জ বাজার ৮. আনােয়ারপুর রেল লাইন-গােপালগঞ্জ বাজার ১. পাইকপাড়া-নছরতপুর রেল গেইট ১০. ওলিপুর রেলগেইট-উচাইল তথা জিলাগঞ্জের বাজার ১১. নিজামপুর-রাজিউড়াহাসপাতাল ১২. রাজিউড়া-লাখাই সড়ক ১৩. হবিগঞ্জ-চানপুর-কাশীপুর ১৪, রামপুরটংগির ঘাট। ১৫. জিলাগঞ্জ বাজার-সানাবই রাস্তাগুলাে বিশেষভাবে উল্লেখযােগ্য। এতদ্ভিন্ন আরাে গােটা বিশেক গ্রামীন ছােট রাস্তা রয়েছে।

রেল স্টেশনঃ ৬টি। যথাঃ ১. শায়েস্তাগঞ্জ জংশন ২. সুতাং ৩. পাইকপাড়া ৪. ধুলিয়াখাল। ৫, হবিগঞ্জ কোর্ট এবং ৬, হবিগঞ্জ বাজার। রেলস্টেশন ছাড়াও হবিগঞ্জ ৪টি লঞ্চঘাট রয়েছে। ১. কোর্ট স্টেশন ঘাট ২. হবিগঞ্জ গরুর বাজার ঘাট ৩. রামপুর ঘাট ও ৪. কালারডুবা ঘাট।এ থানার যােগাযােগ ব্যবস্থা মােটামুটি উন্নত। ডাক, তার, টেলিগ্রাফ প্রভৃতি ক্ষেত্রেও থানার অবস্থান সন্তোষজনক। হবিগঞ্জ জেলা সদরে একটি টেলিফোন এক্সচেঞ্জ ও শায়েস্তাগঞ্জে অপরটি অবস্থিত। টেলিফোন এক্সচেঞ্জ দু’টিতে টেলিগ্রাফ অফিস রয়েছে। হবিগঞ্জে একটি প্রধান ডাকঘর ও তিনটি সাব অফিস রয়েছে। তন্মধ্যে একটি নৈশ এবং ১৫টি ব্রাঞ্চ পােস্ট অফিস রয়েছে।

ব্রাঞ্চ পােস্ট অফিস সমূহঃ ১. আউশপাড়া ব্রাঞ্চ পােস্ট অফিস ২. সুরাবই ৩. পৈল ৪. বহুলা ৫. বেকীটেকা ৬. রিচি ৭. মসাজান ৮, গােপায়া ৯, ব্রাহ্মণডুরা ১০, হবিগঞ্জ কালীবাড়ী ১১. ফকিরাবাদ ১২. লস্করপুর ১৩. শায়েস্তাগঞ্জ সািব পােষ্ট অফিস) ১৪. সুঘর ১৫, শরিফাবাদ।
হবিগঞ্জে একটি ওয়ারলেস স্টেশন, একটি মাইক্রওয়েভ স্টেশন ও পুলিশ ওয়ারলেস । স্টেশন রয়েছে। উল্লেখ্য যে, এগুলাে জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত নয়। শুধুমাত্র সরকারী কাজে ও আন্তঃজেলা যােগাযােগ রক্ষাকল্পে ব্যবহৃত হয়। এ থানায় ১টি পৌরসভা ছাড়া বাদবাকী সবই গ্রাম। এখানে গ্রামের সংখ্যা ২৮২টি। মৌজা ১৪২টি।
জমির পরিমাণঃ ১. ফসলী-৩২৪৪৫ একর ও ২. খাস জমি-৪০৮ একর। উল্লেখ্য, হবিগঞ্জ সদর থানায় অনাবাদী জমি আছে বলে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। এখানে হাওর, বাওর, বন নেই বললেই চলে। তবে একেবারে শূণ্যও নয়। ঘুংগীজুরি হাওর এবং রঘুনন্দন পাহাড় আংশিক হবিগঞ্জ থানার ভৌগলিক সীমারেখায় বিদ্যমান থেকে এ অঞ্চলকে চতুর্মুখী সৌন্দর্যে ঐশ্বর্যশালী হতে সহায়তা করেছে।

ভূমি অফিস বা তহশীল অফিসঃ ১. লুকড়া ভূমি অফিস ২. গােপায়া ভূমি অফিস ৩. রাজিউড়া (সুতাং) ভূমি অফিস ৪. শায়েস্তাগঞ্জ ভূমি অফিস ও ৫. সদর ভূমি অফিস। এই মােট ৫টি রাজস্ব বিভাগীয় প্রাক্তণ তহশীল অর্থাৎ বর্তমান ভূমি অফিস বিদ্যমান।জনহিতকর প্রতিষ্ঠানঃ জনসাধারণের উপকারের জন্য এখানে নানা রকমের জনহিতকর প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলাের মধ্যে সমবায় সমিতি, হাসপাতাল, পল্লীস্বাস্থ্যকেন্দু, মাতৃমঙ্গল ও বিভিন্ন এনজিও প্রতিষ্ঠান উল্লেখযােগ্য।সমবায় সমিতিঃ ৩০টি। কেন্দ্রীয় সমিতি বি.আর.ডি.বি-১টি। সমবায় বিভাগ-৩টি, প্রাথমিক সমিতি-৯০টি। সমবায় বিভাগ-৭৪টি। হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি যার গ্রাহক ২৬০০০, অবস্থান শায়েস্তাগঞ্জ।

হাসপাতালঃ হবিগঞ্জ সদরে ১টি হাসপাতাল, গ্রামাঞ্চলে ২টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ৬টি পরিবার কল্যাণ পরিকল্পনা কেন্দ্র ও ৩টি মাতৃমঙ্গল রয়েছে।

পশু হাসপাতালঃ পশু চিকিৎসার জন্য হবিগঞ্জে পশু হাসপাতাল ও শায়েস্তাগঞ্জ পশু চিকিৎসালয় এ দু’টি হাসপাতাল রয়েছে।

মাতৃমঙ্গলঃ মাতৃমঙ্গল সরকারী ১টি ও রেডক্রিসেন্ট পরিচালিত এনজিও ২টি। গ্রামীণ ব্যাংক শাখা ৩টি। ১টি গােপায়া বাজারে, রিচি ইউনয়িন অফিসে ১টি এবং অন্যটি শায়েস্তাগঞ্জে।

ব্র্যাকঃ হবিগঞ্জ শহরের রাজনগরে আঞ্চলিক কার্যালয় সহ সমগ্রথানাব্যাপী-৫টি এলাকায় কার্যালয় রয়েছে।

আশাঃ এই সংস্থার মােট ৫টি ইউনিট বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক কর্মকান্ডে নিয়ােজিত রয়েছে।
খাদ্য গুদাম ৩টি ও সার গুদাম ১টি। মৎস্য খামার ও পােনা উৎপাদনকেন্দ্র সরকারী ১টি, বেসরকারী ৪টি।

১৭৯০ খৃষ্টাব্দে তৎকালীন শ্রীহট্ট জেলা ১০টি রাজস্ব জেলায় বিভক্ত হয়েছিল। তন্মধ্যে লস্করপুর এবং শংকরপাশা রাজস্ব জেলা ২টির প্রধান কার্যালয় ছিল যথাক্রমে লস্করপুর ও উচাইল শংকরপাশা গ্রামে। উল্লেখ্য, এ স্থান দু’টিও বর্তমানে হবিগঞ্জ সদর থানাধীন। এছাড়া সুলতানী আমলে বৃহত্তর সিলেটের সুলতানশী হাবিলীতে দেওয়ানী আদালত এবং লস্করপুরে ফৌজদারী আদালত ছিল। থানার নিয়ন্ত্রণাধীন ৩টি পুলিশ ফাঁড়ী আছে।

