জীবনবৃত্তান্ত

হযরত মাওলানা সৈয়দ কুতুব উদ্দিন আহমদ আল-হোসাইনী চিশতী(রহঃ)

 

হযরত মাওলানা সৈয়দ কুতুব উদ্দিন আহমদ আল-হোসাইনী চিশতী(রহঃ)[১৯৩২-২০১৬খ্রিস্টাব্দ]

হযরত মাওলানা সৈয়দ কুতুব উদ্দিন আহমদ আল-হোসাইনী চিশতী(রহঃ)-এর  সংক্ষিপ্ত জীবন বৃত্তান্ত -(১৯৩২-২০১৬খ্রিস্টাব্দ)।


শ্রীহট্ট ও তরফ বিজয়ী সিপাহসালার সৈয়দ নাসির উদ্দীন (রহঃ)- এর বংশে বেশ ক’জন আরেফে ইরফান, আলীম-উলামা, মরমী কবি ও সাহিত্যিক-গবেষকের জন্ম হয়েছে। হযরত মাওলানা সৈয়দ কুতুব উদ্দিন আহমদ আল-হোসাইনী চিশতী(রহঃ) তাদের মধ্যে অন্যতম স্মরনীয় ব্যক্তি।কালজয়ী ইসলামী লেখক,গবেষক ও আরেফে ইরফানিয়াত মশহুর পীর হযরত মাওলানা সৈয়দ কুতুব উদ্দিন আহমদ আল-হোসাইনী চিশতী (রহঃ), কিশোরগঞ্জ জেলাধীন অষ্টগ্রাম উপজেলার ঐতিহাসিক হাবেলী নয়কোষা জমিদার বাড়ীর সুপ্রসিদ্ধ সৈয়দ পরিবারে ১৯৩২ ইং সনের  ৪ ই এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন। সিপাহসালার সৈয়দ নাসির উদ্দীন (রহঃ)-এর পঞ্চম অধস্থন পুরুষ সুলতানশী হাবেলীর প্রতিষ্ঠাতা মহাকবি সৈয়দ সুলতান (রহঃ) থেকে তার পিতা সৈয়দ আঃ হেকিম আল-হোসাইনী (রহঃ) পর্যন্ত বংশক্রমঃসৈয়দ সুলতান (রহঃ)>সৈয়দ জিকরিয়া (রহঃ)> সৈয়দ আহমদ (রহঃ)>সৈয়দ মোহাম্মদ ফাত্তাহ (রহঃ)>সৈয়দ শাহ নাছির (রহঃ)> সৈয়দ শাহ আছির (রহঃ)>সৈয়দ শাহ নাজির (রহঃ)> সৈয়দ শাহ নাতির (রহঃ)> সৈয়দ শাহ ছাবের (রহঃ)> সৈয়দ আঃ আজিম আল-হোসাইনী (রহঃ)> সৈয়দ আঃ হেকিম আল-হোসাইনী (রহঃ)। উল্যেখ্য যে সুতানশী হাবেলী থেকে কুতুব উদ্দীন সাহেবের পিতা আব্দুল হেকিম সাহেব তার পিতৃব্য সৈয়দ আবদুল করিম আল হোসাইনী (রঃ) উরফে সৈয়দ আলাই মিয়া সাহেবের আহ্বানে স্বীয় বাসস্থান অষ্টগ্রাম হাবেলীতে স্থানান্তর করেন। সৈয়দ শাহ আবদুল করিম আল হোসাইনী (রঃ)উরফে সৈয়দ আলাই মিয়া সাহেবের পূর্বেই স্বীয় হাবেলী সুলতানশী থেকে অষ্টগ্রামে স্থানান্তর করেছিলেন।

