প্রবন্ধ

মুশরিক আজ মুসলিম বেশে করিতেছে কোলাহল !

মুশরিক আজ মুসলিম বেশে করিতেছে কোলাহল !

কোরআন ও হাদিসের আক্ষরিক অর্থ অনুসরণে মুসলিম জাতি আজ পথভ্রষ্ট।রূপক কোরানের আক্ষরিক অর্থ আসল অর্থ হিসেবে সমাজে প্রচারিত হওয়ায় মুসলিম জাতি পথভ্রষ্ট এবং জ্ঞানহারা হয়েছে । আক্ষরিক অংশ সাদৃশ্যপূর্ণ রূপক আবরণ যা কোরআন হাদিসের অর্থ নয়, আর তা প্রকৃত অর্থ হিসেবে সমাজে চালু থাকায় ভুল স্রোতে জাতীয় সত্ত্বা হারিয়ে যাওয়ার ছিল, এবং হারিয়ে গেছেও! স্ত্রী তোমাদের ক্ষেত্র স্বরূপ অতএব যেরূপ ইচ্ছা তোমাদের ক্ষেত্রে গমন করতে পারো (সূরা বাকারা); এ বাণীর আক্ষরিক অনুসরণ করতঃ অজ্ঞ মোল্লা সম্প্রদায় বিবাহিতা জৈবিক স্ত্রীর সাথে যৌন সম্পর্কের অশ্লীল অর্থ বুঝিয়েছে । রূপক প্রতীক কী- এটা যাদের ঘিলুতে ঢুকে না, অশ্লীলতাপূর্ণ আক্ষরিক অর্থ করা ছাড়া সে নির্বোধের আর কোনো গত্যন্তরও থাকে না !কোরান হাদিস রূপক, মানে পর্দার অন্তরালে সত্য । কিন্তু কোরান হাদিসের আক্ষরিক অর্থ অনুসরণে অশ্লীলতাপূর্ণ অর্থ করতঃ মোল্লা সম্প্রদায় কোরান-হাদিসকে অশ্লীল কেতাব বানিয়েছে । এই অশ্লীল শিক্ষা থেকে তারা ধর্মভ্রষ্ট, লাম্পট্য-বদমায়েশী-বিকারগ্রস্ত যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালে নির্লজ্জভাবে প্রকাশ পেয়েছিল।

মুসলিম জাতির অধঃপতন এজিদী মাদ্রাসার শিক্ষার কারণে । মুনাফিক মুয়াবিয়া এজিদের চক্রান্তে মুসলিম জাতি ভুল পথেরই যাত্রী । কোরআন ও হাদিসের গূঢ়ার্থ, ধর্মের বাস্তবতা বুঝতে অক্ষম এজিদরা রূপক কাঠামোকে মনে করলো প্রকৃত ইসলাম । তারা মাদ্রাসা গড়ে তুললো, রূপক কাঠামো (তাশাবাহা) শিক্ষা দিতে লাগলো কোরান-হাদিস শিক্ষার নামে । সত্য বাদ দিয়ে যারা রূপক তাশাবাহা অনুসরণ করে তারা আল্লাহর বিদ্রোহী- এটা মোল্লারা বুঝতে পারে নি।তাই এজিদী-কুফরী শিক্ষা মাদ্রাসায় চলছে । মাদ্রাসা শিক্ষা কোরআন শিক্ষা নয় । বরং কেউ যাতে কখনও জ্ঞানগর্ভ কোরআন জানতে না পারে তার উপর পাথর চাপা দেওয়ার শিক্ষা হচ্ছে- এই  এজিদী মাদ্রাসা শিক্ষা।মাদ্রাসার কুশিক্ষার কারণেই জ্ঞানীলোকেরা নিঃশঙ্ক চিত্তে কথা বলতে পারেন না । এ দেশের উচ্চ শিক্ষিত লোকেরা মনে করেন, আরবি বিদ্বান-মাওলানারা কোরআন বুঝে, কিয়ামত বুঝে- এ ভুল ধারণায় তাদের শিক্ষার মান তারা রাখতে পারে নি।তারা মৌলবাদকে উৎসাহিত করে জাতির অপূরণীয় ক্ষতি করে চলেছে । জ্ঞানের কথা প্রকাশ করলে আন্দোলনের নামে সত্যের বিরুদ্ধে কেন মিছিল হয়? সরকারও কেন তখন নিষ্ক্রিয় থাকে? দুর্লভ মানবজীবন যেন বরবাদ না হয় তার রক্ষাকবচ হিসেবে কোরানের হাকিকত রহস্য তুলে ধরলে এ দেশে জ্ঞানের গ্রন্থ বাজেয়াপ্ত হয়ে যায় । এটা দুঃখজনক হলেও সত্য । সত্য প্রকাশের অনুকূল পরিবেশ কোথায়? মুসলমানের দেশেই কোরান-জ্ঞান বলা যায় না!