ইউনিয়ন পরিষদ ও চেয়ারম্যানগণঃ ১. লুকড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানগণঃ আলহাজ্ব আলাউদ্দিন, মােঃ কদর আলী, মােঃ রইছ মিয়া, বর্তমান চেয়ারম্যান আবিদুল ইসলাম। ২. রিচি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানগণঃ ফিরােজ মিয়া, মরহুম আব্দুল আলী, রইছ মিয়া, বর্তমান চেয়ারম্যান মােঃ আতাউর রহমান নিম্বর। ৩, তেঘরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানগণঃ মােঃ আব্দুন নূর, মােঃ ছুরুক আলী, শ্রী মতিলাল রায়, হীরা মিয়া, রইস উদ্দিন, বর্তমান চেয়ারম্যান মর্তুজ আলী। ৪. পৈল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানগণঃ মােঃ আব্দুল জব্বার, সৈয়দ আহমদুল হক, মােঃ আব্দুল জব্বার, বর্তমান চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমদুল হক। ৫. গােপায়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানগণঃ মােঃ ইউনুছ চৌধুরী, মরহুম আব্দুল মান্নান, বর্তমান চেয়ারম্যান এনামুল হক। ৬. রাজিউড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানগণঃ শ্রী প্রমােদ রঞ্জন চক্রবর্তী, মহরম আলী, শ্রী বকুল দাস, বর্তমান চেয়ারম্যান রেজাউল করিম। ৭. নূরপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানগণঃ সৈয়দ গাজিউর রহমান, বর্তমান চেয়ারম্যান গােলাম কিবরিয়া চৌধুরী বিলাল। ৮. শায়েস্তাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানগণঃ মরহুম দিদার মিয়া, শ্রী ক্ষিরােদ কুমার সােম, আব্দুর রেজ্জাক রাজা মিয়া,সৈয়দ ওলিউর রহমান,বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুর রেজ্জাক রাজা মিয়া। ৯. নিজামপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানগণঃ সৈয়দ আলাউদ্দীন আহমদ আলী মিয়া,মােঃ রহিম চৌধুরী,আলহাজ্ব জবরু মিয়া, বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম চৌধুরী। ১০, লস্করপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানগণঃ মােঃ ফরিদ মিয়া, মরহুম তফাজুল ইসলাম, মােঃ ফরিদ মিয়া, আমজদ আলী মজনু মিয়া, মােঃ ফরিদ মিয়া, বর্তমান চেয়ারম্যান আমজাদ আলী মজনু মিয়া।।হবিগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান শহীদ চৌধুরী। অধুনাবিলুপ্ত হবিগঞ্জ সদর থানা উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন সৈয়দ গাজিউর রহমান। অধুনাবিলুপ্ত হবিগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলেন সৈয়দ আহমদুল হক।
স্বাধীনতা উত্তর হবিগঞ্জ সদর থানার সি.ও-ইউ.এন.ও এবং টি.এন.ও গণঃ ১. নাজির হুসেন চৌধুরী ২.ভাষা সৈনিক,বীর মুক্তিযোদ্ধা,জনাব জয়নাল আবেদীন খান।৩.ছায়েদুল হক ৪.আব্দুর রশিদ ৫.লােকমান আহমদ ৬.এ.কে.এম দেলওয়ার হুসেন ৭. মােহাম্মদ আবু তাহের ৮.ফয়েজুর রহমান চৌধুরী ৯.মােঃ ওয়াজেদ আলী খাঁন ১০.শ্রী নারায়ণ চন্দ্র দে ১১. এ.এম. বদরুদ্দোজা। সাংবাদিকতার জগতে হবিগঞ্জের ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের।এই থানার পৈল গ্রামে জন্মগ্রহণকারী বিপিন পাল তৎকালীন বৃটিশ ভারতে একজন খ্যাতিমান সাংবাদিক ছিলেন।

হবিগঞ্জ শহর

হবিগঞ্জ শহর

বর্তমানে হবিগঞ্জে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকার প্রায় ২৯ জন সাংবাদিক রয়েছেন। এছাড়াও রয়েছেন ছয়জন সম্পাদক- যাদের সম্পাদনায় হবিগঞ্জ থেকে সাপ্তাহিক যথা-স্বাধিকার, স্বদেশবার্তা, দৃষ্টিকোণ, খােয়াই, হবিগঞ্জ সমাচার, জনতার দলিল এবং পাক্ষিক প্রয়াস ও মৃত্তিকা সগৌরবে প্রকাশিত হয়ে আসছে। এসব পত্র-পত্রিকার সঙ্গে গ্রামাঞ্চলের আরাে তরুণ সাংবাদিকতা পেশায় আছেন। বর্তমানে হবিগঞ্জ সদরে ও শায়েস্তাগঞ্জে দু’টি প্রেসক্লাব রয়েছে। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রেসক্লাবদ্বয়ের কর্মকর্তা নির্বাচিত হন। পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, শিক্ষা-সংস্কৃতিতে হবিগঞ্জ উল্লেখযােগ্য ভূমিকা রেখে আসছে। হবিগঞ্জ মিউনিসিপ্যাল পাবলিক লাইব্রেরীটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী গ্রন্থাগার। বহু দুষ্প্রাপ্য পুস্তকাদিতে সমৃদ্ধ এ গ্রন্থাগারটি এলাকার জ্ঞান পিপাসুদের অন্তরের খােরাক বিতরণে নিয়ােজিত। এছাড়া হবিগঞ্জে উল্লেখযােগ্য যে আরাে ক’ টি পাঠাগার রয়েছে তন্মধ্যে বিপিন চন্দ্র পাল স্মৃতি পাঠাগার, পৈল, (প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ আহমদুল হক), নূরপুর ইউনিয়ন পল্লী পাঠাগার ব্রাহ্মণডুরা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন লাইব্রেরী হবিগঞ্জ ও হবিগঞ্জ সরকারী পাঠাগারের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযােগ্য।

শিল্প কারখানাঃ এ থানায় ৩টি ওয়েল মিল [একটি সম্প্রতি অকেজো] ৫টি অটোমেটিক রাইছ মিল, ১টি রাইছ এন্ড ফ্লাওয়ার মিল, ১টি বিস্কুট ফ্যাক্টরী, ৫টি মাঝারী বেকারী, ৪টি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কসপ ও শায়েস্তাগঞ্জ ঠান্ডা গুদাম উল্লেখের দাবী রাখে।

বিসিকঃ বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থাধীন বিসিক শিল্প এলাকা ধুলিয়াখালে অবস্থিত। এতে প্লট সংখ্যা ৬৬টি। মৃৎশিল্প বিক্রয় কেন্দ্র ১টি সুতাং নামক স্থানে।সাব রেজিষ্ট্রী অফিস ১টি ও সার্কিট হাউজ ১টি এবং জেলা পরিষদ রেষ্টহাউজ ১টি। জেলা সদরের আওতাভূক্ত এছাড়া পানি উন্নয়ন বাের্ডের, বি.এ.ডি.সি’র, সড়ক ও জনপথ বিভাগের এবং রেল বিভাগের রেস্ট হাউজ আছে।

খৈয়াই নদী

খৈয়াই নদী

নদ নদীঃ থানার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ১. খােয়াই ২. সুতাং ৩, করাঙ্গী নদী।

হাট বাজারঃ মােট ১৭টি। তন্মধ্যে প্রসিদ্ধ হাট-বাজারগুলাে হচ্ছেঃ ১. শাহজীবাজার সুতাং ২. পুরাইকোলা বাজার ৩. বাছিরগঞ্জ বাজার ৪. আলীগঞ্জ বাজার ৫. জিলাগঞ্জের বাজার ৬. বেকীটেকা বাজার ৭. হবিগঞ্জ পুরান বাজার ৮, শায়েস্তাগঞ্জ পুরান বাজার ৯. কটিয়াদী বাজার ১০, দাউদনগর বাজার ১১. কেশবপুর গরুর বাজার ১২. শাহাদাতগঞ্জ বাজার, (অধুনা বিলুপ্ত)মসাজান বিশেষভাবে উল্লেখযােগ্য।

