প্রবন্ধ

কারবালার ঘটনার ৩৪ বছর পর ৯৫ হিজরীর ২৫শে মুহররম আজকের এই দিনে শাহাদত বরণ করেন ইমাম জয়নুল আবেদীন(আঃ)।

আজ ২৫ শে মুহররম নবী বংশের নক্ষত্র ইমাম আলী বিন হুসাইন (আ.) [জয়নুল আবেদীন] এর শাহাদাত দিবসে সকল অনুসারীদেরকে জানাই গভীর শোক শোক ও সমবেদনা। ইমাম আলী বিন হুসাইন (আ.) [জয়নুল আবেদীন] রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই‌হি ওয়া আ‌লেহী ওয়া সাল্লা‌মের আহ‌লে বাই‌তের চতুর্থ ইমাম ছি‌লেন। তিনি জয়নুল আবেদীন উপাধিতেই সমধিক পরিচিত ছিলেন। তিনি কারবালার ঘটনার ৩৪ বছর পর ৯৫ হিজরীর ২৫শে মুহররম মদীনা মুনাওয়ারা উমাইয়া খলিফা ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালেকের দেয়া বিষে তিনি শাহাদত বরণ করেন।জান্নাতুল বাকী‌কে তাঁকে দাফন করা হয়।

নামঃ ইমাম আলী বিন হুসাইন (.)
উপাধিঃ সাজ্জাদ, জয়নুল আবেদীন, সাইয়েদুশ সাজেদীন।
ডাক নামঃ আবুল হাসান।
পিতার নামঃ ইমাম হুসাইন (আ.)।
মাতার নামঃ হযরত শহর বানু (রাঃ)।
জন্ম তারিখঃ বৃহঃস্পতিবার, ৫ই শাবান ৩৮ হিজরী।
জন্মস্থানঃ মদীনা মুনাওয়ারা।
আয়ুঃ ৫৭ বছর।
ইমামতকালঃ ৩৫ বছর।
হত্যাকারীঃ উমাইয়া খলিফা ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালেকের দেয়া বিষে তিনি শহীদ হন।
শাহাদতঃ ২৫ মহরম ৯৫ হিজরী মদীনা মুনাওয়ারা।
দাফনের স্থানঃ জান্নাতুল বাক্বী।
সন্তানঃ ১৫জন, ১০জন ছেলে এবং ৫জন কন্যা।

কাবা ঘরের হাজরে আসওয়াদ বা কালো পাথরের কাছে হাজিদের প্রচণ্ড ভিড়। উমাইয়া শাসক আবদুল মালিক কালো পাথরের কাছে যাবার জন্যে অনেক কষ্ট করেও ভিড় ঠেলে তেমন একটা এগুতে পারছিলেন না। অথচ দেখা গেল সৌম্য ও নুরানি চেহারার এক ব্যক্তিকে মানুষ প্রাণঢালা সম্মান জানিয়ে পথ ছেড়ে দেয়ায় ঐ ব্যক্তি সহজেই পৌঁছে গেলেন কালো পাথরের কাছে। হিশাম ওই ব্যক্তিকে চিনেও না চেনার ভান করে বিরক্ত চেহারা নিয়ে জানতে চাইলেন কে এই ব্যক্তি!? সেখানে উপস্থিত কবি ফারাজদাক খলিফার প্রশ্নের উত্তর দিলেন কাব্যিক ভাষায়ঃ

এতো তিনি প্রতিটি ধূলিকণার কাছে যাঁর পদক্ষেপ পরিচিত
যিনি অতি আপন এই কাবা ঘরের কাছে যে ঘর সর্বজন-নন্দিত
ইনি তো তাঁর সন্তান যিনি খোদার রাসূলদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম
আর ইনি তো নিজেই শ্রেষ্ঠ ইবাদতে ও তাসবীহ তাহলিলে,
নির্মল নিষ্কলুষ, নিশানবরদার ইসলামের, পূত-পবিত্র, সততায় দীপ্ত
ইনি তো সন্তান মা ফাতেমার,যদি না জেনে থাকো তুমি পরিচয় তাঁর
জেনে রাখো এঁর প্রপিতামহের মাঝেই সমাপ্তি নবুয়্যত ধারার
খোদাকে যে চিনেছে সে-ই তো জানে ইনিই তো মর্যাদায় ও শ্রেষ্ঠত্বে আগে সবার
যেহেতু সারা বিশ্বে পৌঁছেছে ধর্মের বাণী এঁরই রক্তধারার উসিলাতে।

