প্রবন্ধ

তাওয়াক্কুল প্রসঙ্গ-সৈয়দ আবে তাহের

তাওয়াক্কুল প্রসঙ্গ-সৈয়দ আবে তাহের(সূফী ধর্ম ও দর্শন বিষয়ক একটি সংকলন ১৪২৪ মার্চ ২০১৮ রজব ১৪৩৯)।

তাওয়াক্কুল আরবি শব্দ। এর অর্থ হলাে, আল্লাহর ওপর নির্ভরতা, আল্লাহর কাছে নিজেকে সােপর্দ করা এবং তাঁরই ওপর ভরসা করা। ইমানদার মানুষের একটি বড় গুণ হচ্ছে, আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করা। সব কাজের ক্ষেত্রেই আল্লাহর ওপর নির্ভরতা অর্থাৎ চূড়ান্ত ফয়সালার ক্ষমতা যে আল্লাহর হাতে, তা মনেপ্রাণে স্বীকার করাই হচ্ছে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল। আরেকটু ব্যাখ্যা করে বলা যায় যে, একজন ইমানদার ব্যক্তি ভালাে ও কল্যাণকর বিষয় অর্জনের জন্য নিজের সাধ্যমতাে চেষ্টা করবে এবং ফলাফলের জন্য আল্লাহতাআলার ওপর ভরসা করবে এবং তারই প্রতি দৃঢ় আস্থা রাখবে। আর এর মধ্যেই রয়েছে ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ।

আল্লাহর ওপর ভরসার নানা পর্যায় রয়েছে। অনেকেই কেবল মুখে আল্লাহর ওপর নির্ভর করার কথা বলেন। আবার কেউ কেউ সুনির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রেই কেবল আল্লাহর ওপর ভরসা করেন। আল্লাহর ওপর নির্লতার ক্ষেত্রে কারও কারও মনে দ্বিধা, সন্দেহ ও উদ্বেগ কাজ করে। এগুলাে সর্বোচ্চ পর্যায়ের তাওয়াক্কুল নয়। আল্লাহর ওপর সর্বোচ্চ পর্যায়ের তাওয়াক্কুলকে মায়ের প্রতি শিশুর নির্ভরশীলতার সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। যেমন- একটি শিশু শুধু তার মাকেই একান্ত আপন বলে জানে, মায়ের ওপরই সে ভরসা করে, তার যত আবদার মায়ের কাছেই। সে কখনােই মা থেকে আলাদা হয় না। মায়ের অনুপস্থিতিতে কোনাে বিপদ ঘটলে শিশুর মনে প্রথমেই যে বিষয়টি আসে এবং যে শব্দটি মুখে উচ্চারিত হয় তাহলাে- মা। কারণ শিশু তার মাকেই একমাত্র আশ্রয়স্থল বলে জানে। তাওয়াকুলের সর্বোচ্চ পর্যায় হচ্ছে মানুষের জীবনের সব কিছুর খেলা বিধানকারী হিসেবে আল্লাহকে স্বীকার করে নেওয়া। এভাবেই আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুলের মাধ্যমে মানুষের মাঝে কাজের শক্তি ও স্পৃহা সৃষ্টি হয় এবং চিন্তাগত প্রতিবন্ধকতা দূর হয়। পার্থিব ভয়-ভীতির অবসান ঘটে। কারণ ইমানদার ব্যক্তির শতভাগ বিশ্বাস হলাে- আল্লাহই হচ্ছে শক্তির একমাত্র উৎস। নবী-রাসুলরা ছিলেন আল্লাহর ওপর নির্ভরতার ক্ষেত্রে সর্বোত্তম আদর্শ। হযরত ইবরাহিম (আ.)কে আগুনে নিক্ষেপের ঘটনা এ ক্ষেত্রে উল্লেখযােগ্য। মূর্তি ভাঙার পর হযরত ইবরাহিম (আ.)কে আগুনে নিক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নেয় জালিম রাজা নমরুদ।