সৈয়দ সাহেব একাধারে একজন প্রখ্যাত আলেম ও আরেফে ইরফানিয়াত মশহুর পীর ও পাকপাঞ্জাতনের প্রতি খুবই উদ্ৰগীব, উৎসাহিত সাধক, লেখক ও গবেষক ছিলেন। তিনি সাত বছর বয়স হতেই নামজ রোজা এবদত বন্দেগিতে মশগুল থাকতেন। ক্লাসের সমসাময়িকদের মধ্যে ছিলেন সর্বাধিক মেধাবী। মাদ্রাসার শিক্ষা শেষ করে তিনি হাদিস ও ফিকাহ শাস্ত্রের উপর বিশেষ জ্ঞান অর্জন করতে তৎকালীন মুফতিয়ে আজম সৈয়দ আমিমুল ইহসান (রহঃ)এর সান্নিধ্যে যান।উর্দু ফার্সি আরবী মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করলেও বাংলা ইংরেজি ও গনীত তিনি নিজ আগ্রহে জ্ঞানলব্দ হন। অষ্টগ্রাম হোসাইনিয়া আলিম সিনিয়র মাদ্রাসার সভাপতি থাকা কালে উনাকে দাখিল আলিম ক্লাসের আরবীর পাসাপাসি ইংরেজি ক্লাস নিতেও দেখা যেতো।

উল্লেখ্য যে,নয় কোষ জমিদারি ত্যাগী,আরেফে ইরফান, সৈয়দ শাহ আবদুল করিম আল হোসাইনী (রঃ) উরফে সৈয়দ আলাই মিয়া সাহেব পাক পাঞ্জাতনের প্রতি খুবই উদ্ৰগীব, উৎসাহিত প্রাণ ছিলেন। পাক পাঞ্জাতনের মহান আদর্শের ভাব মূৰ্ত্তি জনসমাজে জাগ্রত রাখার উদ্দেশ্যে তিনি মহরম শরীফের অনুষ্ঠানাদি পালন করতেন। তিনি পূর্বেই স্বীয় হাবেলী সুলতানশী থেকে অষ্টগ্রামের ইতিহাস প্রসিদ্ধ হাবিলীতে অর্থাৎ নানার বাড়ীতে চলে আসেন। অষ্টগ্রামের হাবিলী ছিল তৎকালিন দেওয়ান সাহেবদের বাসস্থান। আর দেওয়ান সাহেবগণ ছিলেন জোয়ান সাহী পরগণার মালিক তথা উনিষ কোষা-জমিদারীর উত্তরাধিকারী।পরবর্তীতে তিনি ঐ স্থানটিতে হোসেইনী মোকাম (ইমামবাড়া) স্থাপন করেন।যেনো পাক-পাঞ্জাতনের মহান আদর্শের ভাব মূৰ্ত্তি জনসমাজে জাগ্রত রাখার উদ্দেশ্যে আশেকানগন একটি নির্দিষ্ট স্থানে একত্রিত হয়ে শহীদগনের মহব্বতে এবং তাদের আত্মত্যাগের স্মরনার্থে আনুষ্ঠানিক শোক প্রকাশ করতে পারেন। যার দরুন ঐ অঞ্চলের সাধারন লোকজন পাক পান্জাতন/আহলে বাইতে রাসূল (সা.) সম্পর্কীত প্রকৃত জ্ঞান এবং ধর্মের সঠিক ধারা ও ইতিহাস বুঝতে সক্ষম হয়।তিনি ইমাম হুসাইনের (আঃ)  শাহাদতের স্মরণে কারবালার স্মৃতি ও বৈশিষ্ট রক্ষার্থে,শহীদানদের প্রতি সম্মান দেখাতে, জালিমের জুলুমের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে, কারবালার ঘটনা জাগ্রত রাখার উদ্দেশ্যে, ইমামের প্রতি ভক্তি ভালবাসা সৃষ্টি ও বৃদ্ধির বাসনায়, তাঁর ভালবাসার নিদর্শন ও পরিচয় প্রদর্শনের ইচ্ছায় জারি-মার্সিয়া, মাহফিল-মজলিশ, গাস্ত, তাজিয়া মিছিল, ফাতেহা পাঠ অনুষ্ঠান ও রোজা (ফাকা) ইত্যাদি পালন করতেন।এ বিষয়টিকে পরবর্তীতে আরো সমৃদ্ধ ও প্রসারীত করেছিলেন তারই সুযোগ্য উত্তরসূরী হযরত মাওলানা সৈয়দ কুতুব উদ্দিন আহমদ আল-হোসাইনী চিশতী(রহঃ)।সেই ধারা অধ্যাবধি ব্যাপকভাবে চলমান।

