প্রবন্ধ

হযরত ওয়ায়েস করনী (রহঃ) যে “দাত” ভাঙ্গলেন,রক্ত ঝরালেন,উনার উপর কি ফতােয়া আসবে❓

হযরত ওয়ায়েস করানী (রহঃ) এর নাম জানেন না এমন মুসলমান দুনিয়াতে নেই। তিনি আসেকে রসুল (দঃ) ছিলেন। এ ধরণের আসেক ছিলেন যার হুজুরে পাক (দঃ) উনার পাক জোব্বা মোবারক দান করেছিলেন যা এগার বছর পর পৌছানো হয়। তিনি হুজুরে পাক (দঃ) এর জন্য এতই আসেক ও পাগল প্রায় ছিলেন যে,রেওয়ায়েতে আছে জঙ্গে ওহােদে নবী পাক (দঃ) এর দাঁত মোবারক শহীদ হবার পর তিনি কোন দাঁত মোবারক শহীদ হয়েছেন বুঝতে না পেরে একে একে সমস্ত দাঁত ভেঙ্গে ফেলেছিলেন।

সূত্রঃ সিরাত এ হালবিয়া খন্ড-২ পৃষ্ঠা ২৯৫ ইংলিশ এডিশন। তাজকীরাতুল আওলীয়া পৃষ্ঠা-৩০,বাংলা এডিশন।

এখন আমার প্রশ্ন এমন কোনো রেওয়ায়েত আছে যে যেখানে রাসূলুল্লাহ(সাঃ)’বলেছিলেন যদি দেখো আমার দাঁত ভেঙ্গে গেসে তখন তোমাদের মধ্যে কেউ দাঁত ভেঙ্গে দিও ? তাহলে এটাতো নিশ্চিত ওয়ায়েস কুরুনীর উক্ত কর্ম কওলি সুন্নাত দ্বারা প্রমানিত নয়।এখন যদি লক্ষ্য করি রাসূল (সাঃ)’ কি কখনো এমন করেছিলেন যে,কোনো এক সাহাবীর দাঁত ভেঙ্গে যাওয়ায় তিনিও নিজের দাঁত ভেঙ্গে ফেলেছিলেন ? অবশ্যই না এরূপ রাসুল (সাঃ)’ কখনো করেন নাই।তাহলে এটাতো স্পস্ট হয়ে গেলো হযরত ওয়ায়েস কুরুনীর রক্তাক্ত মাতম রাসূল (সাঃ)’এর ফেইলি সুন্নাত দ্বারা সমর্থিত নয়। এখন প্রশ্ন চলে আসে যখন রাসূল(সাঃ)’উক্ত কর্ম যখন নিজে করেন নাই এবং কোনো যায়গায় বলেন নাই।দাঁত আল্লাহ পাকের দেওয়া নেয়ামত। তা ইচ্ছাকৃত ভাবে ভেঙ্গে ফেলার কোন অধিকার আল্লাহ পাক কাউকে দেননি। তবু তিনি এত বড় আল্লাহর অলি হয়ে কেন তা করতে গেলেন? দাঁত ভাঙ্গতে অবশ্যই কষ্ট হয়েছে,রক্তপাত হয়েছে কিন্তু সেই দিকে হযরত ওয়ায়েস করনী (রহঃ) কোন খেয়ালই ছিল না। কোন কোন বর্ণনায় পাওয়া যায় হযরত ওয়ায়েস করনী (রহঃ) হযরত ওমর কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, হুজুর পাক (দঃ) এর কোন দাঁত মোবারক শহীদ হয়েছেন,তিনি উত্তর দিতে অপরাগ হলে হযরত ওয়ায়েস করনী (রহঃ) বলেছিলেন,আপনার বোধ হয় হুজুরে পাক (দঃ) কে দেখেননি।শুনুন,আকল শরিয়ত আর ইশক মারেফত। আকলে যা হালাল, ইশকে তা হারাম আবার আকলে যা হারাম, ইশকে তা হালাল।আকলের কাছে নিজের দাঁত ভাঙ্গে রক্তপাত ঝরানো হারাম, হযরত ওয়ায়েস করনী (রহঃ) যদি কোন মৌলভী কে জিজ্ঞেস করে এই কাজ করতে যেতেন তাহলে? কোন মৌলভীই এই কাজ করতে দিতেন না, কারন এটা তাদের বুঝের বাইরের জিনিস। তাদের বুঝে আসেইনা।আকল আর ইশকের রাস্তা বিপরীত।আকলের পাঠ সবাই পড়ায়! কিন্তু হায়! ইশক বেচারার সে সুযোগ নেই!তবে হ্যা ইশক আপনাকে মানুষ হতে শেখাবে,অন্যের জন্য বাচতে শেখাবে,ইশক আপনাকে তাদের প্রিয় হয়ে উঠতে সাহায্য করবে যারা আল্লাহর খুবই প্রিয়।আর তখন আপনি হয়ে উঠবেন এমন কেউ, যার সুখে সবাই হাসবে যার দুঃখে সবাই দুঃখিত হবে।আকলের জ্ঞান সবাই বাটে, ইশকের জ্ঞান শুধু নসীব ওয়ালারাই পায়!এখানে অবশ্যই চিন্তা করার দরকার আছে।ধর্ম আসলে চিন্তাশীলদের জন্য, পশুদের জন্য নয়।এরপরও,যার বিশ্বাস হয়, সে গ্রহণ করবে, না হয় বর্জন করবে,এটাও একটা তকদীর।