হ্যাঁ, আজ আমরা এমন এক মহাপুরুষের কথা বলছি যাঁর রক্তধারা পৃথিবীর বুকে প্রকৃত ইসলামকে টিকিয়ে রেখেছে। ইসলামকে বিলীন করে দেয়ার উমাইয়া ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে শহীদগণের নেতা ইমাম হুসাইন (আ.) কারবালার যে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন সে বিপ্লবের বাণী ও প্রকৃত ঘটনা যিনি পরবর্তী যুগের মুসলমানদের জন্যে সংরক্ষিত করেছিলেন তিনিই হলেন আমাদের আজকের আলোচ্য মহাপুরুষ হযরত আলী বিন হুসাইন জয়নুল আবেদীন (আ.)।

৬১ হিজরীতে কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার পরে ইমাম হোসাইন আলাইহিস সালাম সমর্থক-অনুসারীরা কেউ সমাজে প্রকাশ্যে ইমাম হোসাইন (আঃ)-এর পক্ষে কথা বলতে পারত না। মসজিদের ইমামরা ইয়াজিদের আনুগত্য প্রকাশ করত,শহরের কাজীরা রাজতন্ত্রের সকল অপকর্মের বৈধতা দিয়ে দিত। ইয়াজিদের পিতা মুয়াবিয়ার সময় থেকেই তার অধীন মসজিদসমূহে হযরত আলী আলাইহিস সালামকে গালি দেয়া হত। ইবনে আবীল হাদিদ ও আল্লামা মাজলিসি তাঁদের কিতাবে উল্লেখ করেছেনঃ সে সময় আহলে বাইতে রাসূল আলাইহিমুস সালামকে ভালোবাসতো মক্কা-মদীনায় এমন মানুষের সংখ্যা বিশ জনও ছিল না।পিতা ইমাম হুসাইন (আঃ)’র পর নতুন ইমাম হিসেবে তিনি কুফা ও দামেস্কে জালিম শাসকদের দরবারে বীরত্বপূর্ণ ভাষণ দিয়ে তাদের আতঙ্কিত করে তুলেন। ফলে গণ-বিদ্রোহের ভয়ে আতঙ্কিত জালিম ইয়াজিদ কারবালা থেকে বন্দী করে আনা নবী-পরিবার ও ইমামের সঙ্গীদেরকে মুক্তি দিতে এবং তাঁদেরকে সসম্মানে মদীনায় পাঠিয়ে দিতে বাধ্য হয়।

