অন্যান্য

অনুমানের পরিনাম

সূরা নাজমের ২৮,২৯ নং আয়াতে আল্লাহ পাক বলেন:
“তারা কেবল অনুমানের অনুসরণ করে। সত্যের ব্যাপারে অনুমানের কোন মূল্য নেই।”
ইসলাম ধর্ম আন্দাজ, অনুমান, কল্পনা অনুযায়ী চলাকে অর্থহীন ও সত্যবর্জিত বলে সাব্যস্থ করে। কেননা অনুমান, কল্পনায় বিশ্বাসগত কাঠামো যুক্তিনির্ভর। সেটা জ্ঞাননির্ভর হয় না। যুক্তি ও জ্ঞানের চর্চায় সত্যের দিকে অনুগামী হওয়া যায়, বিশ্বাসে প্রাণ সৃষ্টি হয়, বিশ্বাস ও কর্মের মধ্যে সমন্বয় রচিত হয়, কর্ম হয় অর্থপূর্ণ, সমাজ হয় প্রগতিশীল। এ কারণে ইসলাম ধর্ম অনুমান ভিত্তিক চলনকে ধর্মবিরোধী, নীতিবিরোধী ও জীবনবিরোধী বলে আখ্যায়িত করে। পক্ষান্তরে ইসলাম জ্ঞানকেই সব ধরণের বিশ্বাস ও কর্মের অন্যতম উপাদান বলে নির্ধারণ করে। এ বিষয়ে আল্লাহ পাক বনি ইসরায়িলের ৩৬ নং আয়াতে বলেনঃ “যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নাই তা অনুসরণ করো না”। এ ব্যাপারে বিশ্বনবী মুহাম্মদ সঃ বলেন, “সর্বাধিক সম্মানিত তারাই যাদের জ্ঞানের পরিধি বিস্তৃত এবং সর্বাধিক অধম তারা যাদের জ্ঞান নগণ্য”।
অন্ধ অনুকরণের লক্ষণ হচ্ছে, নিজের চিন্তা ও মতকে গুরুত্বহীন করে অধিকংশের মতামতের অনুসরণ। সচেতন বিশ্বাসী মানুষ নিজস্ব চিন্তার অধিকারী, নিজস্ব জ্ঞান, নিজস্ব বিশ্লেষণ ও বিচারবোধ অনুসৃত দর্শনে আস্থা স্থাপনকারী। যারা অসচেতন, যারা অজ্ঞতা ও মূর্খতাসম্পন্ন, তারা যুক্তি ও জ্ঞান নির্ভর নিজস্ব মত সৃষ্টিতে অক্ষম। এ অক্ষমতার কারণেই সমাজে অধিকাংশ মানুষের মতামতের প্রতি আস্থাশীল হয় ও নমনীয়তা প্রদর্শন করে। সমাজের অধিকাংশ মানুষ অজ্ঞতাপ্রসূত মতামত প্রকাশ করলেও ‘অধিকাংশ’ শব্দটাই মূর্খতাপূর্ণ যুক্তিতে পরিণত হয়। ইসলাম অধিকাংশের মত অনুযায়ী চলাকে বিচ্যুতির শর্ত হিসেবে উপস্থাপন করে।এ ব্যাপারে সূরা আনআমের ১১৬ নং আয়াতে আল্লাহপাক বলেনঃ “যদি তুমি দুনিয়ার অধিকাংশের কথামত চল তবে তারা তোমাকে আল্লাহ্‌র পথ হতে বিচ্যুত করবে … তারা শুধু অনুমানভিত্তিক কথা বলে”।
আল্লাহপাক কেন অধিকাংশের কথা মত চলাকে বারণ করলেন? কারণটা হচ্ছে, অধিকাংশ মানুষ অনুমানভিত্তিক কথা বলে। অধিকাংশ মানুষের কথা, চিন্তা ও মতামতে জ্ঞান তথা বিচারবুদ্ধির অনুপস্থিতিতে যৌক্তিকতা ও বাছ-বিচারের যথেষ্ট অভাব থাকে। ইসলাম এ কারণে জ্ঞানী, প্রজ্ঞাবান ও সচেতন বিশ্বাসীদের পথে চলার যোগ্যতা অর্জনের আহব্বান জানায়। এ ক্ষেত্রে মূল যোগ্যতা হল ‘ফোরকান’ এর অধিকারী হওয়া। ফোরকান হলো এমন সচেতন জ্ঞান যা দিয়ে সত্য-মিথ্যা, ন্যায়- অন্যায়ের প্রভেদ সৃষ্টি করা যায়। অধিকাংশ মানুষ ফোরকান এর অধিকারী নয় বলে কর্মে তারা অকৃতজ্ঞতাই প্রকাশ করে। কিন্তু স্বল্প সংখ্যক সচেতন বিশ্বাসী মানুষ ফোরকান এর অধিকারী, ফোরকান গুণে তারা প্রজ্ঞাবান। ইসলাম মানুষকে অজ্ঞতানির্ভর আত্মঅনুমান এবং অনুমাননির্ভর অধিকাংশের মতের অনুসরণ প্রত্যাখ্যান করে সৃজনশীল, বুদ্ধিদীপ্ত বিচারবোধ তথা ফোরকানের অধিকারী হতে উদাত্ত আহব্বান জানায়।

মতামত দিন