Bertrand Rusself লিখেছেনঃ Thought is great and swift and free the light of the world, the cheefglory of man. (চিন্তা হচ্ছে মহৎ,বেগবতী,এবং মুক্ত চিন্তা হচ্ছে জগতে জ্যোতি এবং মানুষের প্রধান গৌরব।

হযরত ওয়ায়েস করনী (রহঃ) যে আল্লাহর নবী (দঃ) এর মহব্বতের আল্লাহর দান,“দাত” ভাঙ্গলেন, রক্ত ঝরালেন,উনার উপর কি ফতােয়া আসবে? তা জবাব কেউ দিতে পারবেন কি?না শুধু আহলে রাসুলের মহব্বতে যারা কাঁদে মাতন করে বা বুকে চাপড়া মারে তাদের জন্য ফাতোয়া ! জিকীরে শাহাদতের বেলায় আপত্তি কেন ?তবে তার ফতোয়া দেওয়ার পূর্বে হযরত ওয়ায়েস করনী (রহঃ) এর দাঁত ভেঙ্গে ফেলার ফতোয়া অবশ্যই দেওয়া উচিত! এখানে কোরআন পাকে সুরে লোকমানের আয়াতঃ“ওয়া মিনাল্লাহে মাইয়াশতারী লাউ ওয়াল হাদিছে লিউ দিল্লা আন ছাবিলল্লাহ”।এর আওতা পড়ে না। জিকরের শাহাদাত কাউকে আল্লাহ রাস্তা থেকে ফিরায় না বরং আখেরাত ও দুনিয়ার সম্ভল করে দেয়।

ওয়ায়েস কুরুনীর মাতম রাসূল (সাঃ)’এর কাওলী আর ফেইলি সুন্নাত দ্বারা প্রমানিত না হলেও এটা রাসূল (সাঃ)’তাখরিরি সুন্নাত দ্বারা প্রমানিত।কেননা ওয়ায়েস কুরুনী (রাঃ)’এর মাতমের কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)’ ওয়ায়েস কুরুনীর (রহঃ) উপর গর্বিত হলেন এবং তাকে পুরস্কৃত করলেন।যেহেতু ওয়ায়েস কুরুনীর (রাঃ) মাতমকে রাসূল (সাঃ)’সমর্থন করেছেন তাই এটা তাখরিরি সুন্নাত।রাসূল(সাঃ)’এর একটি দাঁত শহীদ হওয়ার কারনে ওয়াস কুরুনী নিজের সকল দাঁত ভেঙ্গে ফেললেন,আর তার কারনে রাসূলুল্লাহ(সাঃ)’তার মর্যাদা আরো সম্মানিত করে এবং তাকে পুরস্কৃত করে কেয়ামত পর্যন্ত দুনিয়াবাসীকে একান্তভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে,যদি আমার একটি দাঁত শহীদ হওয়ার কারনে ওয়ায়েস মাতম করে সম্মানিত হতে পারে,তাহলে আমার আহলেবাইত আমার জীবন আমার আমার আহলে বাইত আমার রক্ত আমার টুকরা,তাই আমার আহলেবাইতের নির্মমভাবে শহীদ করার ঘটনা স্বরন করে কেউ নিজ শরীরের রক্ত ঝোরাবে সেটা আমার তাখীরি সুন্নাত,আমি তাদেরকে সম্মানিত করেছি আমি তাকে পুরস্কৃত করবো ।কাজেই যারা খুনি মাতমকে হারাম বিদআত বলে প্রচারনা চালাচ্ছেন সয়ং তারা রাসূলুল্লাহ(সাঃ)’এর সুন্নাহ বিরোধী।

