প্রবন্ধ

বিদ্যার সাথে প্রজ্ঞা যুক্ত না হলে তা ইবলীসি মীরাস হয়ে যায়।

বিদ্যার সাথে প্রজ্ঞা যুক্ত না হলে তা ইবলীসি মীরাস হয়ে যায়।  


দেহের কিছু কিছু অঙ্গ অত্যন্ত জটিল। উদাহরণ হিসেবে, মানুষের মস্তিষ্কের কথা ভেবে দেখুন। কেউ কেউ এটাকে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের এ যাবৎ আবিষ্কৃত সবচেয়ে জটিল বস্তু বলে আখ্যায়িত করেছে। এতে প্রায় ১০ হাজার হাজার কোটি স্নায়ুকোষ রয়েছে, যা আমাদের ছায়াপথে যত নক্ষত্র রয়েছে সেই সংখ্যার সমান। এই কোষগুলোর প্রত্যেকটা হাজার হাজার শাখায় বিভক্ত হয়ে অন্য কোষগুলোর সঙ্গে যুক্ত। বিজ্ঞানীরা বলে যে, বিশ্বের সমস্ত গ্রন্থাগার মিলিয়ে যে-তথ্য রয়েছে, সেগুলোর সব মানুষের মস্তিষ্ক ধারণ করতে পারে এবং বাস্তবিকই এর ধারণ ক্ষমতা নির্ণয়ের অসাধ্য। “আশ্চর্য্যরূপে নির্ম্মিত” এই অঙ্গ সম্বন্ধে যুগ যুগ ধরে অধ্যয়ন করা সত্ত্বেও বিজ্ঞানীরা স্বীকার করে যে, এটা কীভাবে কাজ করে তা হয়তো তারা কখনোই বুঝে উঠতে পারবে না।
যাই হোক আসল কথায় আসি।কিছুদিন পুর্বে ছোট্ট একটি পোষ্ট দিয়েছিলাম বিদ্যা ও প্রজ্ঞা নিয়ে। এতে অনেকেই প্রশ্ন করেন প্রজ্ঞা ও জ্ঞান কি সমার্থক ? ও প্রজ্ঞা – বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনার দাবি রাখেন।সেই প্রশ্নের আলোকেই আজকের এই কলাম।

বিদ্যার সাথে প্রজ্ঞা যুক্ত না হলে তা ইবলীসি মীরাস হয়ে যায়।বিদ্যা (education) অর্জন ফরজ । কিন্তু বিদ্যাই সব নয়। বিদ্যা অর্জন করার জিনিস । কিন্তু জ্ঞান (wisdom, হিলম) অর্জন করার জিনিস নয়।হুজুর পাক (সা) আমাদের বলেছেন বিদ্যা অর্জন করা ফরজ।আবার হুজুর পাক (সা) আমাদের এও বলেছেন “আল এলমুল হেজাবুল আকবর” — অর্থাৎ এই বিদ্যাই আল্লাহকে পাইবার পথে সবচেয়ে বড় পর্দা, দেয়াল, প্রাচীর হয় ।হিকমাহ অর্থাৎ প্রজ্ঞা এসেছে ইহ্‌কাম احكم থেকে, যার অর্থ কথা বা কাজে পরিপূর্ণতা, পারফেকশন। জ্ঞান বলতে কোন বিষয় সম্পর্কে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক শিক্ষা থাকাকে বুঝায়। এটা বহিঃপ্রকাশ ধরনের হতে পারে (যেমন ব্যবহারিক গুনাবালী সম্পন্ন বা অভিজ্ঞতা সম্পন্ন) অথবা বহিঃপ্রকাশ ধরনের নাও হতে পারে (যেমন কোনো বিষয়ে শুধু তাত্ত্বিক দিকটি বোঝা); এটা কম বা বেশি ফর্মাল বা নিয়মার্বতিতা সম্পন্ন হতে পারে। প্রকৃষ্টরূপ জ্ঞান লাভকে বলা হয় প্রজ্ঞা। মানুষ ইন্দ্রিয় দ্বারা যা অনুভব করে, তার দ্বারা সে জ্ঞান লাভ করে। বুদ্ধির জগতে এটি একটি প্রাথমিক ধাপ। সাধারণভাবে গৃহীত অনুভবকে যখন মানুষ গভীরভাবে বিবেচনা করে, তখনই প্রজ্ঞার সৃষ্টি হয়। কোন নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানা এবং বোঝা হল জ্ঞান, আর অর্জিত জ্ঞানকে সঠিকভাবে সঠিক জায়গাতে প্রয়োগ বা ব্যাবহার করার সামর্থ্যটাই হলো প্রজ্ঞা। সে অনুযায়ী মনে হয় না যে এটা বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মানুষ অর্জন করতে পারে বা প্রকৃতি প্রদত্ত। আমার মনে হয় অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী সাধনায় একজন ব্যক্তিকে প্রজ্ঞা সম্পন্ন করে তুলতে পারে। অবশ্যই পার্থক্য আছে।বিদ্যা ও জ্ঞান আপনি যে কোনো জায়গা থেকে অর্জন করতে পারবেন।কিন্তু প্রজ্ঞা?
আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত ইরশাদ করেন-“তিনি যাকে চান, তাকে প্রজ্ঞা দান করেন। আর যাকে প্রজ্ঞা দান করা হয়েছে, সে বিরাট কল্যাণ পেয়ে গেছে। আর চিন্তাশীল মানুষরা ছাড়া কেউ শিক্ষা নেবে না।”[আল-বাক্বারাহ ২৬৯]