ইমাম জয়নুল আবেদীন (আঃ) তাঁর পিতার শাহাদাতের পর প্রায় ৩৪ বছর পর্যন্ত জীবিত ছিলেন এবং সমগ্র জীবনকাল নিবেদিতচিত্তে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি ও শহীদ পিতার স্মরণের মধ্যে অতিবাহিত করেন।দশই মহরমের সেই ভয়াবহ ঘটনার দিনে মারাত্মক অসুস্থ থাকায় তিন জিহাদে যোগ দিতে পারেন নি। ইয়াজিদের সেনারা তাকে হত্যা করতে গিয়েও তাঁর ফুফু হযরত যয়নব (সাঃআঃ)’র প্রতিরোধের মুখে এই মহান ইমামকে জীবিত রাখতে বাধ্য হয়।পরবর্তীকালেও আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে যান । আসলে মহান আল্লাহই এভাবে তাঁকে মুসলিম উম্মাহর নেতৃত্ব দেয়াসহ কারবালার কালজয়ী বিপ্লবের পরবর্তী অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করা ও এ বিপ্লবের প্রকৃত বাণী মুসলমানদের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্যে জীবিত রেখেছিলেন।কারবালা বিপ্লবের প্রকৃত ঘটনা ও শিক্ষা প্রচারের পাশাপাশি ইসলাম বিরোধী নানা চিন্তাধারার মোকাবিলায় ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা তুলে ধরার দায়িত্ব পালন করতেন ইমাম সাজ্জাদ।সে সময় ইমাম হোসাইন আলাইহিস সালামের একমাত্র জীবিত পুত্র  ইমাম জয়নুল আবেদীন (আঃ) উমাইয়া খলিফাদের নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রকাশ্যে ইসলামের প্রচার, বক্তব্য, জুমার খুতবা-নামাযের ইমামতি করতে পারতেন না। এমতবস্থায় তিনি মদীনায় তাঁর বাড়ির একটা ঘরে ইবাদত-বন্দেগী ও দোয়া-দরুদ পাঠ করতেন এবং মানুষ তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করতে আসলে তাদের কারাবালার শাহাদাতের ঘটনা বর্ণনা করতেন, কাঁদতেন। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে নামাজ ও সিজদায় রত থাকতেন বিধায় ‘সাজ্জাদ’ হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন। ইমাম জয়নুল আবেদীন (আঃ) আল্লাহ তাআলার প্রতি এত বেশি মনোযোগী থাকতেন যে, নামাযের প্রস্তুতির জন্য ওজু করার সময়ই তাঁর চেহারায় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যেত এবং নামাযে দণ্ডায়মান অবস্থায় আল্লাহর ভয়ে তাঁর শরীর কাঁপতে থাকত। কেন এমন হয় জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলতেন: ‘তোমরা কি জান, নামাযে আমি কার সামনে দাঁড়াই এবং কার সাথে কথা বলি?’

শুধু তাই নয়, আশুরার সেই ভয়াল দিনটিতে ইয়াযীদের বাহিনী যখন তাঁর পিতা, আত্মীয়-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধবের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালায় এবং শিবিরে আগুন ধরিয়ে দেয়, তখনও এই মাসুম ইমাম তাঁর প্রভুর বন্দেগিতে নিমগ্ন ছিলেন।ইয়াযীদের বর্বর বাহিনীর লোকেরা যখন মহিলা ও শিশুদের বন্দি করে উটের খালি পিঠে করে রশি দিয়ে বেঁধে নিয়ে যাচ্ছিল এবং অসুস্থতা সত্ত্বেও ইমামের ঘাড়ে ও পায়ের গোড়ালিতে ভারী শিকল পরিয়ে খালি পায়ে কারবালা থেকে কুফা ও দামেস্ক পর্যন্ত হেঁটে যেতে বাধ্য করেছিল, তখনও এই খোদায়ী আত্মা এক মুহূর্তের জন্য তাঁর প্রভুর আরাধনা থেকে মনোযোগ হারাননি।

ইমাম জয়নুল আবেদীন (আঃ) যে ঘরে বসে কারাবালার ঘটনা বর্ণনা করতেন সে ঘরটাকে ‘বাইতুল হুজন’ বা দুঃখের ঘর বলা হত। মসজিদে যেহেতু কারবালার ঘটনা আলোচনা করার সুযোগ ছিল না সেহেতু ইমাম হোসাইন (আঃ)-এর সমর্থক-অনুসারীরা নিজ নিজ এলাকায় শুধু কারবালা-ইমাম হোসাইন আলাইহিস সালামে কে কেন্দ্র করে বিশেষ ঘর নির্মাণ করতেন। যে প্রথাটা তখন থেকে এখনও সমগ্র বিশ্বে বিদ্যমান। সেই বিশেষ ঘরগুলোকে আরব-পারস্যে হোসাইনিয়া, পাকিস্তান-ভারত-বাংলাদেশে আশুরাখানা/ইমামবাড়া(ইমামবারগাহ)/পাক পান্জাতন মোকাম বলা হয়।

