প্রবন্ধ

কবর এবং মাজার দর্শন।

আবেগ তাড়িত এই জাতির ধর্মচর্চা হীনতা ও ধর্ম অনিহা নামক দূর্বলতার ফাঁক গলে মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে সাম্প্রদায়িক মৌলবাদের বিষবৃক্ষ। যার বিষাক্ত ফল খেয়ে সরল সহজ বিশ্বাসীদের ইমান আকিদা বিভ্রান্তির অতল গহ্বরে তলিয়ে যাচ্ছে।বিভ্রান্তিকর আকিদার তুমুল প্রচারণার ডামাঢোলে সরল সহজ মানুষের বিবেক বুদ্ধি আজ সাদা-কালোর মধ্যকার পার্থক্য নির্ণয়ের সাধারণ কৌশলটিও হারিয়ে ফেলেছে!

পবিত্র কুরআনের কিছু আয়াত রয়েছে যার ভাব একটু সাধারণ প্রকৃতির, এবং অধিকাংশ আয়াতের গভীরতা নিয়ে সহস্র কোটি বছর গবেষণা করলেও শেষ হবে কিনা জানিনা!পবিত্র কোরআনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে “কুল্লুন্ নাফসি যায়িক’আতুল মওত” অর্থাৎ ” সমস্ত নফসই (রুহ্ নয়) মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে”! এবং এই বিধানটি বাস্তবতার নিরিখে আমরা সবাই দেখি বলে সবাই বিশ্বাসও করি! কিন্তু তা স্থূল চোখে দেখিনা তা নিয়েই মতো সংশয়।

নফসের এই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ বলতে রক্ত-মাংসের এই স্থূল দেহ খাঁচা থেকে নফসের পৃথক বা আলাদা হবার ঘটাকেই বুঝায়। যখন রক্ত-মাংসের এই স্থূল দেহ থেকে নফসটি মৃত্যু নামক ঘটনার মধ্য দিয়ে পৃথক হয়ে যায়, ঠিক তখনই রক্ত-মাংসের এই স্থূল দেহটি একটা জঞ্জালে পর্যবসিত হয়। ফলে এই জঞ্জাল স্বরূপ নিষ্প্রাণ দেহটিকে প্রাক আরবিয় প্রথার সাথে নতুন কিছু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা রোগ করে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়, যেনো তা পঁচে-গলে পরিবেশকে দূষিত করতে না পারে। মানুষ নিষ্প্রাণ জঞ্জাল স্বরূপ অকেজো দেহটাকে নানা আনুষ্ঠানিকতায় মাটির যে স্থানটিতে পুঁতে ফেলা হয়, ইসলামী পরিভাষায় তাকেই কবর বলা হয়।

খুব ভালো করে বুঝতে হবে, কবরে কোনো ব্যক্তি তথা নফসকে শায়িত করা হয় না; শায়িত করা হয় ব্যক্তির লাসকে!দেহ থেকে পৃথক হয়ে গেলে একটি নফসের জন্য সমস্ত আমল ও তওবার রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। তখন ঐ বিদেহী নফসটির জন্য দেহধারী জীবিত ব্যক্তিরা কেবল দোয়াই কামনা করতে পারেন। তাই মৃতদের পঁচনশীল লাস রাখার কবরগুলোকে সমতল জমিনের সাথে মিশিয়ে দিতে নির্দেশ রয়েছে শরিয়তে। তবুও কোনো কোনো ঐতিহাসিক ব্যক্তি বা প্রিয় কোনো মানুষের স্মৃতি চিহ্ন স্বরূপ ও কবরের পাশে কোনো পাথর, বাঁশ বা খুঁটি পুঁতে রাখতে কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়!
এটি হচ্ছে সাধারণ মানুষের জন্য একটি সাধারণ বিধান।

তবে এখন আমি এই সাধারণ বিধান বহির্ভূত একটি বিশেষ বা অসাধারণ বিধানের দিকে সবার মনোযোগ আকর্ষণ করছি!পবিত্র কুরআনে সুরা আলে ইমরানের ১৬৯ নাম্বার আয়াতে খুব দৃঢ়তা ও ধমকের সাথে ঘোষণা করা হলোঃ

وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِيْنَ قُتِلُوْا فِىْ سَبِيْلِ اللّٰهِ اَمْوَاتًا ‌ؕ
“না না! চিন্তাও করোনা; যারা আল্লাহর রাস্তায় কতল (শহীদ) হয় তাঁদেরকে তোমরা মৃত বলো না!
بَلْ اَحْيَآءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُوْنَۙ
“বরং তাঁরা জীবিত; তাঁরা তাঁদের রবের কাছ থেকে রিজিক প্রাপ্ত হচ্ছে”।

বিবেক সম্পন্ন বন্ধুরা, উক্ত আয়াতে কারিমটির প্রতি একটু গভীর ভাবে লক্ষ্য করুন! এখানে স্পষ্ট ধমকের সুরেই বলা হয়েছে, যাঁরাই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের উপর জীবন কুরবানী করবে তাঁদেরকে যেনো আমরা মৃত বলবো থাক দূরের কথা মনে মনে চিন্তাও যেনো না করি। তারপরও যদি মনে মনে চিন্তা করি তবে আপনার ইমান আকিদা কোথায় গিয়ে ঠেকবে আপনিই বিচার করুন।তারপর বলা হলোঃ “বরং তাঁরা জীবিত” এবং (عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُوْنَۙ ) তাঁরা তাঁদের রবের কাছ থেকে রিজিক প্রাপ্ত হচ্ছে”!এখন প্রশ্ন হলো রিজিক বিষয়টি জীবিতদের জন্য প্রযোজ্য, নাকি মৃতদের জন্য প্রযোজ্য?কিন্তু মহান রবের ইচ্ছা বা সন্তুষ্টির উপর কুরবানী হয়ে যাওয়া শহীদ বন্ধু তথা অলিদেরকে গোপনে গোপনে রিজিক খাইয়ে বাঁচিয়ে রাখার এই রহস্যের জ্ঞান সর্বসাধারণের নেই বলেই আল্লাহ পাক আমাদেরকে খুব করে সতর্ক করে বলে দিয়েছেন, আমরা যেনো তাঁর বন্ধুদেরকে মৃত বলে মনে মনে চিন্তা বা ধারণাও না করি।কি সাংঘাতিক কথা!আল্লাহর শহীদ বন্ধুদেরকে মৃত বলে মনে মনে চিন্তা বা ধারণাও করলেও কুফরী হিসেবে গন্য হবে; অন্য কোনো ক্ষেত্রে এমন ব্যতিক্রম কোনো বিধান আছে কি না জানি না!

এই আয়াতে কারিমের প্রেক্ষিতে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, রবের মহান বন্ধুদেরকে বাঁচিয়ে রাখতে গোপনে গোপনে রিজিক প্রবাহ করা হচ্ছে। তাই মহান রবের এমন চিরঞ্জীব বন্ধুদের পবিত্র দেহ মোবারকটি যেখানেই অতি যত্ন ও সম্মানের সাথে রাখা হয় তার উপর একটি সুন্দর মনোরম ঘর নির্মাণ করে তত্ত্বাবধান করাও ওয়াযীব।তাই আমার ইতিহাস থেকে দেখতে পাই রাসূলে পাক মুহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ) পর্দা গ্রহণের পর তাঁর মহাপবিত্র দেহটিকে নিজের শয়নকক্ষেই সযত্নে শায়িত করা হয়েছে! পরবর্তীতে রাসূল পাকের সেই ঘরের উপর ইট পাথরের সবুজ গম্বুজ তৈরি করা হয়েছে। যেটাকে আমরা রাসূল পাকের রওযা শরীফ বলে থাকি। একই ভাবে পূর্ববর্তী নবী-রাসূরগনের শায়িত স্থানের উপরেও নানা কারুকার্য খচিত ঘর নির্মাণ করা হয়েছিল। এবং একই নিয়ম মেনে রাসূল পাকের উম্মতগনের মধ্য থেকে যাঁরাই মহান রবের বন্ধুত্ব অর্জন করত পর্দা গ্রহণ করেছেন তাঁদের পবিত্র শায়িত স্থানটিতেও সুন্দর করে একটি ঘর নির্মাণের নিয়ম চলে আসছে, যে ঘরটিকে আমরা মাজার বা রওযা বলে চিনি।এই মাজার বা রওযা কোনো সাধারণ মানুষের পঁচনশীল লাস রাখার স্থান নয়; মহান রবের ঐ অতি সম্মানিত বন্ধুদের শয়ন কক্ষ যারা তাঁদের রব হতে গোপনে গোপনে নিয়মিত রিজিক প্রাপ্ত হচ্ছেন।