ধরা যাক কোনো একজন একটি বস্তুকে হাত দিয়ে ধরে সে গরম অনুভব করলো। এর দ্বারা তার ওই বস্তুর উষ্ণতা সম্পর্কে একটি জ্ঞানের সৃষ্টি হলো। এখান থেকে তার একটি উপলব্ধির জন্য হলো। এর দ্বারা একটি নতুন বিষয় উন্মোচিত হলো। এটি তার কাছে একটি আবিষ্কারও বটে। এই উপলব্ধি এবং আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট শিক্ষা লাভ হল।আর এই তিনটি বিষয়ের মধ্য দিয়ে সে গভীরভাবে বিষয়টি সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করলো। এই গভীর জ্ঞানই হলো প্রজ্ঞা। কোনো কিছু সম্পর্কে গভীরভাবে জানার ইচ্ছার মধ্য দিয়ে মানুষের মনে চিন্তার সৃষ্টির হয়। এই আগ্রহ থেকে আমি প্রাপ্ত জ্ঞানকে প্রাসারিত করতে চায়। এই প্রক্রিয়ার ভিতর দিয়ে সৃষ্টি হয় ভাবনা আবার প্রজ্ঞার ভিতর দিয়ে মানুষ অভিজ্ঞতা লাভও করে। অভিজ্ঞতাকে মানুষ অন্যান্য কাজে বা ভাবনায় ব্যবহার করে থেকে।আবার প্রজ্ঞার ভিতর দিয়ে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তার ভিতর দিয়ে মানুষের মনে বিশ্বাসের জন্ম নেয়। প্রজ্ঞা হচ্ছে জ্ঞানকে সঠিকভাবে ব্যবহার।আমাদের অনেক জ্ঞান থাকতে পারে, কিন্তু যদি প্রজ্ঞা না থাকে, তাহলে সেই জ্ঞানের সঠিক ব্যবহার হবে না।
এরকম শত শত ভুল ধারণায় আমরা বিশ্বাস করি, কারণ আমাদের জ্ঞান থাকলেও প্রজ্ঞা আসেনি। আমরা শিখিনি আমাদের জ্ঞান কীভাবে কাজে লাগাতে হয়।জ্ঞান আছে, কিন্তু সেই জ্ঞানের আসল উদ্দেশ্য কী, সেটার বোঝার মত বোধ নেই।আবার,অনেকে মনে করেন:নিজে কুর’আন পড়ে বুঝে চললেই হবে। কুর’আন কারও কাছ থেকে শেখার কিছু নেই। আয়েম্মাগন আ:,তাদের অনুসারীরা কীভাবে কুর’আন বুঝে গেছেন,কীভাবে অনুসরণ করে গেছেন —এগুলো আমাদের জানার কোনো দরকার নেই।তাদের ধারনা আজকের যুগ পাল্টে গেছে। আজকে আমাদেরকে নিজেদের কুর’আন পড়ে,বুঝে,নিজেদের সিদ্ধান্ত মতো জীবনযাপন করতে হবে।