থানার ইউনিয়ন পরিষদঃ

পূর্বকথাঃ বৃটিশ আমলে গ্রামীন জনগােষ্ঠীকে প্রশাসনিক আওতায় আনার লক্ষ্যে প্রথমে পঞ্চায়েত প্রথা প্রবর্তন করা হয়। নির্দিষ্ট এলাকায় একজন সরপঞ্চ নিযুক্ত হতেন। তিনি চৌকীদারী টেক্স আদায়, গ্রাম্য সালিশ বৈঠক ও সরকারকে বিভিন্ন কাজে সহায়তা করতেন। তার অধীনে ছিল কয়েকজন চৌকিদার। সরপঞ্চের আওতাভূক্ত এলাকাকে বলা হতাে সার্কেল। প্রত্যেকটি থানা কয়েকটি সার্কেলে বিভক্ত ছিল। ১৯৪৭ ইং সনে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর বৃহত্তর সিলেট জেলা ব্যতিত তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে ইউনিয়ন বাের্ড সিষ্টেম চালু ছিল। ইউনিয়ন বাের্ডের প্রধানকে বলা হতাে প্রেসিডেন্ট। প্রত্যেক এলাকায় কয়েকজন সহকারী সরপঞ্চও থাকতেন। এরা ছিলেন জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি।
১৯৬০ ইং সনে স্থানীয় সরকার পদ্ধতির সমন্বয় কল্পে ইউনিয়ন বাের্ড ও সরপঞ্চ প্রথা বিলুপ্ত করে প্রচলিত হয় ইউনিয়ন কাউন্সিল। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতেন ইউনিয়ন সদস্যদের ভােটে। এলাকার শান্তি-শৃংখলা, গ্রামীন বিচার ব্যবস্থা, চৌকিদারী টেক্স আদায়, জন্ম মৃত্যুর হিসাব সংরক্ষণ, নাগরিকত্ব সার্টিফিকেট প্রদান ও রাস্তাঘাট, পুল-কালভার্ট নির্মাণ প্রভৃতি উন্নয়নমূলক কাজে তাদের ক্ষমতা দেয়া হয়। ইউনিয়ন কাউন্সিলের সদস্যদের নিয়ে গঠন করা হয় ইলেকটরেল কলেজ। তাদের ভােটে নির্বাচিত হতেন দেশের প্রেসিডেন্টও এম.এন.এ এবং এম.পি.এ গণ। এই পদ্ধতির নাম ছিল মৌলিক গণতন্ত্র বা বুনিয়াদি গণতন্ত্র।
১৯৭০ সনে জনগণের সরাসরি ভােটে এম.এন.এ ও এম.পি.এ নির্বাচিত প্রথা চালু হয়। ১৯৭৩ সনে ইউনিয়ন কাউন্সিল নাম পরিবর্তন করে নামকরণ করা হয় ইউনিয়ন পরিষদ। প্রত্যেকটি ইউনিয়ন তিনটি ওয়ার্ডে বিভক্ত। প্রতি ওয়ার্ডে ৩ জন ইউপি সদস্য এবং ১ জন করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার পর ১৯৭১-১৯৭৩ পর্যন্ত ইউনিয়ন প্রশাসক ও রিলিফ চেয়ারম্যান হিসেবে সরকার মনােনীত ব্যক্তিগণ দায়িত্ব পালন করেন।

১.লুকড়া ইউনিয়ন পরিষদঃ আয়তন-৭৫১৩ একর, বাড়ীর সংখ্যা-৩০০৪টি। লােকসংখ্যা-১৭,২৮০ জন। পুরুষ-৮৫৯৪ জন ও মহিলা-৮৬৮৬ জন। শিক্ষার হারঃ ১৫.৬%
মৌজাঃ ১. পশ্চিম আবদারুপ ২. আশেরা ৩. বেকীটেকা ৪. ভাটপাড়া ৫. দাড়ী ৬, ধানুবাদী ৭. বানীফন্দি ৮, ফানড়াইল ৯. ঈশাখারী চক ১০, লুকড়া ১১. মনিরামপুর ১২. শ্যামপুর ১৩, উত্তর ইছাখাড়ী ১৪. উত্তরকোণা।
গ্রামঃ ১. আশেরা ২. বাদলপুর ৩. বেকীটেকা ৪. ভাটপাড়া ৫, জয়নগর ৬, হরিপুর ৭. দাড়ী ৮. বালীকান্দি ৯, গােবিন্দপুর ১০. ফানড়াইল ১১. গােয়ালনগর ১২. গােপালপুর ১৩. জাদবপুর ১৪. লুকড়া ১৫. নাজিরপুর ১৬. মনিরামপুর ১৭. শ্যামপুর ১৮. কাশিপুর ১৯, মথুরনগর ২০. দৌলতপুর ২১. উত্তরকোণা।

২.রিচি ইউনিয়ন পরিষদঃ আয়তন-৪৮৫৬ একর। বাড়ী-৩৫৭০টি। জনসংখ্যা২১,১৭৫ জন। পুরুষ-১০,৭১৫ জন ও মহিলা-১০,৪৬০ জন। শিক্ষার হারঃ ২৫.৫%।
মৌজাঃ ১. আনন্দপুর ২. বগলাখাল ৩. ছােটবহুলা ৪. রিচি ৫. সুলতাননগর ৬. উত্তরকুল।।
গ্রামঃ ১. মােহনপুর ২. দুর্লভপুর ৩, সুলতান মােহাম্মদপুর ৪. আনন্দপুর ৫. নােয়াবাদ ৬. গােপালপুর ৭. বগলাখাল ৮, ছােট বহুলা ৯. কালনী ১০, উত্তর মির্যাপুর ১১. রিচি ১২. জালালাবাদ ১৩, নােয়াগাঁও ১৪. নারায়নপুর ১৫. দূর্গাপুর ১৬, জমির আবদা ১৭. কাশীপুর ১৮. নসরতপুর ১৯, তিতাখাই। |

৩.তেঘরিয়া ইউনিয়ন পরিষদঃ আয়তন-৬৮৪৮ একর। বাড়ীর সংখ্যা-২৫৯৮টি। লােকসংখ্যা-১৮,২১২ জন। পুরুষ-১০,৬৭০ জন, মহিলা-৭৫৪২ জন। শিক্ষার হারঃ ১৮.৯%।
মৌজাঃ ১. পূর্ব আবদারুপ ২. আবদুল্লাহপুর ৩. এড়ালিয়া তেঘরিয়া ৪. ভঘমতপুর ৫. চরগাঁও ৬. দক্ষিণ তেঘরিয়া ৭. উত্তর তেঘরিয়া ৮. হবিগঞ্জ ৯. ইনাতাবাদ ১০. হাইরপুর শিয়াল দাড়িয়া ১১. মাছুলিয়া ১২. মাহমুদাবাদ ১৩, নােয়াখাল ১৪. উত্তর রামনগর ১৫, রামপুর ১৬, শহীরপুর পাঁচপারিয়া ১৭. শিকারপুর ১৮. টঙ্গিরঘাট।
গ্রামঃ ১. সীমেরগাঁও ২. সৈদাবাদ ৩, পূর্ব আবদারুপ ৪. আবদুল্লাহপুর ৫. তেঘরিয়া ৬, ভাগমতপুর ৭. চরগাও ৮. মজলিশপুর ৯, অদরা ১০. উত্তর দেওকুরা ১১. দক্ষিণ দেওকুরা ১২. গােসাইপুর ১৩, গােসাইদার ১৪. জঙ্গলবহুলা ১৫. ইনাতাবাদ ১৬. মাছুলিয়া ১৭, মাহমুদাবাদ ১৮, অনন্তপুর ১৯. কাকিয়ার আব্দা ২০. নােয়াখাল ২১. উত্তর রামনগর ২২, রামপুর ২৩, হরিপুর ২৪, শিয়ালদাড়িয়া ২৫. পাঁচপাড়িয়া ২৬, শিকারপুর ২৭. টঙ্গিরঘাট।

