ধর্মীয় ইতিহাস প্রবন্ধ

পহেলা রবিউল আওয়াল এর রাত “লাইলাতুল মুবিত”।

হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের-এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত রবিউল আউয়াল মাসের প্রথম রাত্রিতে হয়েছিল। যে রাত্রিটি ইসলামের ইতিহাসে ‘লাইলাতুল মুবিত’ উন্মুক্ত আকাশের নীচে রাত্রিযাপন নামে বিখ্যাত। পয়গাম্বর (ﷺ) যখন মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার সিদ্ধান্ত নেন এবং মক্কার মুশরিকরা রাতে হযরতের উপর হামলা করে তাঁকে হত্যার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তখন আল্লাহ তায়ালা পয়গাম্বর (ﷺ)কে মুশরিকদের নীল নকশা সম্পর্কে অবহিত করেন। সে রাত্রিতে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম হযরত আলী আলাইহিস সালামকে নিজ বিছানায় শুইয়ে দিয়েছিলেন যেন মক্কার কাফেররা তাঁর অনুপস্থিতি বুঝতে সক্ষম না হয় এবং তিনি মদিনার উদ্দেশ্যে হিজরত করেন।তিনি ১২ রবিউল আউয়াল মদীনায় পৌঁছেন। হজরত আলি (আ.) কাফিরদের খোলা তলোয়ারের সামনে কাফিরদের দারা রাসুলাল্লাহ (ﷺ)’র হত্যার ভয়ংকর পরিকল্পনা জেনেও নবীজির প্রানরক্ষার্থে শত্রুদের ষড়যন্ত্রকে নস্যাত করার লক্ষ্যে রাসুল (ﷺ)এর বিছানায় নিশ্চিন্তা নির্বিঘ্নায় নিদ্রা যান। মাওলা আলী (আঃ) এর লাইলাতুল মাবিতের সেই ঘুম আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত এতই পছন্দ করলেন যে পবিত্র কুরআনের তখন মাওলা আলী (আ.)সম্পর্কে সুরা বাকারা’এর ২০৭ নং আয়াত নাযিল হয়।

ومن الناس من يشري نفسه ابتغاء مرضات الله والله رؤف بالعباد

“লোকদের মধ্যে এমন অনেক আছে, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির বিনিময়ে নিজেদের প্রাণকে বিক্রি করে, আল্লাহ তার বান্দাদের প্রতি দয়াশীল।”

হিজরতের দিনটি কখনোই নবীজীর জন্য আনন্দময় ছিলোনা। ঐ দিন নিজ মাতৃভূমি থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়ে মদীনা গমনের সময় মহানবী অশ্রুসিক্ত নয়নে মক্কার দিকে বারবার ফিরে তাকাচ্ছিলেন!নিজের পরিবারবর্গ, আত্মীয় স্বজন ও মাতৃভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নবীজীর মনে কী সত্যিই আনন্দ ছিলো? সত্যিই,আজ অতি আবেগি ধর্মান্ধদের মূর্খামির কারনেই নবীজী পরিবারের উপর বেদনাবিধুর ইতিহাস টুকু আজকাল আনন্দময় অনুষ্ঠান পর্বে পরিণত হয়েছে।এ যেন রাসুলুল্লাহ (ﷺ)কেই তাঁর ভিটা-মাটি থেকে তাড়িয়ে দিয়ে স্বদেশ ছাড়া করার বিজয়ানন্দ।

উল্লেখ্য যে,হিজরতের ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মারক বানিয়ে হজরত উমরের তার যুগে হিজরি নববর্ষের গোড়াপত্তন করেন। হযরত ওমর যে হিজরি সাল চালু করেন, মুহাম্মদ (ﷺ) এর হিজরতের বছর থেকে গণনা শুরু করে। তবে প্রথম মাস হিসেবে রবিউল আওয়াল কে বাদ দিয়ে আরবের ঐতিহ্য অনুযায়ী মহররমকেই নির্বাচন করা হয়।

আস্সালামু ‘আলাইকা আইয়্যুহান নাবীয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আস্সালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস্ সালিহীন।

সুত্রঃ

(১) হাসকানী হানাফী প্রণীত শাওয়াহেদুত তানযীল ১ম খ-, পৃঃ ১৩৩ থেকে ১৪১।
(২) ইবনে সাব¦াগ মালেকী প্রণীত “ফসুলুল মুহিম্মাত” হায়দারিয়া ছাপাখানায় মুদ্রিত-পৃঃ ৩১।
(৩) সাবত ইবনে জাওযী প্রণীত ‘তাযকিরাতুল খাওয়াস’ হায়দারিয়া ছাপাখানায় মুদ্রিত- পৃঃ ৩৫ ও ২০০।
(৪) কান্দুযী হানাফী প্রণীত ‘ইয়ানাবিউল মুওয়াদ্দাত’ ইস্তামবুলে মুদ্রিত, পৃঃ ৯২।
(৫) ফাখরুদ্দীন রাযীর তাফসীরে কবীর ৫ম খ- পৃঃ ২২৩। মিশরে মুদ্রিত।
(৬) শাবলাঞ্জী প্রণীত ‘নূরুল আবসার’ ওসমানিয়া জাপাখানায় মুদ্রিত, পৃঃ ৭৮
(৭) মুসনাদে আহমদ ১ম খ- পৃঃ ৩৪৮।
(৮)বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ১৯, পৃষ্ঠা ৩৯।
(৯)আস সহিহ মিন সিরাহ, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৭৪- ২০৬।

সৈয়দ হোসাইন উল হক


সিপাহসালার ইনস্টিটিউশন | অক্টোবর ২০২০এস এইচ হক

About the author

Syed Hossain ul Haque

সৈয়দ হোসাইন উল হক তরফ ও শ্রীহট্ট বিজয়ী মহান মনিষী সিপাহসালার সৈয়দ নাসির উদ্দিন (রহঃ)এর অধস্থন পুরুষ ‘নবী বংশ পরিচিতি ও মহান কোরবানি’ গ্রন্থের লেখক, হবিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সুরাবই সাহেব বাড়ীর সিংহপুরুষ সৈয়দ মোঃ ইসহাক আল হুসাইনী (রহঃ)সাহেবের মেঝ ছেলের ঘরের বড় নাতি।মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাজ্য গমন অতঃপর ইউনিভার্সিটি অফ সান্ডারল্যান্ড থেকে বিজনেস ম্যানেজমেন্টে অনার্স এবং কুইন মেরী ইউনিভার্সিটি থেকে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস এন্ড পলিটিক্সের উপর এম এস সি। তারপর ২০১৮ সালে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে ইসলামিক স্টাডিজ এন্ড হিস্টোরি’তে এম-ফিল। শিক্ষানবিশ কালে সেই সকল বিশ্ববিদ্যালয় সমুহের বিভিন্ন ছাত্র সংঘটনের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন।বর্তমানে লন্ডনে স্থায়ী ভাবে বসবাস করছেন পাশাপাশি লন্ডনের একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ম্যানেজারের দায়িত্বরত।তাছাড়াও যুক্তরাজ্যে একটি ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে ভিজিটর লেকচারার ও গবেষনা কেন্দ্রে অবিরাম বিভিন্ন বিষয়ে গবেষনা চালিয়ে যাচ্ছেন।আল-কোরআন ও হাদীসের আলোকে “যবহে আজিম এবং জিকিরে শাহাদাত”শীর্ষক গ্রন্থখানা তার দীর্ঘ গবেষনা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল।

মতামত দিন