প্রজ্ঞা ও জ্ঞান এক বিষয় নয়। কমপিউটার প্রচুর জ্ঞান মজুত করে রাখতে পারে কিন্তু তাই বলে কেউ এই ধরনের যন্ত্রগুলোকে বিজ্ঞ বলবে, তা ভাবাই যায় না। তবে, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা একটা অন্যটার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।ধরুন, একজন সিদ্ধান্ত নিল যে, সে বাজার থেকে সার্জারির উপর বেশ কিছু বই পড়ে নিজেই প্র্যাকটিস করে একজন সার্জন হয়ে যাবে। তার কোনো বড় সার্জনের কাছ থেকে শেখার কোনো দরকার নেই। সে নিজেই পারবে বই পড়ে অপারেশন করতে। সার্জারির উপর যথেষ্ট ভালো বই আছে, বিস্তারিত ছবি দেওয়া আছে, ইউটিউবে আজকাল সার্জারির ভিডিও পর্যন্ত পাওয়া যায়। এত কিছু থাকতে কেন আমাদেরকে কেনো সার্জনের কাছ থেকে সার্জারি করা শিখতে হবে?একজন বড় সার্জন আমাদেরকে প্রজ্ঞা শেখাবেন। তিনি শেখাবেন কখন কোন পরিস্থিতিতে কী সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কখন বইয়ের নিয়ম মানা যাবে, কখন নিয়ম এদিক-ওদিক করতে হবে। বইয়ের গদবাধা নিয়মের বাইরেও যে অনেক কিছু বিবেচনার আছে, সেগুলো তিনি তার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে শেখাবেন। সার্জারির আগে রোগীকে কী জানালে, কী না জানালে সার্জারি সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে, তা শেখাবেন। সার্জারির পরে কী কী সতর্কতা নিলে ইনফেকশন কম হবে, তা শেখাবেন। এইসব প্রজ্ঞা বই পড়ে আসে না। এগুলো কারও কাছ থেকে শিখতে হয়, দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে অর্জন করতে হয়।