৪.পৈল ইউনিয়ন পরিষদঃ আয়তন-১০,১০৪ একর। বাড়ীর সংখ্যা-২৯০০টি। লােকসংখ্যা-১৭,৩৫১ জন। পুরুষ-৯৪১৮ জন, মহিলা-৭৯৩৩ জন। শিক্ষার হারঃ ১৫.৮% |
মৌজাঃ ১. এড়ালিয়া ২. আসিপুর ৩. আউশপাড়া ৪. বড়কাইত ৫, আটগাঁও (আট ঘড়িয়া] ৬, চান্দপুর ৭, দাড়িয়া ৮, ডেমেশ্বর ৯, নয়াভাগ ১০. পৈল।।
গ্রামঃ ১. এড়ালিয়া ২. আসিপুর ৩. আউশপাড়া ৪. বড়কাইত ৫, নাজিরপুর ৬, আট ঘড়িয়া ৭. চান্দপুর ৮, শরীফপুর ৯, হাতীর থান ১০. দাড়িয়া ১১. পৈল।

৫.গােপায়া ইউনিয়ন পরিষদঃ আয়তন-৬১১৪ একর। বাড়ীর সংখ্যা-৩৪১৭টি। মােট জনসংখ্যা-১৯, ১০২ জন। পুরুষ-৯৬০৮ জন ও মহিলা-৯৪৯৪ জন। শিক্ষার হারঃ ২৭.৪%
মৌজাঃ ১. আনন্দপুর ২. বগলাখাল ৩. ভাদৈ ৪. চতুল ৫, কালনি যাত্রাবাড়ি ৬. উত্তর নূরপুর ৭. রায়ধর।
গ্রামঃ ১. আনন্দ পুর ২. বড়বহুলা ৩. শায়েস্তানগর ৪. তেঘরিয়া ৫. নারায়নপুর ৬. দীঘলভাগ ৭. শ্রীপুর ৮, আলীপুর ৯, বগলাখাল ১০. ভাদৈ ১১. চতুল ১২. যাত্রাবাড়ী ১৩. বড়বাড়ী ১৪. ধুলিয়াখাল ১৫. তেতৈয়া ১৬. রাঙেরগাঁও ১৭. গােপায়া ১৮. উত্তর নূরপুর ১৯, রায়ধর। |

৬.রাজিউড়া ইউনিয়ন পরিষদঃ আয়তন-৫৫৭১ একর। বাড়ীর সংখ্যা-৩১৬১টি। লােকসংখ্যা-১৭,৪৬৭ জন। পুরুষ-৮৬৮১ জন, মহিলা-৮৭৮৬ জন। শিক্ষার হারঃ ২০.১%।
মৌজাঃ ১. আবদুর রহিমপুর চক ২. ভাদকুড়ি ৩. চাড়িনাও ৪. ডুমরা ৫. ঘােড়াবৈ ৬. হরগাঁও ৭. মির্জাপুর ৮. নঈমনগর (পুটিয়ার চক] ৯. রাজিউড়া ১০. সানাবৈ ১১. শঙ্করপাশা। ১২. সন্তুষপুর রায়পুর) ১৩. শান্তিশা ১৪. শ্রীপুর ১৫, শুকচর।
গ্রামঃ ১. ভাদকুড়ি ২. আবদুর রহিমপুর ৩. বন্ধুরহাটি ৪. নােয়াগাঁও ৫, নােয়াবাদ ৬. ভাদুপাশা ৭. চারিনাও ৮, ডুমারুয়া ৯. আমিনপুর ১০, রাবনগাঁও ১১. গঘেরপুর ১২. জালালাবাদ ১৩. হাসনাবাদ ১৪. আজিয়াবাদ ১৫. বাঘাছড়া ১৬. ঘােড়াবৈ ১৭. হুরগাঁও ১৮. মির্জাপুর ১৯, চান্দপুর ২০. রাজিউরা ২১. আব্দুর রহমানপুর ২২. গদানগর ২৩, বালিকান্দি ২৪. মথুড়াপুর ২৫, সানাবৈ ২৬. আকটাপুর ২৭. শঙ্করপাশা ২৮. শানটিশা ২৯. দৌলতপুর ৩০. কৃষ্ণপুর ৩১. চারিপুর ৩২. শ্রীপুর ৩৩. শুকচর।।

৭.নুরপুর ইউনিয়ন পরিষদঃ আয়তন-৭৩৮২ একর। বাড়ীর সংখ্যা-৩৮৭৬টি। মােট লােকসংখ্যা-২১,০৬২ জন। পুরুষ-১০,৪৬৮ জন, মহিলা-১০,৫৯৪ জন। শিক্ষার হারঃ ২৪.৯%।
মৌজাঃ ১. আহমদপুর ২. আখড়া ৩. আলীপুর ৪. বিশাউরা ৫. ব্রাহ্মণডুরা ৬. শ্রীরামপুর ৭. দুঃশাসন ৮. গয়েবপুর ৯, কেশবপুর ১০, কাড়ামারা ১১. মেরাসানী ১২. মনসুরপুর ১৩. নসরতপুর ১৪. নােয়াগাও ১৫. দক্ষিণ নূরপুর ১৬, পঞ্চাল ১৭. পুড়াসুন্দা ১৮, পুটিয়া ১৯. সুচিউড়া ২০, শেরপুর বাদে ২১. শেরপুর বাদেচক ২২. শৈলজুড়া ২৩. সুরাবই ২৪. উলুহার।
গ্রামঃ ১. অলিপুর ২. চান্দপুর ৩. বিশাউড়রা ৪. ব্রাহ্মণডােরা ৫. জাঙ্গাল ৬. ছােট ব্রাহ্মণডােরা ৭. শ্রীরামপুর ৮. সুরাবই ৯. কেশবপুর ১০. শাহজীবাজার ১১. মেরাসানী ১২. বাখশ্রীরপুর ১৩, মনসুরপুর ১৪. নসরতপুর ১৫. নােয়াগাঁও ১৬. নূরপুর ১৭. চন্ডিপুর ১৮.বারলারিয়া ১৯. শ্রীরামপুর ২০. মদনপুর ২১. নয়াগাঁও ২২. চান্দপুর ২৩, আলগাপুর ২৪. পঞ্জাল ২৫. পুড়াসুন্দা ২৬. পুটিয়া ২৭. সুচিউরা ২৮. শেরপুর ২৯. বাখড়াবাদ ৩০. শৈলজোড়া ৩১. জালালাবাদ ৩২. রাবনবি ৩৩. চরমােহাম্মদপুর ৩৪. উলুহার ৩৫. খাড়ামারা।

শায়েস্তাগন্জ গোল চত্বর

শায়েস্তাগন্জ গোল চত্বর

৮.শায়েস্তাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদঃ আয়তন-৪৯৩১ একর। বাড়ীর সংখ্যা-৪০৭৯টি। লােকসংখ্যা-২২,৪৬১ জন। পুরুষ-১১,৫২৮ জন, মহিলা-১০,৯৩৩ জন। শিক্ষার হারঃ ৪.৪% |
মৌজাঃ ১. আলাপুর ২, বড়চর ৩, বিরামচর ৪. চরনূর আহমদ ৫. ফরিদপুর ৬. চরহামুয়া ৭. ‘হামুরচর ৮. জগন্নাথপুর ৯, জগৎপুর ১০. কাজীরগাঁও ১১. লাদিয়া ১২, লেনজাপাড়া ১৩, নিশাপট ১৪. সালেহাবাদ ১৫. সুদিয়াখলা ১৬, ঢাকির জাঙ্গাল।
গ্রামঃ ১. আলাপুর ২. বৃন্দাবনপুর ৩. পূর্ববড়চর ৪. নূরপুর ৫. শ্যামপুর ৬. তাপসী ৭. পশ্চিম বড়চর ৮, কদমতলী ৯. কুতুবের চক ১০. দক্ষিণ বড়চর ১১. বিরামচর ১২. চরনূর আহমদ ১৩, দাউদনগর বাজার ১৪হাসপাতাল রােড ১৫. স্টেশনরােড ১৬. রেলওয়ে কলােনী ১৭. ঢাকির জাঙ্গাল ১৮, ফরিদপুর ১৯. কাশীপুর ২০, চরহামুয়া ২১. কলিমনগর ২২. জগন্নাথপুর ২৩. মহলুল সুনাম ২৪. জগৎপুর ২৫. কাজিরগাঁও ২৬. লাদিয়া ২৭. লেনজাপাড়া ২৮, সাবাসপুর ২৯, দাউদপুর ৩০. নিশাপট ৩১. বিরামচর ৩২. খলাপাড়া ৩৩. সালেহাবাদ ৩৪. সুদিয়াখলা ৩৫. পুরানবাজার ৩৬. মররা।

