প্রবন্ধ

সুতরাং হে মুর্খ! আমার মাওলা আলীর শান তোমরা কি জানবে?

কোন ব্যক্তি যদি অনেক বড় আলেম হয় তাহলে সে শারীরিকভাবে তেমন বলশালী হয়না। আবার যে ব্যক্তি অনেক বড় যোদ্ধা হয় সে কোন মতেই অনেক বড় আলেম হয়না। কারন যে আলেম সে তার প্রায় পুরা সময় ব্যয় করে এলমের পিছনে, আর যে অনেক বড় যোদ্ধা, তার সময় কাটে রণকৌশলের পিছনে। তারিখে ইসলাম থেকে উদাহরণ দিয়ে বলতে গেলে রণক্ষেত্র থেকে পলায়নপর ব্যক্তি বলশালী হতে পারেনা, আবার মেয়ের কাছে মাসালা জিজ্ঞেস করা ব্যক্তি আলেমও হতে পারেনা। এর একমাত্র ব্যতিক্রম আমার মাওলা আলী ইবনে আবি তালিব আঃ যার ইলমের ব্যাপারে মাওলা মুহাম্মদের সাক্ষ্য “আনা মাদিনাতুল ইলমি ওয়া আলীউন বাবুহা”। আবার যার বীরত্বের ব্যাপারে মাওলার সাক্ষ্য “লা ফাতাহ ইল্লা আলী”। কাজেই যারা যতোই চেস্টা করেন না কেন মাওলা আলী সেদিনও আলীই ছিলেন আজও তাই আছেন।

সুহৃদ, লেখার অবতারণার উদ্দেশ্য হলো, কিছুদিন যাবত কিছু লোক আমার মাওলার শান খাটো করার জন্য আবারও চেস্টা করছে। আপনাদের (যারা আমার মাওলার শান খাটো করার চেস্টা করছেন) অবগতির জন্য বলি “নসলে সুফিয়ান” ইসলামের শুরু থেকেই মাওলা আলীর শান খাটো করার চেস্টা করে এসেছে, অনেক মুহাদ্দিস কিনে নিয়েছে, মিথ্যা হাদিসের কারখানা খুলেছে, সমস্ত রাজশক্তি দিয়ে প্রপাগান্ডা ছড়িয়েও কোন কিছুই করতে পারেনি, তারা যারা চেস্টা করেছে তাদের কারো লাশ পোকায় খেয়েছে কারোটা শেয়াল কুকুরে টেনে নিয়ে গেছে আলী তখনও আলী আজও আলী।

হিজরতের পরের একটা ঘটনা উল্লেখ করে শেষ করতে চাই, মক্কায় এক লোক, মাওলা মুহাম্মদ স এর বিরুদ্ধে নানান কটুকথা দিয়ে অশ্লীল ভাবে কবিতা লিখতো আর নানান ভাবে অংগভংগী করে তা পড়তো, তা দেখে সবাই হাসাহাসি করতো। একদিন সেই লোককে মদিনায় পেলো কিছু সাহাবী।তাকে পেয়ে লাফালাফি শুরু করে দিলো। লোকটাকে পিছমোড়া করে বেঁধে একটা বস্তায় ভরে মাওলা মুহাম্মদ সঃ এর সামনে পেশ করলো। একেকজনে একেকভাবে রসুল সঃ এর কাছে ঘটনা বয়ান করে বললো হুজুর একে কতল করা হোক। রসুল সঃ মুচকী হেসে বললেন আলী কোথায়? আলীকে ডাকা হলো। মাওলা মুহাম্মদ সঃ বললেন “ আলী এই লোকের জিহবা কেটে দাও। সবাই থতমত খেয়ে গেলো এমন শাস্তি মাওলা মুহাম্মদ সঃ এর মতোন দয়াবান স্বত্তার মুখে শুনে সবাই অবাক! আবার মনে মনে খুশিও, অনেকদিন পরে একটু উত্তেজনাও পাওয়া যাবে। মাওলা আলী ওই ব্যক্তিকে নিয়ে শহরের বাইরে এলেন, পিছে পিছে উৎসুক সাহাবী, কি শাস্তি দেয় দেখবে। শহরের বাইরে এসে মাওলা আলী ওই ব্যক্তি বাধন খুলে দিলেন, পানি খাওয়ালেন সবাই ভাবলো আচ্ছা শরিয়তের নিয়ম পালন করছেন। খেজুর খাওয়ালেন, সবাই উসখুস করছে। তার হাতে দুই হাজার দিরহাম দিলেন, তারপর নিজের ঘোড়া ওই লোককে দিয়ে সাহাবিদের দিকে তরবারী ধরে ওই লোককে বললেন “তুমি এখান থেকে চলে যাও, আর কখনও এখানে এসোনা। সাহাবি রা বিরক্ত, ক্ষিপ্ত। প্রতিশোধ নিতে পারলোনা। তারা মাওলা মুহাম্মদ সঃ এর কাছে আলীর নামে নালিশ করলেন। “ইয়া রাসুলুল্লাহ সঃ আলী আপনার কথার অমান্য করেছে!! আপনি বলেছেন ওই লোকের জিভ কাটতে সে কাটেনাই, পানি খাইয়েছে, খেজুর খাইয়েছে। নিজের ঘোড়া সাথে একটলি টাকা দিয়ে ভাগিয়ে দিয়েছে। আলী মনে হয় তার সাথে মিলে গেছে।

মাওলা মুহাম্মদ সঃ মুচকি হেসে বললেন “আলী আমার ইশারা বুঝেছে, তোমরা বুঝোনি”। সবাই মনে মনে ত্যক্ত। হ্যা, খালী আলীই বুঝে, আমরা তো কিছুই বুঝিনা! একজন বললেন ইয়া রাসুলুল্লাহ একটু বুঝিয়ে দিতেন যদি! মাওলা বললেন “এখন অনেক রাত হয়েছে বাসায় যাও, সকালে বুঝে যাবে। সবাই অনিচ্ছা স্বত্তেও চলে গেলো। সকালে নামাজের জন্য সবাই একটু আগেই চলে এলো। নামাজ শেষে সবাই এলো মাওলার কাছে, কালকের ব্যাপারে ফয়সালা নিবে। এমন সময়ে ঘোড়ার আওয়াজ। কে এলো?! সেই লোক, যাকে কাল আলী ছেড়ে দিয়েছিলেন। কেউ কেউ তরবারি বেড় করে ফেললেন, এবার জিভ না কেটে ছাড়বেন না! লোকটি এসে সোজা মাওলা মুহাম্মদ সঃ এর পায়ে ধরে মাফ চেয়ে বললো “মাওলা আপনার নামে কাসিদা লিখে এনেছি, অনুমতি দেন তো পড়ে শোনাই।

মাওলা মুহাম্মদ সঃ বললেন “তোমরা সবাই দেখো আলী ওর লানতের জিহ্বা কেটে, কাসিদার জিহ্বার জন্ম দিয়েছে!”

সুতরাং হে মুর্খ! আমার মাওলা আলীর শান তোমরা কি জানবে?

আল্লাহুমা সাল্লেওয়ালা মুহাম্মাদিউ ওয়া আলে মুহাম্মাদ।

 

—ভাব পাগলা আব্দুল্লাহ

মতামত দিন