একইভাবে ইসলামের শিক্ষা শুধু কিছু আয়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিটি আয়াতের পেছনে প্রজ্ঞা রয়েছে। কখন কোন প্রেক্ষাপটে কুর’আনের কোন আয়াত প্রযোজ্য, কখন কোন প্রেক্ষাপটে তা প্রযোজ্য নয় —এগুলো আমাদেরকে রাসুলের عليه السلام, তার আহলে বাইত,ইমামগন এবং ফিকহ-এ অভিজ্ঞদের কাছ থেকে শিখতে হবে। না হলে আমরা কুর’আনের আয়াতের আক্ষরিক অনুবাদ করে, পরিস্থিতি বিবেচনা না করে, প্রজ্ঞা ব্যবহার না করে ঝাপিয়ে পড়ব নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে। যার ফলাফল হবে ভয়াবহ। ‘শুধু কুর‘আন’ নামে একদলের জন্ম হবে, যারা কুর‘আন ছাড়া আর কোনো ধর্মীয় বই মানবে না। একদল উগ্রপন্থী জিহাদির জন্ম হবে, যারা কুর‘আনের আয়াতের প্রেক্ষাপট বিবেচনা না করেই, যে কোনো সময়ে, যে কোনো পরিস্থিতিতে জিহাদের আয়াতগুলোকে সশস্ত্র মারামারির আয়াত বানিয়ে ফেলবে।
একারণেই কুর‘আনে বলা হয়েছে যে, নবী-রসূলরা শুধু আল্লাহর تعالى বাণীই শেখাবেন না, একইসাথে প্রজ্ঞা শেখাবেন, যেন আল্লাহর تعالى বাণীকে আমরা ঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারি।
“ও আমাদের প্রভু, ওদের মধ্যে থেকে একজনকে রসূল হিসেবে গড়ে তুলুন, যে ওদেরকে আপানার আয়াত শোনাবে, তাদেরকে আপনার বিধি-বিধান এবং প্রজ্ঞা শেখাবে এবং তাদেরকে পবিত্র করবে। নিঃসন্দেহে আপনি সর্বোচ্চ ক্ষমতা-কর্তৃত্বের অধিকারী, পরম প্রজ্ঞাবান। [আল-বাক্বারাহ ১২৯]
যদি কুর‘আনের আয়াত শুনিয়ে, বিধি বিধান শেখালেই যথেষ্ট হতো, তাহলে প্রজ্ঞা শেখানোর কোনো দরকার ছিল না। কিন্তু আল্লাহ تعالى বিশেষভাবে বলেছেন যে, রাসুল عليه السلام প্রজ্ঞা শেখাবেন এবং তাদেরকে পবিত্র করবেন। শুধু কুর‘আন ধরিয়ে দিয়েই বলবেন না যে, কুর‘আনই যথেষ্টও, আর কিছু জানার দরকার নেই। বিস্তারিত পড়ুন: কুর‘আনের কথা’র আল-বাক্বারাহ ১২৯-এর ব্যাখ্যা।আল্লাহ আমাকে হিকমাহ না দিলে আমি কী করবো?আয়াতে যেহেতু বলা হয়েছে যে,তিনি যাকে চান, তাকে প্রজ্ঞা দান করেন
— তাহলে প্রশ্ন আসতে পারে, যদি আল্লাহ تعالى আমাকে প্রজ্ঞা না দেন, তাহলে আমার কী দোষ?এই আয়াতেই বলা হয়েছে যে, চিন্তাশীল মানুষরা অর্থাৎ أُولُو الْأَلْبَاب ছাড়া কেউ শিক্ষা নেবে না। আমাদেরকে প্রথমে আলবাব অর্থাৎ চিন্তাশীল মানুষদের একজন হতে হবে। চিন্তাশীল মানুষরা কারা?
“নিশ্চয়ই আকাশগুলো এবং পৃথিবীর সৃষ্টিতে, এবং দিন ও রাতের আবর্তনে চিন্তাশীল মানুষদের জন্য বিরাট নিদর্শন রয়েছে।[আল-ইমরান ৩:১৯০]

“তাদের কাহিনীতে চিন্তাশীল মানুষদের জন্য অনেক শেখার বিষয় রয়েছে। এগুলো কোনো মনগড়া কাহিনী নয়। বরং এটা তোমাদের কাছে যা আছে, তাকেই সমর্থন করে, এবং সবকিছুকে পরিষ্কার করে ব্যাখ্যা করে। এটা বিশ্বাসীদের জন্য পথপ্রদর্শক এবং দয়া। [ইউসুফ ১২:১১১]

“এটা এমন এক বই, যা আমি তোমার প্রতি নাজিল করেছি এক কল্যাণ হিসেবে, যেন এর আয়াতগুলো নিয়ে তারা গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করে, এবং চিন্তাশীল মানুষেরা যেন এর থেকে শিক্ষা নিতে পারে। [সদ ৩৮:২৯]