৯.নিজামপুর ইউনিয়ন পরিষদঃ আয়তন-৩২৩৭ একর। বাড়ী সংখ্যা-২৮৯০টি। লােকসংখ্যা-১৬, ৭৫১ জন। পুরুষ-৮৩৯৪ জন, মহিলা-৮৩৫৭ জন। শিক্ষার হারঃ ৩০.৫%।
মৌজাঃ ১. বাগুনিপাড়া ২. বল্লভেরচক ৩. বড়চর ৪. বড়কাইত ৫. বাতাসার ৬. দক্ষিণচতুল ৭. দরিয়াপুর ৮, এবদারপুর ১. ফকিরাবাদ ১০, দক্ষিণ নিজামপুর ১১. নিজামপুর ১২. রতনপুর ১৩, শরীফাবাদ ১৪. শরীফপুর ১৫, সৈয়দপুর ১৬, উত্তরতুল।
গ্রামঃ ১. বাগুনীপাড়া ২. বল্লভেরচক ৩. নয়দেবচক ৪. বড়চর ৫. দৌলতপুর ৬. বড়কাইত ৭. দুর্লভপুর ৮, চকরামনাথপুর ৯, বাতাসার ১০. কান্দিগাঁও ১১. দক্ষিণ চতুল ১২. মাহমুদপুর ১৩, ধুলিয়াখাল ১৪. দরিয়াপুর ১৫. মিঠাপুর ১৬. এবদারপুর ১৭. ফকিরাবাদ ১৮. মৌয়ারগাঁও ১৯. পাইকপাড়া ২০. উত্তর পাইকপাড়া ২১. নিজামপুর ২২, শুকরীপাড়া ২৩. নিতাইরচক ২৪. রতনপুর ২৫. শরীফাবাদ ২৬. গৌরাঙ্গচক ২৭. খালপাড় ২৮.। শরীফপুর ২৯, হরিরামপুর ৩০. সৈয়দপুর ৩১. কালারচক ৩২. নিতাইরচক ৩৩. পূর্ব কাটাখালী ৩৪. ছােট জয়রামপুর ৩৫. সুজাতপুর ৩৬. ভবানীপুর।

১০.লস্করপুর ইউনিয়ন পরিষদঃ আয়তন-৩৮০০ একর। বাড়ী সংখ্যা-৩৪ ১২টি। লােকসংখ্যা-১৮৬৮০ জন। পুরুষ-৯৪৬৫ জন, মহিলা-৯২১৫ জন। শিক্ষার হারঃ ২৯.২%
মৌজাঃ ১. আবদাখাই ২. আদ্যপাশা ৩. আলমপুর ৪. আলাপুর ৫, বালিহাটা ৬. বন্দদক্ষিণ ৭. দক্ষিণচর ৮, ডেমেশ্বর ৯, হামুয়াড়চর ১০, যমুনাবাদ ১১, লস্করপুর ১২. মসাজান ১৩, সুলতানশী।
গ্রামঃ ১. আব্দাবখাই ২. হাতিরথান ৩, আব্দা খিজির ৪. রঘুদয়াল ৫. নােয়াবাদ ৬. আদ্যপাশা ৭. শ্যামপুর ৮, আলমপুর ৯, রামনগর ১০, হাসনাবাদ ১১. আলাপুর ১২. বালিহাটা ১৩, নারায়নপুর ১৪. চরহামুয়া ১৫. বন্দু দক্ষিণ ১৬. ইতমানগণী ১৭. বনগাও ১৮, যমুনাবাদ ১৯. লস্করপুর ২০. গঙ্গানগর ২১. মসাজান ২২. রফিয়াবাদ ২৩. সুঘর ২৪. যাবদপুর ২৫. সুলতানশী।

জলমহাল বা শায়রত মহালঃ মােট জলমহাল ২০ একরের উর্ধ্বে-১৬টি, মােটজলমহাল ২০ একরের নীচে ২৩টি, মােট জলমহাল ৩ একরের নীচে ১৩টি এবং মােট জলমহাল ১টাকা টোকেন খাজনায় ৬টি।
উল্লেখযােগ্য জলমহালঃ ২০ একরের উর্ধ্বে জলমহালঃ ১. সুতাং নদী ২. মরাবাতাই নদী ৩. বাগাহানী, ভাটি কালিশিরি নদী গ্রুপ ৪. ঘুঙ্গিয়াজুরী নদী ৫. নােয়াখাল নদী ৬, বরাক নদী ৭. শাখা বরাক নদী ৮, করাঙ্গী নদী গ্রুপ জলমহাল ৯. মরা খােয়াই নদী ১০. বড় কাকনী, ছছাট কাকনী গ্রুপ ১১. দৌলতপুরের ডহর১২. পিলুয়া বিল, দাইর বিল গ্রুপ জলমহাল ১৩. বেরীবিল ১৪. বেরীবিল প্রকাশিত রত্না ১৫. চরেরবান্ধ, আন্দেরবান্ধ গ্রুপ জলমহাল ১৬. শায়রত মহাল।

২০ একরের নীচে জলমহালঃ ১. বড় ধুলিয়া, ছােট ধুলিয়া বিল ২. উমেদের চর বিল, ফলাই বিল, বড় কাপানিয়া ছােট কাপানিয়া বিল ৩. কাটামুড়া, কোড়ার ডুবা হুগলিয়া গ্রুপ ৪. ডাকনী বিল, হড়কী বিল, এড়ালিয়ার ডুবা ৫. পাবিয়া জুরী বিল, গােলপারিয়া জুরী বিল ৬, মাটিয়া দই বিল ৭. দিঘা বিল, কচুয়া বিল, বড় চাপরি, ছােট চাপরি বিল ৮, মাগুরী বিল ৯. বালিয়ারী বিল ১০, বৈষালেটার ডুবি-গােগরার ডুবি ১১, হালিকা বিল ১২. বর্ণির দাইর খালাত কাউয়াভাঙ্গা বিল ১৪. চর জানিয়া বিল, দীননাথের ডুবা দোলার ডুবা ১৫. হাউড়ার খাল, লক্ষিয়ার বিল, চাওড়া বিল, ঝনঝনিয়া বিল ১৬. বার মানিকা বিল ও খাল ১৭. হিংগারিয়া বিল, সাতারিয়া বিল ১৮, বাতাই খাল, সুরাই খাল, উকড়াউনের খাল ১৯. কটকার খাল, দুড়ির খাল ২০. দীঘল জানবিল ২১. তিন চাপরি বিল, ভুটিয়ার ডুবি ২২. বৈয়ানী বিল, সাতারিয়া বিল ২৩. মরা কড়াঙ্গী নদী।

তিন একরের নীচে জলমহালঃ ১. খারাবি বিল ২. ফেনাই বিল ৩, মনির ডুবা ৪. কানাইর দাইড় ৫, লােহারী বিল ৬. খেড়লাটির ডুবা ৭. নালডুব বিল ৮. আমাদিয়া বিল ৯. সয়ানীবিল ১০. বড় বিল ১১. সিচাকুন্দি, গােবর জাল বিল ১২. গুনর গাইয়াবিল ১৩, জরিয়া বধিয়া ফাটা বিল।

কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি [বিভাগীয়]ঃ ১. হবিগঞ্জ কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিঃ, হবিগঞ্জ ২. হবিগঞ্জ কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ, হবিগঞ্জ কেন্দ্রীয় বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ।