রূপক-প্রতীক সম্পর্কে যে আলোচনা হলো মুসলিম জাতি এটা অনুধাবন করতে পারলে কোরানের হাকিকত জ্ঞান শিক্ষার রুদ্ধদ্বার খুলে যাবে । বেতার টিভিসহ সর্বত্র কোরান নামে রূপক-খোসা প্রচার বন্ধ হতে পারে, কোরান শিক্ষা নামে আক্ষরিক অর্থ রূপক-খোসা শিক্ষা দেয়ার প্রতিষ্ঠান মাদ্রাসা বন্ধ হয়ে যেতে পারে, মসজিদ নির্মাণ করার প্রয়োজনীয়তা নাও থাকতে পারে । ইমাম মেহেদি (আ:)এর নেতৃত্বে জাতির নবজাগরণ ঘটবে, তখন হয়তো মসজিদ মাদ্রাসা থাকবে না।

আজ শষ্যের চেয়ে আগাছা বেশী; ধর্মের চেয়ে টুপি-দাঁড়ি বেশী । এই টুপি-দাঁড়িওয়ালা মোল্লারা কি চায়? পেট পূজারী মোল্লাদের ক’দিন পর পর কী এতো সমস্যা দেখা দেয়? ধর্ম শিক্ষার নামে বলাৎকার, ধর্ষণ; ইসলামের নামে মানুষ হত্যা, জঙ্গীপনা, সাম্প্রদায়িক কলহ, ভাংচুর, লুটতরাজ- মানবতা বিরোধী ইত্যাদি কর্মকান্ডের কোন কিছুই তো ইসলাম সমর্থন করে না । তা সত্ত্বেও নির্বোধ মানুষগুলো মনে করে যে, শান্তি বিনষ্টকারী এই মোল্লারাই ইসলামের রক্ষক ও ধারক বাহক । কিন্তু প্রকৃত সত্য হচ্ছে যে, কোন ধর্মের মৌলবাদীরাই সে ধর্মের মূলে নেই; বরং সর্বযুগেই তারা সত্যের গৃহ হতে ছিটকে গিয়ে স্ব স্ব ধর্মেরই প্রেরিত পুরুষদের বিরোধীতা করে এসেছে । আর মুসলমান ধর্মের মোল্লারা তো ধর্মের সত্য হতে এমনভাবে বেড়িয়ে গেছে যেভাবে ধনুক হতে একটি তীর বেড়িয়ে যায়।সমাজে আজ যাদেরকে মানুষ মুসলমান বলে মনে করছে এরাই কারবালার ময়দানে মহানবির ধর্মদর্শন ও নবি-পরিবারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে মূল ইসলাম থেকে ছিটকে গিয়ে টুপি-দাঁড়ি মার্কা অনুষ্ঠানসর্বশ্ব ভোগবাদী এক এজিদী ইসলামের সূচনা করেছিল যা এখনও প্রচলিত আছে; সেই নবগঠিত ইসলামের খাঁটি উত্তরসুরিই বর্তমান কালের মোল্লা-মুন্সি ও মুফতি-মাওলানারা । ইসলামের চেহারাকে পাল্টে দেয়া হয়েছে, এজিদী ধর্মকেই মোহাম্মদী ধর্ম বলে সমাজে, ধর্মগ্রন্থে, জনমনে বলপূর্বক চাপিয়ে দেয়া হয়েছে । তাই কোন ঐশী মহামানবই এইসব মোল্লাদের ধর্মমতকে সমর্থন করেননি; মোল্লাদের ধর্মচর্চাকে সত্য-শুদ্ধ বলে স্বীকৃতি দেননি।

পাকিস্তানের জাতীয় কবি আল্লামা ইকবাল মোল্লাদের নিয়ে লিখেছেন: মুশরিক আজ মুসলিম বেশে করিতেছে কোলাহল !

মৌলবাদীদের চরিত্র নিয়ে জাতীয় কবি নজরুল লিখেছেন : গুন্ডামি ভন্ডামি আর গোঁড়ামি ধর্ম নয়,এই গোঁড়াদের সর্বশাস্ত্রে শয়তানি চেলা কয় ।

নির্বোধ জাতির বোধ উদয়ে কবি নজরুল আরও বলেন:

যাহারা গুন্ডা, ভন্ড- তারাই ধর্মের আবরণে,

স্বার্থের লোভে ক্ষ্যাপাইয়া তোলে অজ্ঞান জনগণে;

জাতিতে জাতিতে ধর্মে ধর্মে বিদ্বেষ এরা আনি,

আপনার পেট ভরায়, তখত চায় এরা শয়তানি”!

সৈয়দ হোসাইন উল হক

মতামত দিন