প্রবন্ধ

ইমাম হাসান মুজতবা (আ)’র দু’টি বিস্ময়কর মু’জিজা।

ইমাম হাসান (আ.)’র অনেক মু’জিজা বা অলৌকিক ঘটনা রয়েছে। এইসব মু’জিজার মধ্যে আমরা কেবল দু’টি মু’জিজার ঘটনা এখানে তুলে ধরব।

একঃ

আবু জাফর (আ.) থেকে বর্ণিত হয়েছেঃ একদল লোক ইমাম হাসান (আ.)’র কাছে এসে বলে,আমরা আপনার বাবার মু’জিজাগুলো দেখেছি, এইসব মু’জিজা আপনার কাছেও দেখতে চাই। ইমাম হাসান (আ.) বললেন, যদি দেখাই তাহলে তাঁর প্রতি তথা আলী (আ.)’র প্রতি কি ঈমান আনবেন? তারা বললঃ জি, আল্লাহর কসম তাঁর প্রতি ঈমান আনব। ইমাম বললেনঃ আপনারা কি আমার বাবাকে চেনেন? সবাই বলল: হ্যাঁ, চিনি। ইমাম তাদের চোখের বা দৃষ্টি থেকে পর্দা তুলে নিলেন এবং সবাই দেখল যে স্বয়ং হযরত আলী (আ.) দাঁড়িয়ে আছেন। এরপর ইমাম হাসান (আ.) বললেনঃ আপনারা কি তাঁকে চেনেন? সবাই বলল: ইনি আমিরুল মু’মিনিন আলী (আ.) এবং আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি আল্লাহর ওলি বা বন্ধু এবং আলীর পর আপনিই প্রকৃত ইমাম ও নেতা। আপনি আমাদেরকে আপনার পিতা আলী (আ.)’র মৃত্যুর পরও তাঁকে দেখিয়েছেন যেমনটি আপনার বাবা রাসূল (সা.)’র মৃত্যুর পরও মসজিদে কুবায় আবুবকরের কাছে রাসূল (সা.)-কে দেখিয়েছিলেন।এরপর ইমাম বললেনঃ তোমাদের ওপর আক্ষেপ! তোমরা কি শোনোনি মহান আল্লাহ বলেছেন:

و لا تقولوا لمن یقتل فی سبیل الله امواتا بل أحیاء و لکن لا تشعرون

যারা আল্লাহর পথে নিহত হয় তাদেরকে মৃত বলো না, বরং তারা জীবিত, কিন্তু তোমরা তা অনুধাবন কর না।যারা আল্লাহর পথে নিহত হয় তাদের সম্পর্কে যদি এই আয়াত নাজিল হয়ে থাকে তাহলে আমাদের সম্পর্কে তোমরা কি মনে কর? লোকেরা বললঃ হে আল্লাহর রাসূলের সন্তান! আমরা আপনার কথা ও আচরণের প্রতি ঈমান আনছি এবং আপনার কথা ও আচরণকে সত্য বলে স্বীকৃতি দিচ্ছি।

দুইঃ

কোনো এক ওমরাহ হজের সফরের সময় ইমাম হাসান (আ.)’র সঙ্গে ছিলো যুবাইর বিন আলআওয়ামের কোনো এক পুত্র। সফরের এক পর্যায়ে তারা একটি স্থানে থামেন। সেখানে কয়েকটি শুকিয়ে যাওয়া খেজুর গাছ ছিল। ওই ব্যক্তি বললঃ এই খেজুর গাছে যদি খেজুর থাকতো তাহলে তা পেড়ে খেতাম।
ইমাম হাসান (আ.) বললেনঃ তোমার কি খুরমা খেজুর খেতে ইচ্ছে হচ্ছে? লোকটি বললঃ হ্যাঁ। ইমাম আকাশের দিকে হাত তুলে দোয়া করলেন। সঙ্গে সঙ্গে ওই খেজুর গাছটি সবুজ হয়ে যায় এবং তাতে খেজুরও দেখা যায়। লোকটি গাছে উঠে খেজুর পেড়ে খায়। এ সময় তাদের সফরসঙ্গী এক উট-চালক বলে ওঠেঃ এ তো দেখছি জাদু।ইমাম হাসান (আ.) বললেনঃ তোমার প্রতি আক্ষেপ! এটা জাদু নয় বরং নবীর (সা.) সন্তানের দোয়া যা কবুল হয়।

সমস্ত মহৎ গুণের অধিকারী ইমাম হাসান (আ.) জীবনে অন্তত: দুবার তাঁর ব্যক্তিগত সব সম্পদ দান করে দিয়েছেন এবং বেশ কয়েকবার অর্ধেক বা তারও বেশি সম্পদ দান করে দিয়েছিলেন। তিনি পায়ে হেটে এবং কখনও নগ্ন পায়ে ২৫ বার মদিনা থেকে মক্কায় গিয়ে হজ্ব বা ওমরাহ করেছেন। ইমাম হাসান (আ.) বলেছেন, সব জিনিসের প্রতি লোভই হচ্ছে দারিদ্র আর অল্পে তুষ্টি হচ্ছে প্রাচুর্য বা সম্পদের অধিকারী হওয়া।

সূত্রঃ বিহারুল আনোয়ার।

 

সিপাহসালার | ইনস্টিটিউশন | জুলাই ২০২০এস এইচ হক

মতামত দিন