প্রাথমিক সমবায় সমিতি (বিভাগীয়]ঃ ১. গােপায়া ইউনিয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ ২.রিচি ইউনিয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতি ৩.লুকড়া ইউনিয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতি ৪.নূরপুর ইউনিয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতি ৫,তেঘরিয়া ইউনিয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতি ৬.পৈল ইউনিয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতি ৭.রাজিউড়া বহুমুখী সমবায় সমিতি ৮.নিজামপুর বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ ৯, শায়েস্তাগঞ্জ ইউনিয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ ১০.গােয়ালনগর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিঃ ১১.এড়ালিয়া মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিঃ ১২.দৌলতপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিঃ ১৩.আনােয়ারপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিঃ ১৪.নােয়াগাও মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিঃ ১৫.টংগিরঘাট মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিঃ ১৬. শিকারপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিঃ ১৭.চানপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিঃ ১৮,হরিপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিঃ ১৯.পৈল দীঘিরপাড় পূর্বপার মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিঃ ২০,বড় বহুলা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিঃ ২১. রামনগর সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিঃ ২২. দরিয়াপুর সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিঃ ২৩.চৌধুরীবাজার বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ ২৪.উত্তরণ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ ২৫.রাজনগর বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ ২৬.খােয়াই বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ ২৭.হবিগঞ্জ মটর চালক সমবায় সমিতি লিঃ ২৮,হবিগঞ্জ রিক্সাচালক সমবায় সমিতি লিঃ ২৯.হবিগঞ্জ করাত কল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ ৩০.হবিগঞ্জ অটো রিক্সাচালক সমবায় সমিতি লিঃ ৩১. আনােয়ারপুর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ ৩২.চৌধুরীবাজার পূর্ব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ ৩৩.শায়েস্তাগঞ্জ জনকল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ ৩৪,লস্করপুর ফলমূল উৎপাদন ও খামার সমবায় সমিতি লিঃ ৩৫.বড়চর আনসার ভি.ডি.পি উন্নয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ ৩৬.হবিগঞ্জ মুক্তিযােদ্ধা কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ ৩৭,হবিগঞ্জ সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিঃ ৩৮.হবিগঞ্জ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ ৩৯.গােয়ালনগর কৃষি সমবায় সমিতি লিঃ ৪০.গােপালপুর কৃষি সমবায় সমিতি লিঃ ৪১.লুকড়া কৃষি সমবায় সমিতি লিঃ ৪২.যাদবপুর কৃষি সমবায় সমিতি লিঃ ৪৩, জয়নগর কৃষি সমবায় সমিতি লিঃ ৪৪.কাশিপুর কৃষি সমবায় সমিতি লিঃ ৪৫,চানপুর চক কৃষি সমবায় সমিতি লিঃ ৪৬. নবায়ন কৃষি সমবায় সমিতি লিঃ ৪৭.চানপুর কৃষি সমবায় সমিতি লিঃ ৪৮.দৌলতপুর কৃষি সমবায় সমিতি লিঃ ৪৯.নােয়াগাঁও কৃষি সমবায় সমিতি লিঃ ৫০.নিজামপুর কৃষি সমবায় সমিতি লিঃ ৫১.মুড়িভাংগা বােয়ালমারী কৃষি সমবায় সমিতি লিঃ ৫২.দুর্শাসন কৃষি সমবায় সমিতি লিঃ ৫৩.গােপায়া তেতইয়া কৃষি সমবায় সমিতি লিঃ ৫৪, চরগাঁও কৃষি সমবায় সমিতি লিঃ ৫৫. দক্ষিণ তেঘরিয়া কৃষি সমবায় সমিতি লিঃ ৫৬,ঘুঙ্গিয়াজুরী কৃষি সমবায় সমিতি লিঃ ৫৭.খলিলপুর কৃষি সমবায় সমিতি লিঃ ৫৮, আবদুল্লাপুর কৃষি সমবায় সমিতি লিঃ ৫৯, টংগিরঘাট কৃষি সমবায় সমিতি লিঃ ৬০,পূর্ব আবদুল্লাপুর কৃষি সমবায় সমিতি লিঃ ৬১. মজলিশপুর কৃষি সমবায় সমিতি লিঃ ৬২.গােসাইপুর কৃষি সমবায় সমিতি লিঃ ৬৩.বড়ঠাকুর কৃষি সমবায় সমিতি লিঃ ৬৪. আটঘরিয়া কৃষি সমবায় সমিতি লিঃ ৬৫.আউশপাড়া কৃষি সমবায় সমিতি লিঃ ৬৭.হামুয়ারচক কৃষি সমবায় সমিতি লিঃ ৬৮,গৌরাঙ্গেরচক কৃষি সমবায় সমিতি লিঃ ৬৯,বনগাঁও কৃষি সমবায় সমিতি লিঃ ৭০.আব্দাবখাই কৃষি সমবায় সমিতি লিঃ ৭১,দরিয়াপুর কৃষি সমবায় সমিতি লিঃ ৭২.শরিফাবাদ কৃষি সমবায় সমিতি লিঃ ৭৩. রাঙ্গেরগাঁও কৃষি সমবায় সমিতি লিঃ ৭৪. হবিগঞ্জ মহিলা সঞ্চয় ও ঋণদান কৃষি সমবায় সমিতি লিঃ।

হবিগঞ্জের চা বাগান।

হবিগঞ্জের চা বাগান।

দরগাহ-দরবেশ 

সুলতানশী দরগাহ শরীফঃ সুলতানশী হাবেলীতে সৈয়দ আব্দুর রহিম হােসেনী চিশতী রঃ’র সুযােগ্য পুত্র ও বেলায়েত প্রাপ্ত সৈয়দ আব্দুন নূর হােসেনী চিশতী রঃ ছগীর মিয়া সাহেবের দরগাহ অবস্থিত। সৈয়দ আব্দুন নূর হােসেনী চিশতী (রঃ) একজন উচ্চ স্থরের আধ্যাত্মিক পুরুষ ছিলেন। দীনহীন ছদ্মনামে তিনি অসংখ্য গান, গজল, জারী, মর্সিয়া রচনা করে গেছেন। যা দীনহীন রচনাবলী ১ম খন্ড নামে তার সুযােগ্য উত্তরসূরী জনাব সৈয়দ হাসান ইমাম হােসেনী চিশতী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত হয়েছে।
একটি মরমী সঙ্গীত নমুনা হিসেবে দেয়া হলােঃ
রহিম তােমার নামরে বন্ধু রহিম তােমার নাম
তােমার পাক জুনাবে ভেজি হাজারাে সালাম রে ।।
রহম করিয়া তুমি সৃজিলায় আমারে
হুয়াল জাহির নাম ধরিলায় তােমার পাইবারে রে।।।
এইখানে পাইব যেবা তােমারই দীদার।
সে পাইবে পরকালে কওল তােমার রে।।
কোরান মুর্শিদ দিয়া করিলায় প্রচার
অন্নাথ কাঙালের আশা পুরবনি আমার রে।।
আমারই স্বভাবে আমি হইলাম গােনাগার
নিজ দয়া প্রকাশিতে নাম নিলায় গফ্ফার রে।।
আমার লাগি আমি বাদী তুমি বাদী নও
রহম কর এই বাদীরে দেও রহিম পরিচয় রে।।
অকলঙ্ক নামে তােমার কলঙ্ক নাই রয়
দয়াময় বলিয়া তােমার ত্রিজগতে কয় রে।।
লাওলাকের বন্ধু তুমিরে, ও বন্ধু লালাক তােমার নাম
দীনহীনুরে মারলে তুমি কে রাখিব আর রে।

সুলতানশী দরগাহ শরীফে সৈয়দ আব্দুর রহিম রঃ, সৈয়দ গােলাম মােস্তফা রঃ, সৈয়দ গােলাম হায়দর রঃ গং বিশিষ্ট বুজুর্গগণ ছাড়াও সৈয়দ শাহ সুলতানের বংশধর অনেক ওলি আল্লাহগণের মাজার আছে। তাদের জন্ম এবং মৃত্যু তারিখ উপলক্ষে বিভিন্ন তারিখে মহা সমারােহে উরুস উদ্যাপন হয়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য ভক্ত ও আশেকান এবং মুরিদগণ উরুসে যােগদান করেন।