সুতরাং চিন্তাশীল মানুষরা হচ্ছে তারাই, যারা গভীরভাবে চিন্তা করে আসল উদ্দেশ্য বুঝতে পারে। এরা কোনো কিছু পড়লে, বা শুনলে এক কান দিয়ে ঢুকিয়ে অন্য কান দিয়ে বের করে দেয় না। এদের মন পরিষ্কার। এরা সৃষ্টিজগত নিয়ে চিন্তা করে, দিন-রাত কেন হয়, অর্থাৎ বিজ্ঞান নিয়ে তারা চিন্তা করে। এরা কুর‘আনে দেওয়া বিভিন্ন কাহিনীর মধ্যে শিক্ষণীয় কী আছে, তা বোঝার চেষ্টা করে। সেগুলো বুঝে তারা সে অনুযায়ী নিজেদেরকে পরিবর্তন করে।এরাই আল্লাহর تعالى অনুগ্রহে হিকমাহ অর্থাৎ প্রজ্ঞা পেতে পারে। আর যে একবার প্রজ্ঞা পেয়ে যায়, সে বিরাট কল্যাণ পেয়ে যায়। সে দুনিয়াতে সফল হয়, আর আখিরাতে তার জন্য অপেক্ষা করে অনন্ত সফলতা এবং শান্তি।
আল্লাহ تعالى এই আয়াতে বিশেষভাবে আল্বাব অর্থাৎ পরিষ্কার মনের, চিন্তাশীল মানুষদের কথা বলেছেন। আল্লাহ تعالى কুর‘আনে আরও বহু ধরনের মানুষের উদাহরণ দিয়েছেন। কিন্তু প্রজ্ঞা পাওয়ার জন্য তিনি تعالى এই বিশেষ ধরনের মানুষদের বেছে নিয়েছেন। যেমন, তিনি বলতে পারতেন ذِى حِجر অর্থাৎ বুদ্ধিমান মানুষদের কথা, যাদের মস্তিষ্ক প্রখর। অথবা তিনি আক্বল বা বিবেক-বুদ্ধির মানুষদের কথা বলতে পারতেন, যারা বিবেক দিয়ে নিজেদের বুদ্ধিকে খারাপ কাজে ব্যবহার করা থেকে দূরে রাখতে চেষ্টা করে। অথবা তিনি হালিম বা সহনশীল মানুষ, যারা নিজেদেরকে সংযত রাখতে পারেন, রাগ দমন করে রাখতে পারেন, তাদের কথা বলতে পারতেন। অথবা তিনি أُوْلِى ٱلنُّهَىٰ  নুহা বা অত্যন্ত বুদ্ধিমান, যৌক্তিক, প্রখর উপলব্ধির মানুষদের কথা বলতে পারতেন, যাদের বোঝার ক্ষমতা গভীর, যারা অত্যন্ত অভিজ্ঞ।  কিন্তু এদের কথা না বলে তিনি আল্বাব অর্থাৎ চিন্তাশীল মানুষদের কথা বলেছেন, যারা আসল উদ্দেশ্য বুঝতে পারে।
হিকমাহ বা প্রজ্ঞা লাভ করা তাদের পক্ষেই সম্ভব, যারা গভীরভাবে চিন্তা করে কোনো কিছুর পেছনে আসল উদ্দেশ্য বুঝতে পারেন। এরাই বিরাট কল্যাণ লাভ করেন। আল্লাহ تعالى যখন কোনো কিছুকে বিরাট কল্যাণ বলেন, সেটা কত বড় ব্যাপার হতে পারে, তা আমাদের কল্পনার বাইরে। যেমন, তিনি কুর‘আন-এর মত এত বড় একটা ব্যাপারকেও শুধুই ‘কল্যাণ’ বলেছেন, ‘বিরাট কল্যাণ’ বলেননি। অথচ তিনি প্রজ্ঞাকে বিরাট কল্যাণ বলেছেন। যে এই বিরাট কল্যাণ পাবে, সে সবদিক থেকে সফল হয়ে যাবে। তাই আমাদের কাজ হবে মাথা ভর্তি আবর্জনা পরিষ্কার করে, গভীরভাবে সৃষ্টি জগত নিয়ে চিন্তা করা, বিজ্ঞান নিয়ে চিন্তা করা, প্রাকৃতিক ঘটনাগুলো কেন ঘটে, কিভাবে ঘটে, এগুলোর পেছনে উদ্দেশ্য কী —এগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা। আর কুর‘আনের আয়াত নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা। যত বেশি চিন্তা করবো, আমাদের চিন্তার গভীরতা তত বেশি বাড়বে। আমরা প্রজ্ঞা পাওয়ার জন্য তত বেশি যোগ্য হবো। আর একবার প্রজ্ঞা পেয়ে গেলেই আমাদের সফল হওয়ার নিশ্চয়তা অনেক বেড়ে যাবে।

—সৈয়দ হোসাইন উল হক
এম-ফিল,ইসলামিক স্টাডিজ এন্ড হিস্টোরি,অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি।
সুরাবই সাহেব বাড়ি দরবার শরীফ,হবিগঞ্জ।

মতামত দিন