কাজেই নিজের অশান্ত আত্মার প্রশান্তি ও পবিত্রতার জন্য মহান রবের মহান বন্ধূদের খেদমতে গিয়ে সেবাদান, সাজসজ্জা করন এবং তাঁদেরকে উসিলা করে রবের দরবারে আজিজি করাই ধর্মশাস্ত্রের তাগিদ!তবে প্রতারক বা ভণ্ডেরাও আজকাল মাজার বানিয়ে ধর্ম ব্যবসায় লিপ্ত রয়েছে এটাও একটা অনস্বীকার্য বাস্তব সত্য। তবে এরজন্য চাই সঠিক ধর্ম গবেষণা চর্চা ও সচেতনতা। কারন, উকুনের উপদ্রবে মাথা কেটে ফেলার বিধান আছে কি?

সুরা আলে ইমরানের ১৬৯ নাম্বার আয়াতে কারিমের প্রেক্ষিতে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, রবের মহান বন্ধুদেরকে বাঁচিয়ে রাখতে গোপনে গোপনে রিজিক প্রবাহ করা হচ্ছে। তাই মহান রবের এমন চিরঞ্জীব বন্ধুদের পবিত্র দেহ মোবারকটি যেখানেই অতি যত্ন ও সম্মানের সাথে রাখা হয় তার উপর একটি সুন্দর মনোরম ঘর নির্মাণ করে তত্ত্বাবধান করাও ওয়াযীব হয়ে যায়।তাই আমার ইতিহাস থেকে দেখতে পাই রাসূলে পাক মুহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ) পর্দা গ্রহণের পর তাঁর মহাপবিত্র দেহটিকে নিজের শয়নকক্ষেই সযত্নে শায়িত করা হয়েছে! পরবর্তীতে রাসূল পাকের সেই ঘরের উপর ইট পাথরের সবুজ গম্বুজ তৈরি করা হয়েছে। যেটাকে আমরা রাসূল পাকের রওযা শরীফ বলে থাকি।

একই ভাবে পূর্ববর্তী সকল নবী-রাসূরগনের শায়িত স্থানের উপরেও নানা কারুকার্য খচিত ঘর নির্মাণ করা হয়েছিল, যা আজও বর্তমান। এবং একই নিয়ম মেনে রাসূল পাকের উম্মতগনের মধ্য থেকে যাঁরাই মহান রবের বন্ধুত্ব অর্জন করত পর্দা গ্রহণ করেছেন তাঁদের পবিত্র শায়িত স্থানটিতেও সুন্দর করে একটি ঘর নির্মাণের নিয়ম চলে আসছে, যে ঘরটিকে আমরা মাজার বা রওযা বলে চিনি। তাছাড়া পবিত্র কোরআনে সুরা কাহাফে বর্ণিত ২১ নাম্বার আয়াতে সেই গুহাবাসী সাতজন মহান অলিদের পবিত্র দেহগুলো অন্তিম ভাবে যেখানে রাখা হয়েছে, তার উপর মসজিদ তথা সেজদা বা তাজিমের স্থান নির্মানের দলিলটিও আমরা দেখতে পাই, যেটা অলিদের পবিত্র সমাধিপরে পাকা ঘর নির্মাণ ও তাজিমের শক্তিশালী দলিল বলে অনেকেই গ্রহণ করেছেন।