পীর বাদশাহ রঃ দরগাহঃ হবিগঞ্জ শহরের অদূরে এক মনােরম পরিবেশে পৈল গ্রামে। পীর বাদশা’র প্রাচীর বেষ্টিত দরগাহ অবস্থিত। তিনি সৈয়দ শাহ নূরী রঃ র পুত্র। একজন যুগশ্রেষ্ঠ সাধক পুরুষ ছিলেন। তিনি ‘গঞ্জে তরাজ’ নামক ফার্সি ভাষায় একটি তত্ব বিষয়ক গ্রন্থ লিখেন। এই দরগায় হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সবারকাছে পূর্ণতীর্থ। কিংবদন্তী আছে | যে, পীর বাদশা রঃ কবরের উপর তদ্বংশীয় কেউ একশত এক কলসি পানি ঢাললে অনাবৃষ্টি কালেও বৃষ্টিপাত হয়। এই দরগায় সৈয়দ নাজিরুল হক রঃ, সৈয়দ আব্দুল হক রঃ, সৈয়দ জাহেদুল হক রঃ গং কামেল বুজুর্গগণ সহ তদ্বংশীয় গণের কবর বিদ্যমান আছে। ১৯৮৯ ইং সনে দরগাহর প্রাচীর দেয়াল ও গম্বুজ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পুরাতন সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে নতুন করে গড়া হয়েছে।
উল্লেখ্য,এই বংশের সৈয়দ ওয়াসেলুল হক বিয়ে করেন কুমিল্লার নওয়াব ফয়েজুন্নেছা চৌধুরীর বড় মেয়ে আরশাদুন্নেছাকে। তিনি একজন কামেল বুজুর্গ ব্যক্তি ছিলেন। সৈয়দ আজহারুল হকও ছিলেন কামেল ওলি। তিনিও বিয়ে করেছিলেন নওয়াব ফয়জুন্নেছার ছােট মেয়ে বদরুন্নেছাকে। সৈয়দ এমদাদুল হক ছিলেন ধার্মিক পরােপকারী ব্যক্তি। তাঁর আমন্ত্রণে পণ্ডিত জহরলাল নেহেরু বিপিন পালের জন্মভূমি পৈলে আসেন। তার রচিত ‘হােমনাবাদের ইতিহাস বিখ্যাত গ্রন্থ।

দাউদনগরের দরগাহঃ শায়েস্তগঞ্জ জংশন সংলগ্ন দাউদনগর গ্রামে এই দরগাহ অবস্থিত। সৈয়দ নাসির উদ্দিন রঃ র বংশে বিখ্যাত ওলি শাহ দাউদ রঃ’র জন্ম হয়। তাঁর চিল্লাখানাই দাউদনগরের দরগাহ। এই দরগাহে তাঁর ব্যবহৃত তক্তপােষ সংরক্ষিত আছে। দরগাহ সংলগ্ন পুকুরে অসংখ্য গজার মাছ ভেসে বেড়ায়। তাই এই দরগাহ মাছের দরগাহ নামেও পরিচিত। দূর-দূরান্ত থেকে লােকজন এই দরগাহ জিয়ারতে আসেন।

সুরাবই,হযরত শাহ কারার মগফুর রঃ দরগাহঃ নরপতিবাসী সৈয়দ শরফুদ্দিন হাসানের কনিষ্ঠ পুত্র হযরত শাহ কারার মগফুর রঃ সুরাবই আগমন করেন। তিনিই সুরাবই সৈয়দ বাড়ীর প্রতিষ্ঠাতা। বাড়ীর উত্তর দিকে তাঁর মাজার বিদ্যমান। তিনি বাড়ীর সংলগ্ন পূর্ব দিকে সুতাং নদীর তীরে একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করেন যা শাহজি বাজার নামে আজও তার স্মৃতি বহন করছে। প্রতি বৎসর পৌষ মাসের ২২ তারিখে শাহ করারের মাজারে ৭ দিনব্যাপী উরু উদ্যাপন হয়। শাহ করার রঃ মাজার সংলগ শাহ কলমদর ফকিরসহ বুজুর্গ ব্যক্তিবর্গের মাজার আছে।

শাহ ইয়াকুব রঃ দরগাহঃ হবিগঞ্জ সদর থানার ফকিরাবাদ গ্রামে এই দরগাহ অবস্থিত। শাহ ফকিরের নামেই ফকিরাবাদ গ্রামের নাম হয়।

বিরামচরের দরগাহঃ শায়েস্তাগঞ্জের অদূরে বিরামচর গ্রামে সৈয়দ মােনায়েম উরপে মধুমিয়া সাহাবের মাজার অবস্থিত। তিনি একজন অলৈৗকিক ক্ষমতাসম্পন্ন বুজুর্গ ছিলেন। তাঁর ব্যবহৃত হাতের লাঠি ও পায়ের খড়ম আজও বিরামচর সৈয়দ বাড়ীতে রক্ষিত আছে।

আউশপাড়ার মাজারঃ পৈল এবং সুলতানশীর মধ্যবর্তী আউশপাড়া গ্রাম। আউশপাড়া সৈয়দ বাড়ীতে আহছান পীর ও শাহ আরেফিন নামে দু’ জন ফকিরের মাজার আছে।

শাহ মজলিশ আমিন রঃ এর মাজারঃ হবিগঞ্জ সদর থানার উচাইল গ্রামে শাহ মজলিশ আমিন রঃ এর মাজার বিদ্যমান। উচাইলের ঐতিহাসিক মসজিদ মাজারের পার্শ্বে অবস্থিত।

লাউয়া পীরের দরগাহঃ সৈয়দ সুলায়মানের পৌত্র সৈয়দ সিরাজ উদ্দিন বিখ্যাত দরবেশ ছিলেন। তিনি উচাইল বিবাহ করে বসতি স্থাপন করেন। লাউয়ের একতারার সাহায্যে মারফতি গান গাইতেন বলে তিনি ‘লাউয়া পীর’ নামে পরিচিত হন। তাঁর মাজার লাউয়া পীরের দরগাহ নামে পরিচিত।

শাহ সয়েফ মিন্নত উদ্দিন রঃ ঃ তিনি লস্করপুরে বাস করতেন। সেখানে তার দরগাহ আছে। তাঁর প্রপৌত্র শাহ দাউদের নাম অনুসারে দাউদনগর পরগণার নাম হয়।

শাহ শহীদঃ লস্করপুরের মসজিদের পশ্চাদভাগে (পুরাতন মুন্সেফি কাছারিতে) শাহ শহীদের দরগাহ আছে। পূর্বে এখানে প্রতি বৎসর মেলা বসতাে। প্রাচীন বই পুস্তকে এর উল্লেখ আছে। কিন্তু বাস্তবে বর্তমানে এর কোন হদিস পাওয়া যায় না।
শাহ মাহমুদ রঃ লস্করপুরের নিকটবর্তী উর্দু বাজারে তার দরগাহ আছে। প্রাচীন পুস্তকাদিতে এর উল্লেখ পাওয়া যায়।

মরমী কবি শাহ কিম্মৎ আলীঃ হবিগঞ্জ সদর থানার বামকান্দি গ্রামে ১২৮৬ বাংলার ২রা বৈশাখ সাধক কিম্মৎ আলীর জন্ম হয়। তাঁর পিতার নাম শাহ জোয়াদ আলী। পনের বছর বয়স হতে তিনি ধীরে ধীরে আধ্যাত্মিক সাধনা ও গান বাজনায় জড়িয়ে পড়েন। তিনি অসংখ্য মরমী গান রচনা করেছেন। ১৩৪৪ বঙ্গাব্দের ৩০শে অগ্রহায়ন তারিখে তাঁর নব্বইটি গানের সংকলন ‘কিমতে দিলফানা’ (১ম খন্ড) প্রকাশিত হয়। ১৩৭২ বাংলায় এর ২য় সংস্করণ প্রকাশিত হয়। তার ২য় খন্ড গানের বই এবং ৩য় খন্ড গজল ও মােনাজাতের বই আর্থিক অনটনের কারণে ছাপানাে সম্ভব হয়নি। পান্ডুলিপি দু’টি তার পুত্র মহরম আলী শাহর নিকট রক্ষিত আছে। তিনি খান্দুরা নিবাসী পীর সাহেব সৈয়দ সিরাজুল আব্দাল মুছন মিয়া সাহেব)এর মুরীদ ছিলেন। পীর কেবলার নিকট থেকে ৫০ বছর বয়সে খেলাফতপ্রাপ্ত হন। হবিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় তাঁর মুরিদ এবং ভক্ত আছে। ১৩৫১ বাংলার ১০ শ্রাবণ ৬৫ বৎসর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর অছিয়ত অনুযায়ী তাঁকে সুতাং নদীর পূর্বপারে গােবিন্দপুর গ্রামে দাফন করা হয়। সেখানে তার মাজারে প্রতি বৎসর ভক্তগণের উপস্থিতিতে গানের আসর বসে।