সৈয়দ কুতুব উদ্দিন আহমদ আল-হোসাইনী চিশতী (রহঃ)ধর্মীয় জ্ঞানের পাশাপাশি সমাজ ও রাজনীতিতেও বিশেষ জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন।তিনি দীর্ঘদিন যাবত অষ্টগ্রাম সিনিয়র মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি পদ অলংকৃত করেছিলেন। অষ্টগ্রামের ঐতিহাসিক কুতুব মসজিদ ও কুতুবিয়া মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পদেও প্রায় ত্রিশ বৎসর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি পাক পাঞ্জতন পরিষদের সহ-সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করছেন।উনার প্রতিষ্ঠিত পাকপাঞ্জতন পাঠাগারসহ এলাকা ও এলাকার বাহিরে বহু হোসাইনি মোকাম, মসজিদ, মাদ্রাসা, ঈদময়দান ও কবরস্থান নির্মাণ করে গেছেন। এর মধ্যে উল্লেখ্য অষ্টগ্রাম আল-হোসাইনী জামে মসজিদ, হাবেলি পাড়া কবরস্থান, কমিউনিটি ক্লিনিক, পাকপাঞ্জতন পাঠাগার, এস কে উদ্দিন হাফেজিয়া মাদ্রাসা। ভৈরব লক্ষিপুর আল-হোসাইনী ঈদ খানা, হোসাইনি মোকাম, আল হাসান ও আল-হোসাইনী জামে মসজিদ সহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

স্থানীয় লোকশ্রুতি রয়েছে,সুকঠিন রিয়াযতের মাধ্যমে আধ্যাত্নিক সাধনায় সার্থক এই মনিষীর সবচেয়ে উল্যেখযুগ্য বৈশিষ্ট হচ্ছে,উনার ফজরের নামজ কাজা হয়েছে কি না সন্দেহ আছে কারন এলাকার কেউ কোনদিন ফজরের সময় উনাকে ঘুমে পায়নি। আর এত অল্প আহার অল্প ঘুম এবং এমন এবাদত কারী ব্যাক্তির সন্ধান পাওয়া বর্তমান সমাজে খুবই বিড়ল।তিনি ধর্মীয় গোঁড়ামি ছেড়ে সকল পক্ষের লিখা পুস্তকাদি পড়ার তাগিদ দিতেন এবং নিজেও তাই করতেন।পান্জাতন পাঁকের শান প্রচার এবং এবাদতে মশগুল থাকা ও পড়াশোনাই ছিলো উনার মূল নেশা।তিনি আমিত্ব বর্জনকারী হয়ে তরীকতের কাজে মনোনিবেশ করার পর হতে বিভিন্ন অঞ্চলের হাজার হাজার আলেম, ডাক্তার, ইন্জিনিয়র, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা কর্মচারী ও হাজার হাজার শিক্ষিত অশিক্ষিত সাধারণ মানুষ তাঁর নিকট বায়াতে রাসুল গ্রহন করতে শুরু করেন।