এ পরিস্থিতিতে হযরত ইবরাহিম (আ.) আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করেন এবং একমাত্র আল্লাহকেই স্মরণ করতে থাকেন। আর সেই আগুন ইবরাহিম (আ.)-এর জন্য ফুলের বাগানে পরিণত হয়। আল্লাহর ওপর নির্ভর করাটা মানুষের জন্য এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বারবারই তাঁর অনুসারীদের আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করার কথা বলেছেন। সবাইকে তিনি এ জন্য উৎসাহিত করেছেন। ইমাম জাফর সাদেক (আ.) এ সম্পর্কে বলেছেন, যেখানে তাওয়াক্কুল থাকে সেখানে সম্মান-মর্যাদা প্রতিষ্ঠা পায়। অন্যভাবে বলা যায়, যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল। করে সে সম্মান ও প্রাচুর্যের অধিকারী হয়। তবে তাওয়াক্কুল বস্তুবাদীদের জন্য একটি অভাবনীয় বিষয়। কাজ-কর্ম সম্পন্ন করার পর ফলাফল প্রাপ্তির জন্য আল্লাহর ওপর যে নির্ভর করতে হবে, এটা বস্তুবাদীদের কাছে বােধগম্য নয়। চর্মচক্ষু দিয়ে যে আল্লাহকে দেখা যায় না, তাঁকেই যে সব ক্ষমতার উৎস হিসেবে মেনে নিতে হবে- এমন বক্তব্য বস্তুবাদীদের কাছে গ্রহণযােগ্য নয়। কিন্তু বাস্তবতা হলােঅদৃশ্যের ওপর বিশ্বাসই ইমানদারদের জীবনের চালিকাশক্তি। আর এ কারণেই তাওয়াক্কুলের ফজিলতও সীমাহীন। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, “যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট। তাওয়াক্কুলের নীতি অবলম্বনকারী ব্যক্তি কখনাে হতাশ হয় না। আশাভঙ্গ হলে মুষড়ে পড়ে না। বিপদ-মুসিবত, যুদ্ধ-সংকটে ঘাবড়ে যায় না।তাওয়াক্কুলের নীতি অবলম্বনকারী ব্যক্তি কখনাে হতাশ হয় আশাভঙ্গ হলে মুষড়ে পড়ে না। বিপদ-মুসিবত, যুদ্ধ-সংকটে ঘাবড়ে যায় না। যে কোনাে দুর্বিপাক, দুর্যোগ, সংকট ও বিপদ-মুসিবতে আল্লাহর ওপর দৃঢ় আস্থা রাখে। জুলুম, অত্যাচার, নির্যাতন নিপীড়নের যে ঝড়ই আসুক না কেন, ইমানদার ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করে না। এ ধরনের মানুষ সব সময়ই ভবিষ্যতের বিষয়ে আশাবাদী। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পুরাে জীবনকাল এবং তাঁর আহলে বায়েতের সবার জীবন ছিল আল্লাহর প্রতি নির্ভরতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। খােদাদ্রোহীদের অত্যাচার-নির্যাতনে, ক্ষুধা-দারিদ্র মােকাবেলায় এবং অনুসারীদের অভিযােগ-অনুযােগে, সর্বাবস্থায় তাঁরা তাওয়াক্কুলকে একমাত্র অবলম্বন হিসেবে গ্রহণ করতেন।

পবিত্র কুরআনের সুরা ত্বালাকের ৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তার কাজ সম্পন্ন করে দেবেন, তিনি সব কিছুর একটি পরিমাণ স্থির করে রেখেছেন। আসলে তাওয়াক্কুল হলাে মহান আল্লাহর দায়িত্বাধীন হওয়ার সর্বোত্তম উপায়। কোনাে মানুষেরই আসলে তার নিজের কোনাে শক্তি ও ক্ষমতা নেই। আমাদের উচিত বাস্তবতা উপলব্ধি করে আল্লাহর ওপর পরিপূর্ণভাবে তাওয়াক্কুল করা- এ ছাড়া মুক্তি সম্ভব নয়।

 