তাঁর একটি মরমী সঙ্গীত নমুনা হিসেবে দেয়া হলােঃ

আমারই গােনা তােমারই জানা, মাফ কইরা দেও ইয়া রব্বানা
তােমারই বান্দা নবীজির উম্মত, পাইতে রহমত এই বাসনা।
আমারই সঙ্গে আছ যে তুমি, পাপী নয়ানে দেখিনা আমি
তােমারে লইয়া জগত ভরমি, তবু তােমারে নাহি যায় চিনা।
তুমি যে আমার দেহার মালিক, আমি যা করি দেখহে খালিক
বুঝিতে পারিনা তােমারই লীলা, সদাই করি কতই গােনা।
কবিরা সগিরা কতই গােনা, দেখা অদেখা জানা অজানা
তােমারই দরবারে চাহিগাে পানা, মুই পাপীরে কর মার্জনা।
হুকুম বিনা চলিনা আমি, শুনেছি কোরানে বলেছ তুমি
কি খেলা খেলিছ জগত স্বামী, আমিই দুষী তােমায় দৃষিনা।
নবী আর আলী জগৎ মা খাতুন, ইমাম দুজন হাছন হছন
খাজা মঈনুদ্দিন বড় পীর সাকতনু, সবার উছলায় করগাে পানাহ।
কিম্মত বলে স্বভাব দূষি, আমার গরায় গােনার ফাসি
কখনাে কান্দি কখনাে হাসি, তােমারই খেলায় হইয়া দেওয়ানা।।

সৈয়দ গােয়াস রঃ মসাজানঃ সিপাহসালার সৈয়দ নাসির উদ্দীন রঃ’র ষষ্ঠ অধঃস্থন পুরুষ সৈয়দ গােয়াস রঃ তাঁর উর্ধন বংশতালিকাঃ সৈয়দ নাসির উদ্দীন রঃ>সৈয়দ সিরাজ উদ্দীন রঃ>সৈয়দ শাহ মুসাফির রঃ>সৈয়দ শাহ খােদাও রঃ>সৈয়দ শাহ মিকাইল রঃ>সৈয়দ শাহ মুসা রঃ-লিস্করপুর>সৈয়দ শাহ মিনা উরফে সৈয়দ সুলতান রঃ-(সুলতানশী) দুইভাই সৈয়দ ইউনুস রঃ-সৈয়দ জিকিরয়া রঃ ও সৈয়দ গােয়াস রঃ [তিন ভাই)

মশাজানের দিঘী

মশাজানের দিঘী

সৈয়দ গােয়াস রঃ মূল বাড়ী সুলতানশী হাবেলী থেকে দেড় মাইল পশ্চিমে বসতি স্থাপন করেন। খােয়াই নদীর তীরে প্রায় দু’শ একর জমির মাঝখানে একটি দীঘি খনন করতে আল্লাহর দরবারে মদদ প্রার্থনা করেন। মেহেরবান আল্লাহ তাঁর অনুগত বান্দাহর দীলের আরজু মঞ্জুর করলেন। গায়েবী মদদে সম্পন্ন হলাে সুবিশাল দীঘির খনন কাজ। সৈয়দ গােয়াস রঃ তাঁর চাচা সৈয়দ মুসার প্রিয়পাত্র ছিলেন বলে ঐ স্থানের নাম রাখা হয় ‘মুছাজান’ যা বর্তমানে মসাজান নামে পরিচিত।
আল্লাহর ওলি’র দীঘিটি প্রায় তিনশ’ বছর পরও অক্ষত আছে। এ দীঘির পানি ফটিকের মতাে স্বচ্ছ ও সুপেয়। কোন প্রকারের জলজ উদ্ভিদ, কচুরিপানা, দীঘির পাড়ের গাছপালা। থেকে পতিত পাতাসমূহ ও জোক দীঘিতে টিকতে পারেনা। সাবেক সিলেট জেলায় এ দীঘির সমতুল্য অন্য কোন দীঘি নেই। দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে সৈয়দ গােয়াস রঃ’র মাজার অবস্থিত। [তথ্য নির্দেশঃ মসাজান দর্পণঃ সৈয়দ মকলিছ মিঞা ও সৈয়দ আব্দুন নবী, হযরত শাহজালাল রঃ ও তার কারামতঃ সৈয়দ মােস্তফা কামাল; প্রাচীন পারিবারিক ফার্সী নসব নামা: সৈয়দ আবদুল বারী মরহুম, মসাজান; জেলা প্রশাসক)

দেবালয়ঃ শ্রী শ্রী রাধামাধবের আখড়া, হরিপুর নােয়াহাটি। হবিগঞ্জ বাজার রেলস্টেশনেরদক্ষিণ-পশ্চিম কোণে এর অবস্থান। শ্রী শ্রী বলরামের আখড়া, যশরাজা, রাধামাধবের আখড়ার দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অবস্থিত। শ্রী শ্রী রাধাগােবিন্দ জিউর আখড়া ঘাটিয়া, হবিগঞ্জ কৃষি ব্যাংক থেকে প্রায় ২০০ গজ পশ্চিম দিকে অবস্থিত। আখড়ায় শ্রী সচীন্দ্র লাল সরকারের অবদান উল্লেখযােগ্য। শ্রী শ্রী নরসিংহের আখড়া (কামড়াপুর]। হবিগঞ্জ গরুর বাজারের পূর্বপার্শ্বে অবস্থিত। শ্রী শ্রী গােপালের আখড়া, বগলাবাজার, হবিগঞ্জ। শ্রী শ্রী মহাপ্রভুর আখড়া, হবিগঞ্জ ডাকঘর এলাকায় অবস্থিত। বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বীদের প্রধান কেন্দ্রস্থল। শ্রী শ্রী গােপিনাথের আখড়া, মােহনপুর হবিগঞ্জ। মানিকারাব্দার আখড়া, গ্রাম মানিকারান্দা। রিচি ইউনিয়নের অন্তর্গত। দৌলতপুরের আখড়া, গ্রাম দৌলতপুর। শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ গােসাইর। আখড়া, জঙ্গল বহুলা (মাছুলিয়া]। শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ গােসাই নিজেই এটি প্রতিষ্ঠিত করেন। কলিমনগরের আখড়া, গ্রাম কলিমনগর। শায়েস্তাগঞ্জ জংশন থেকে প্রায় ১ মাইল উত্তর দিকে অবস্থিত। শ্রী শ্রী গােপালের আখড়া, রামনগর। শায়েস্তাগঞ্জ রেল সেতুর উত্তর-পূর্ব কোণে ১০নং লস্করপুর ইউনিয়নে রামনগর গ্রামে এটা অবস্থিত। এখানে প্রতি বছর শ্রী শ্রী নামমহােৎসব মহাসমারােহে অনুষ্ঠিত হয়। শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ মিশন। হবিগঞ্জ কৃষি ব্যাংকের। প্রায় ১০০ গজ দক্ষিণে বিস্তৃত এলাকা জুড়ে এটা অবস্থিত। শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের অনুসারীদের প্রধান ধর্মীয় পীঠস্থান। শ্রী শ্রী কালিমন্দির, কালিবাড়ী রােড, হবিগঞ্জ। এটা শাক্ত ভক্তবৃন্দের প্রধান কেন্দ্রস্থল। শ্রী শ্রী কালিমন্দির, ঘাটিয়া হবিগঞ্জ, ঘাটিয়া নােয়াহাটি রােডের উত্তর পার্শ্বে।

[হবিগঞ্জ ইতিহাস প্রণয়ন পরিষদ কর্তৃক ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত  হবিগঞ্জ  পরিক্রমা গ্রন্থ থেকে ওয়েভসাইট বিন্যাসঃ সৈয়দ হোসাইন উল হক (সুরাবই),হবিগন্জ।]

মতামত দিন