ইমাম জয়নুল আবেদীন (আঃ) সেসময় যে দোয়া-মুনাজাতগুলো পাঠ করেছিলেন, সেগুলো পরবর্তীতে ‘সহীফায়ে সাজ্জাদিয়া’ নামে সংকলন করা হয়। সম্প্রতি হুজ্জাতুল ইসলাম আব্দুল কুদ্দুস বাদশা এই গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থটি আরবী ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেছেন।সহিফায়ে সাজ্জাদিয়া’ নামে তাঁর দোয়া ও মুনাজাতের অমর গ্রন্থটি আত্মিক পরিশুদ্ধি ছাড়াও সামাজিক এবং রাজনৈতিক সংস্কারের নানা দিক-নির্দেশনায় সমৃদ্ধ। ইমামের রেখে যাওয়া ‘রিসালাতাল হুক্বুক্ব’ শীর্ষক অধিকার সংক্রান্ত নির্দেশনা মানবাধিকার বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার ঘোষণার চেয়েও বিস্তারিত ও আধ্যাত্মিক ঔজ্জ্বল্যে ভরপুর।

কারবালার ঘটনার পর ইমাম জয়নুল আবেদীন (আঃ) ও হযরত জয়নাব (সাঃআঃ) যদি জীবিত না থাকতেন তাহলে কারবালার শহীদদের আত্মত্যাগ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংঘটিত ঐ বিপ্লবকে নিছক একটা দুর্ঘটনা বলে প্রচার করার ইয়াজিদী চক্রান্ত সফল হতো। উমাইয়া শাসকরা তখন এটাও প্রচার করতো যে ইমাম হুসাইন (আ.) ইয়াজিদের মতো তাগুতি শাসকের শাসন মেনে নিয়েছিলেন। আর এর ফলে পবিত্র ইসলাম ধর্মকে অবিচারের ব্যাপারে আপোসকামী ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার ষড়যন্ত্রও সফল হতো। কিন্তু মহান আল্লাহর ইচ্ছায় ইমাম জয়নুল আবেদীন (আঃ) ও হযরত জয়নাব (সাঃআঃ) কারবালা থেকে বন্দী অবস্থায় কুফা ও দামেস্কে যাবার পথেই স্বল্প সময়ে জনগণকে জানিয়ে দেন যে কারবালায় প্রকৃতপক্ষে কি ঘটেছিল এবং কারা ছিল ইসলামের জন্যে নিবেদিত-প্রাণ ও কারা ছিল ইসলামের লেবাসধারী জালেম শাসক মাত্র।

কারবালার ঘটনার পর তিনি যখনই পানি দেখতেন বাবাসহ কারবালার শহীদদের চরম পিপাসার কথা ভেবে কান্নায় ভেঙ্গে পড়তেন। কোনো ভেড়া বা দুম্বা জবাই করার দৃশ্য দেখলেও কেঁদে আকুল হতেন। তিনি প্রশ্ন করতেন এই পশুকে জবাইর আগে পানি পান করানো হয়েছে কিনা। পানি দেয়া হয়েছে একথা শোনার পর তিনি বলতেন, কিন্তু আমার (তৃষ্ণার্ত ও ক্ষুধার্ত) বাবাকে পানি না দিয়েই জীবন্ত অবস্থায় জবাই করেছিল ইয়াজিদ-সেনারা। ইমাম জয়নুল আবেদীন (আঃ) সব সময় রোজা রাখতেন। ইফতারির সময় তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলতেন: রাসূল (সা.)’র সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে ক্ষুধার্ত ও পিপাসার্ত অবস্থায়।