তাওয়াক্কুল প্রসঙ্গ-সৈয়দ আবে তাহের

তাওয়াক্কুল প্রসঙ্গ-সৈয়দ আবে তাহের সূফী ধর্ম ও দর্শন বিষয়ক একটি সংকলন ১৪২৪ মার্চ ২০১৮ রজব ১৪৩৯। 

তাওয়াক্কুল আরবি শব্দ। এর অর্থ হলাে, আল্লাহর ওপর নির্ভরতা, আল্লাহর কাছে নিজেকে সােপর্দ করা এবং তাঁরই ওপর ভরসা করা। ইমানদার মানুষের একটি বড় গুণ হচ্ছে, আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করা। সব কাজের ক্ষেত্রেই আল্লাহর ওপর নির্ভরতা অর্থাৎ চূড়ান্ত ফয়সালার ক্ষমতা যে আল্লাহর হাতে, তা মনেপ্রাণে স্বীকার করাই হচ্ছে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল। আরেকটু ব্যাখ্যা করে বলা যায় যে, একজন ইমানদার ব্যক্তি ভালাে ও কল্যাণকর বিষয় অর্জনের জন্য নিজের সাধ্যমতাে চেষ্টা করবে এবং ফলাফলের জন্য আল্লাহতাআলার ওপর ভরসা করবে এবং তারই প্রতি দৃঢ় আস্থা রাখবে। আর এর মধ্যেই রয়েছে ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ।

আল্লাহর ওপর ভরসার নানা পর্যায় রয়েছে। অনেকেই কেবল মুখে আল্লাহর ওপর নির্ভর করার কথা বলেন। আবার কেউ কেউ সুনির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রেই কেবল আল্লাহর ওপর ভরসা করেন। আল্লাহর ওপর নির্লতার ক্ষেত্রে কারও কারও মনে দ্বিধা, সন্দেহ ও উদ্বেগ কাজ করে। এগুলাে সর্বোচ্চ পর্যায়ের তাওয়াক্কুল নয়। আল্লাহর ওপর সর্বোচ্চ পর্যায়ের তাওয়াক্কুলকে মায়ের প্রতি শিশুর নির্ভরশীলতার সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। যেমন- একটি শিশু শুধু তার মাকেই একান্ত আপন বলে জানে, মায়ের ওপরই সে ভরসা করে, তার যত আবদার মায়ের কাছেই। সে কখনােই মা থেকে আলাদা হয় না। মায়ের অনুপস্থিতিতে কোনাে বিপদ ঘটলে শিশুর মনে প্রথমেই যে বিষয়টি আসে এবং যে শব্দটি মুখে উচ্চারিত হয় তাহলাে- মা। কারণ শিশু তার মাকেই একমাত্র আশ্রয়স্থল বলে জানে। তাওয়াকুলের সর্বোচ্চ পর্যায় হচ্ছে মানুষের জীবনের সব কিছুর খেলা বিধানকারী হিসেবে আল্লাহকে স্বীকার করে নেওয়া। এভাবেই আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুলের মাধ্যমে মানুষের মাঝে কাজের শক্তি ও স্পৃহা সৃষ্টি হয় এবং চিন্তাগত প্রতিবন্ধকতা দূর হয়। পার্থিব ভয়-ভীতির অবসান ঘটে। কারণ ইমানদার ব্যক্তির শতভাগ বিশ্বাস হলাে- আল্লাহই হচ্ছে শক্তির একমাত্র উৎস। নবী-রাসুলরা ছিলেন আল্লাহর ওপর নির্ভরতার ক্ষেত্রে সর্বোত্তম আদর্শ। হযরত ইবরাহিম (আ.)কে আগুনে নিক্ষেপের ঘটনা এ ক্ষেত্রে উল্লেখযােগ্য। মূর্তি ভাঙার পর হযরত ইবরাহিম (আ.)কে আগুনে নিক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নেয় জালিম রাজা নমরুদ।