আরবি ভাষায় “রওযা” অর্থ “বাগান” এবং “মাজার” অর্থে জেয়ারত বা দর্শনীয় স্থানকেই বুঝায়।এই মাজার বা রওযা কোনো সাধারণ মানুষের পঁচনশীল লাস রাখার স্থান নয়; মহান রবের ঐ অতি সম্মানিত বন্ধুদের শয়ন কক্ষ যারা তাঁদের রব হতে গোপনে গোপনে নিয়মিত রিজিক প্রাপ্ত হচ্ছেন, তার ফলে হাজার হাজার বছর পেরিয়ে গেলেও আল্লাহর বন্ধুদের পবিত্র দেহটি মাটির জন্য ভক্ষন করা চিরতরেই অসম্ভব! আর এই ঘটনাটি একটি সাধারণ বিজ্ঞান বহির্ভূত এক সুগভীর রহস্যময় অতি বিজ্ঞানের বিষয় বলেই মনে করতে চাই। এবং এই রহস্যময় ঘটনাটি অবশ্যই মহান রবের অসীম প্রজ্ঞা ও শক্তির একটি জ্বলন্ত নিদর্শন বা আয়াত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এবং এ বিষয়ে বহু শক্তিশালী হাদিসও রয়েছে, কিন্তু কলেবর বেড়ে যাবে বলে বিরত রইলাম।কাজেই নিজের অশান্ত আত্মার প্রশান্তি ও পবিত্রতার জন্য মহান রবের মহান বন্ধূদের খেদমতে গিয়ে সেবাদান, সাজসজ্জা করন এবং তাঁদেরকে উসিলা করে রবের দরবারে আজিজি করাই ধর্মশাস্ত্রের তাগিদ!

তবে প্রতারক বা ভণ্ডেরাও আজকাল মাজার বানিয়ে ধর্ম ব্যবসায় লিপ্ত রয়েছে এটাও একটা অনস্বীকার্য বাস্তব সত্য। তবে এরজন্য চাই সঠিক ধর্ম গবেষণা চর্চা ও সচেতনতা। কারন, উকুনের উপদ্রবে মাথা কেটে ফেলার বিধান আছে কি?তাছাড়া, রাসূল পাকের জামানাতেও মুসলিম অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকায় বহু নবী-রাসূলগনের মাজার বা রওযা শরীফ খুব বহাল তবিয়তেই সংরক্ষিত ছিলো। কিন্তু মজার বিষয় হলো, ইসলামী ইতিহাসে বা কোনো হাদিস গ্রন্থে এমন কোনো দলিল নেই যে, নবীজীর হুকুমে কোনো নবী-রাসূলের মাজার ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু বড়ই অবাক হলাম যখন জানতে পারলাম নবীজীর আদেশে জেরার মসজিদ গুলো ভেঙে মাটিতে মিশিয়ে দেয়া হয়েছিল।

অথচ, আজকাল বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলের আনাচে কানাচে ঐ নিষিদ্ধ মসজিদে জেরার ব্যাঙের ছাতার মতো সয়লাব হয়ে গেছে। এবং ঐ নিষিদ্ধ মসজিদে জেরার অবৈধ মুসল্লিরাই আজকাল আল্লাহর বন্ধুদের পবিত্র মাজার গুলোর ভেঙে গুড়িয়ে দেবার নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, যাতে করে দুনিয়া থেকে মহান রবের প্রিয় বন্ধুদের নাম ও নিশানা চিরতরে মুছে যায়।কিন্তু মহান রবের মহান কৌশল বরাবরই ঐ মুসলিম লেবাসধারী মুনাফিকদের চিন্তা ভাবনার বাইরেই থেকে যায়!

-তোফায়েল আজম


সিপাহসালার ইনস্টিটিউশন | অক্টোবর ২০২০এস এইচ হক

মতামত দিন