ইমাম জয়নুল আবেদীন (আঃ) সব সময় দিনে রোজা রাখতেন ও পুরো রাত জেগে ইবাদত করতেন। রোজা ভাঙ্গার সময় তিনি বাবার ক্ষুধার্ত ও পিপাসার্ত অবস্থার কথা উল্লেখ করে এত বেশি কাঁদতেন যে অশ্রুতে খাবার ভিজে যেত। জীবনের শেষ পর্যন্ত এই অবস্থা ছিল তাঁর।একদিন তাঁর খাদেম ইমামের কান্নারত অবস্থায় তাঁকে বলেনঃ আপনার দুঃখ ও আহাজারি শেষ হয়নি?
উত্তরে তিনি বলেনঃ তোমার জন্য আক্ষেপ! ইয়াকুব (আ.) আল্লাহর একজন নবী ছিলেন। তাঁর ১২ জন সন্তান ছিল। কিন্তু আল্লাহ তাঁর এক পুত্র ইউসুফকে চোখের আড়ালে রাখায় শোকে, দুঃখে ও অতিরিক্ত কান্নায় তিনি প্রায় অন্ধ হয়ে পড়েন, চুল পেকে যায় ও পিঠ বাঁকা হয়ে যায়। সন্তান জীবিত থাকা সত্ত্বেও তাঁর এ অবস্থা হয়েছিল। আর আমি আমার পিতা, ভাই এবং পরিবারের ১৮ জন সদস্যকে মাটিতে পড়ে যেতে ও শহীদ হতে দেখেছি; তাই কিভাবে আমার দুঃখ ও অশ্রু থামতে পারে!

আবারও ইমাম জয়নুল আবেদীন (আঃ)-এর শাহাদাত দিবসে সকল অনুসারীদেরকে জানাই আন্তরিক শোক-সমবেদনা ও মহান সত্তার শানে পেশ করছি অশেষ দরুদ ও সালাম।

“আল্লাহুম্মা লা’আন আউয়ালা জালামা মুহাম্মাদ ওয়া আলে মুহাম্মাদ।আল্লাহুমা সাল্লে ‘আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলে মুহাম্মাদ আত তাইয়েবিন আত তাহেরিন ওয়াল মাসুমিন আল মজলুমিন ওয়া লা’নতুল্লাহে ‘আলা আদাইহিম।আল্লাহুমা সাল্লে আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলে মুহাম্মাদ ওয়া আজ্জিল ফারাজাহুম।”

—সৈয়দ হোসাইন ঊল হক


সিপাহসালার | ইনস্টিটিউশন | সেপ্টেম্বর ২০২০এস এইচ হক

About the author

Syed Hossain ul Haque

সৈয়দ হোসাইন উল হক তরফ ও শ্রীহট্ট বিজয়ী মহান মনিষী সিপাহসালার সৈয়দ নাসির উদ্দিন (রহঃ)এর অধস্থন পুরুষ ‘নবী বংশ পরিচিতি ও মহান কোরবানি’ গ্রন্থের লেখক, হবিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সুরাবই সাহেব বাড়ীর সিংহপুরুষ সৈয়দ মোঃ ইসহাক আল হুসাইনী (রহঃ)সাহেবের মেঝ ছেলের ঘরের বড় নাতি।মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাজ্য গমন অতঃপর ইউনিভার্সিটি অফ সান্ডারল্যান্ড থেকে বিজনেস ম্যানেজমেন্টে অনার্স এবং কুইন মেরী ইউনিভার্সিটি থেকে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস এন্ড পলিটিক্সের উপর এম এস সি। তারপর ২০১৮ সালে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে ইসলামিক স্টাডিজ এন্ড হিস্টোরি’তে এম-ফিল। শিক্ষানবিশ কালে সেই সকল বিশ্ববিদ্যালয় সমুহের বিভিন্ন ছাত্র সংঘটনের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন।বর্তমানে লন্ডনে স্থায়ী ভাবে বসবাস করছেন পাশাপাশি লন্ডনের একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ম্যানেজারের দায়িত্বরত।তাছাড়াও যুক্তরাজ্যে একটি ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে ভিজিটর লেকচারার ও গবেষনা কেন্দ্রে অবিরাম বিভিন্ন বিষয়ে গবেষনা চালিয়ে যাচ্ছেন।আল-কোরআন ও হাদীসের আলোকে “যবহে আজিম এবং জিকিরে শাহাদাত”শীর্ষক গ্রন্থখানা তার দীর্ঘ গবেষনা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল।

মতামত দিন