এ পরিস্থিতিতে হযরত ইবরাহিম (আ.) আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করেন এবং একমাত্র আল্লাহকেই স্মরণ করতে থাকেন। আর সেই আগুন ইবরাহিম (আ.)-এর জন্য ফুলের বাগানে পরিণত হয়। আল্লাহর ওপর নির্ভর করাটা মানুষের জন্য এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বারবারই তাঁর অনুসারীদের আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করার কথা বলেছেন। সবাইকে তিনি এ জন্য উৎসাহিত করেছেন। ইমাম জাফর সাদেক (আ.) এ সম্পর্কে বলেছেন, যেখানে তাওয়াক্কুল থাকে সেখানে সম্মান-মর্যাদা প্রতিষ্ঠা পায়। অন্যভাবে বলা যায়, যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল। করে সে সম্মান ও প্রাচুর্যের অধিকারী হয়। তবে তাওয়াক্কুল বস্তুবাদীদের জন্য একটি অভাবনীয় বিষয়। কাজ-কর্ম সম্পন্ন করার পর ফলাফল প্রাপ্তির জন্য আল্লাহর ওপর যে নির্ভর করতে হবে, এটা বস্তুবাদীদের কাছে বােধগম্য নয়। চর্মচক্ষু দিয়ে যে আল্লাহকে দেখা যায় না, তাঁকেই যে সব ক্ষমতার উৎস হিসেবে মেনে নিতে হবে- এমন বক্তব্য বস্তুবাদীদের কাছে গ্রহণযােগ্য নয়। কিন্তু বাস্তবতা হলােঅদৃশ্যের ওপর বিশ্বাসই ইমানদারদের জীবনের চালিকাশক্তি। আর এ কারণেই তাওয়াক্কুলের ফজিলতও সীমাহীন। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, “যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট। তাওয়াক্কুলের নীতি অবলম্বনকারী ব্যক্তি কখনাে হতাশ হয় না। আশাভঙ্গ হলে মুষড়ে পড়ে না। বিপদ-মুসিবত, যুদ্ধ-সংকটে ঘাবড়ে যায় না।তাওয়াক্কুলের নীতি অবলম্বনকারী ব্যক্তি কখনাে হতাশ হয় আশাভঙ্গ হলে মুষড়ে পড়ে না। বিপদ-মুসিবত, যুদ্ধ-সংকটে ঘাবড়ে যায় না। যে কোনাে দুর্বিপাক, দুর্যোগ, সংকট ও বিপদ-মুসিবতে আল্লাহর ওপর দৃঢ় আস্থা রাখে। জুলুম, অত্যাচার, নির্যাতন নিপীড়নের যে ঝড়ই আসুক না কেন, ইমানদার ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করে না। এ ধরনের মানুষ সব সময়ই ভবিষ্যতের বিষয়ে আশাবাদী। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পুরাে জীবনকাল এবং তাঁর আহলে বায়েতের সবার জীবন ছিল আল্লাহর প্রতি নির্ভরতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। খােদাদ্রোহীদের অত্যাচার-নির্যাতনে, ক্ষুধা-দারিদ্র মােকাবেলায় এবং অনুসারীদের অভিযােগ-অনুযােগে, সর্বাবস্থায় তাঁরা তাওয়াক্কুলকে একমাত্র অবলম্বন হিসেবে গ্রহণ করতেন।

পবিত্র কুরআনের সুরা ত্বালাকের ৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তার কাজ সম্পন্ন করে দেবেন, তিনি সব কিছুর একটি পরিমাণ স্থির করে রেখেছেন। আসলে তাওয়াক্কুল হলাে মহান আল্লাহর দায়িত্বাধীন হওয়ার সর্বোত্তম উপায়। কোনাে মানুষেরই আসলে তার নিজের কোনাে শক্তি ও ক্ষমতা নেই। আমাদের উচিত বাস্তবতা উপলব্ধি করে আল্লাহর ওপর পরিপূর্ণভাবে তাওয়াক্কুল করা- এ ছাড়া মুক্তি সম্ভব নয়।

 

মন্তব্য

মতামত দিন