প্রবন্ধ

কারবালার জমিনে আশুরার দিনে প্রথম শহীদ রমনী

আব্দুলাহ ইবনে ওহাব তার মাতা এবং স্ত্রীকে নিয়ে ইমাম হুসাইনের (আঃ) সেনাদলে যােগদান করেন। আশুরার সকালে তার মাতা তাকে বলল, “হে আমার প্রিয় সন্তান। রাসূল (সাঃ) এর সন্তানের সাহায্যের জন্য যুদ্ধ কর।”ওহাব তার মায়ের নির্দেশ মত ময়দানে নিজের পরিচয় দিয়ে যুদ্ধ শুরু করল। তুমুল যুদ্ধ করে অনেক শক্রকে জাহান্নামে পাঠিয়ে মায়ের কাছে ফিরে এসে বলল, “মা! এখন আমার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছ?”

তার মা বলল, “ইমাম হুসাইনের সাহায্যের জন্য শহীদ হওয়া পর্যন্ত আমি তােমার প্রতি সন্তুষ্ট হব না।”

ওহাবের স্ত্রী বলল, “আল্লাহর শপথ! আমাকে তােমার শােকে শােকাভিভুত করাে না।”

ওহাবের মা বলল, “পুত্র আমার। তােমার স্ত্রীর কথা শুন । ময়দানে গিয়ে শহীদ না হওয়া পর্যন্ত রাসূল (সাঃ) এর সন্তানের জন্য জেহাদ কর, তাহলে কেয়ামতের দিন তার শাফায়াত পাবে।”

ওহাব আবারও ময়দানে গেল এবং কবিতা আবৃত্তি করল,

اني زعیم لک ام وهب بالطعن فيهم تاره والضرب

১। হে ওহাবের মাতা আমি তােমাকে তলােয়ার ও বর্শা দিয়ে যুদ্ধ করে তােমাকে রক্ষা করব।

২। যতক্ষণ পর্যন্ত অত্যাচারী শক্রদেরকে যুদ্ধের তিক্ততা অনুভব না করাতে পারব এ ঈমানদার যুবক লড়তে থাকবে।

৩। আমি এক শক্তিশালী যােদ্ধা এবং তলােয়ার চালাতে পটু মুসিবতের সময় আমি হাত গুটিয়ে বসে থাকি না। আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।

তুমুল ভাবে যুদ্ধ করতে করতে দুশমনদের উনিশ জন অশ্বারােহী ও বিশ জন পদচারী সৈন্যকে জাহান্নামে পাঠিয়ে দেন। অতঃপর তার দুই হাত কাটা পড়ে। এমুহুর্তে তার স্ত্রী তাবুর খুঁটি নিয়ে ময়দানে ছুটে গিয়ে বলল, “হে ওহাব। আমার পিতা মাতা তােমার প্রতি উৎসর্গ থােক নবীর (সাঃ) আহলে বাইতকে রক্ষা করতে প্রাণপণে যুদ্ধ কর।” ওহাব তার স্ত্রীকে তাবুতে ফিরে যেতে বলল কিন্তু তার স্ত্রী তাকে জড়িয়ে ধরে বলল, “আমি তােমাকে ছেড়ে কোথাও যাব না,আমি তােমার সাথে শহীদ হতে চাই।”

এ পরিস্থিতি দেখে ইমাম হুসাইন (আঃ) ময়দানে এসে ওহাবের স্ত্রীকে বললেন, “আল্লাহ তােমাকে উত্তম পুরষ্কার দান করুন এবং তােমার উপর রহমত বর্ষন করুন। তুমি মহিলাদের কাছে ফিরে যাও। সে চলে গেল এবং ওহাব যুদ্ধ করতে লাগল এবং শাহাদৎ বরণ করল।”  ওহাবের স্ত্রী এবার পাগলের ন্যায় দৌড়ে ময়দানে আসল এবং ওহাবের রক্ত মুছতে লাগল। পাপিষ্ঠ শিমার তার এক দাসকে নির্দেশ দিল তাকে শহীদ করার জন্য। সে পিছন দিক থেকে এসে তার মাথায় সজোরে আঘাত হানল এবং ঐ মহীয়সী নারী শাহাদৎ বরণ করলেন। ইমাম হুসাইনের (আঃ) সৈন্যদের মধ্যে তিনিই ছিলেন প্রথম নারী শহীদ।

সূত্রঃ বিহারুল আনােয়ার খন্ড ৪৫ পৃঃ ১৬।


সিপাহসালার | ইনস্টিটিউশনজুলাই ২০২০এস এইচ হক

 

মতামত দিন