ইমাম হুসাইন(আঃ)’এর স্বরনে যদি কোনো ব্যাক্তি নিজ প্রেমের প্রকাশ রক্তের সমাবেদনার মাধ্যমে দিয়ে থাকে তাহলে সেটা কোনো বিদআত কিংবা হারাম কাজ নয়,বরং এটা আহলেবাইত (সাঃ)’এর সুন্নাহ। বিবি জয়নাব (সাঃআঃ),ইমাম জয়নুল আবেদীন(আঃ),ইমাম মুসা কাজিম(আঃ)’উভয়ের ব্যাপারে হাদীসে বর্নিত আছে যে উনারা ইমাম হুসাইন(আঃ)’এর শোকে মাথায় আঘাত করে রক্ত বের করেছিলেন।কাজেই রক্তের সমাবেদনা নিয়ে যারা বিরোধিতা করছেন তারা যদি জেন্জীর কামা না পারতে পারেন সেটা অন্য বিষয় কিম্তু যারা মারছে তাদের বিরোধিতা করার কোনো হক তাদের নেই।

— সৈয়দ হোসাইন উল হক


অধমের লিখা আল-কোরআন ও হাদীসের আলোকে “জবেহ আজিম এবং জিকিরে শাহাদাত”শীর্ষক গ্রন্থখানার আলোকে।


সিপাহসালার ইনস্টিটিউশন | আগস্ট ২০২০এস এইচ হক

About the author

Syed Hossain ul Haque

সৈয়দ হোসাইন উল হক তরফ ও শ্রীহট্ট বিজয়ী মহান মনিষী সিপাহসালার সৈয়দ নাসির উদ্দিন (রহঃ)এর অধস্থন পুরুষ ‘নবী বংশ পরিচিতি ও মহান কোরবানি’ গ্রন্থের লেখক, হবিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সুরাবই সাহেব বাড়ীর সিংহপুরুষ সৈয়দ মোঃ ইসহাক আল হুসাইনী (রহঃ)সাহেবের মেঝ ছেলের ঘরের বড় নাতি।মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাজ্য গমন অতঃপর ইউনিভার্সিটি অফ সান্ডারল্যান্ড থেকে বিজনেস ম্যানেজমেন্টে অনার্স এবং কুইন মেরী ইউনিভার্সিটি থেকে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস এন্ড পলিটিক্সের উপর এম এস সি। তারপর ২০১৮ সালে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে ইসলামিক স্টাডিজ এন্ড হিস্টোরি’তে এম-ফিল। শিক্ষানবিশ কালে সেই সকল বিশ্ববিদ্যালয় সমুহের বিভিন্ন ছাত্র সংঘটনের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন।বর্তমানে লন্ডনে স্থায়ী ভাবে বসবাস করছেন পাশাপাশি লন্ডনের একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ম্যানেজারের দায়িত্বরত।তাছাড়াও যুক্তরাজ্যে একটি ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে ভিজিটর লেকচারার ও গবেষনা কেন্দ্রে অবিরাম বিভিন্ন বিষয়ে গবেষনা চালিয়ে যাচ্ছেন।আল-কোরআন ও হাদীসের আলোকে “যবহে আজিম এবং জিকিরে শাহাদাত”শীর্ষক গ্রন্থখানা তার দীর্ঘ গবেষনা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল।

মতামত দিন