হযরত মাওলানা সৈয়দ কুতুব উদ্দিন আহমদ আল-হোসাইনী চিশতী (রহঃ) ইসলামী চিন্তাবিদ এবং গবেষক ছিলেন । গুরুগম্ভীর ব্যক্তিত্বের অধিকারী এই বাগ্মী পুরুষ একজন ইংরেজী, আরবী, উর্দু ও ফারসী ভাষায় উচ্চ শিক্ষিত আলেম ছিলেন। জীবনের অন্তিমকাল অবদি আরবী, উর্দু, ফারসী ও ইংরেজী ভাষায় ইসলাম ধর্মীয় জটিল তত্ত্বসমূহের গবেষণার কাজ চালিয়ে গেছেন। আরবি ও ফার্সিতে লিখিত অনেক মুল্যবান কিতাবাদী নিয়ে তিনি গবেষণা করতেন। সারাটি জীবন অর্থাৎ মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি কঠোর সাধন করে গেছেন।তাঁর লেখাপাকপাঞ্জাতন আহলে বায়েত (আঃ)গনের বিষয়ে বেশ কয়েকটি পুস্তক লিখেছেন এবং কয়েক’শ জারি-মার্সিয়া, উর্দু, বাংলা কাসিদা, গজল, ভক্তিমূলক গান রচনা করেছেন যা এখনও পাণ্ডুলিপি আকারেই রয়েছেতাঁর এসকল সাহিত্য ধর্মীয় মহলে যথেষ্ট সমাদৃত।কোরআন- হাদীস হতে তিনি অমূল্য তথ্য সহ পাকপাঞ্জাতন ও শহীদানে কারবালার উপর অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রেখে গেছেন। মহান মনীষী সৈয়দ কুতুব উদ্দিন আহমদ আল-হোসাইনী চিশতী (রহঃ) অনেক মহামূল্য চৈন্তিক ও লেখ্য উত্তরাধিকার রেখে গেছেন যার প্রতিটিই তাঁর মনীষা ও বিরাট ব্যক্তিত্বের পরিচয় বহন করে এবং তা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে তাঁকে মানুষের মাঝে স্মরণীয় করে রাখবে।তাঁর লিখা উল্লেখযোগ্য কিতাবগুলো হচ্ছেঃ- ১.নেয়ামতে খোদা আহলে বয়তে মস্তোফা ২.সত্যের মানদণ্ড ইমাম হোসাইন (আঃ)৩. আত্মার খোরাক ৪.অসায়েফে হেসাইনী ও ৫.প্রদীপ।উপরুক্ত পাণ্ডুলিপি গুলো পুস্তক আকারে প্রকাশিত হয় যা জ্ঞান পিপাসুদের নিকট ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। আরো কয়েক খানা পান্ডুলিপি প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। উনার আরো অনেক অলৌকিক কারামতের ঘটনাসহ উনার জীবন চলার মান নিয়ে পূর্নাঙ্গ জীবনী প্রকাশিত হতে যাচ্ছে।

তাঁর রচিত একটি আধ্যাত্মিক কালামঃ

উম্মতের ছাহারা, নবী হামারা নূর মোহাম্মদ ছাল্লাল্লা
জগতের মাওলা মুশকিল কোসা হযরত আলী ছাইফুল্লা।

১.খাতুনে জান্নাত ফাতেমা জননী, হাসান হোসেন নবীর নিশানী
দূর করে দাও মুশকিল হামারি,পান্ঞ্জাতনের উছিলা।

২.পাক পান্ঞ্জাতন নাম স্মরণে মুরশীদ রূপ রাইখা নয়নে
সাজাইয়া আসন আপন মনে খোদার নামে দেও সেজদা।

৩.ডাকি কুতুব নত শিরে অধম জেনে কৃপা করে।
মাফ করে দেও সকল গুনা আয় মেরে মাবুদ মাওলা।

সাংসারিক জীবনে এই মহান সাধক ঐতিহাসিক নাসিরপুর সাহেব বাড়ীতে মৌলভী সৈয়দ শাহ আব্দুল ওয়াসেহ রহ.(সালেহ) সাহেবের বড় কণ্যাকে বিবাহ করেন। তিনি তিন কণ্যা ও তিন পুত্রের জনক ছিলেন।উনার জীবদ্দশায় উচ্চমাধ্যমিক পড়োয়া ছেলে ২০০৩ইং সনে এক মর্মান্তিক লঞ্চ দুর্ঘটনায় সৈয়দ নিয়াজ হাসান সোহাগ এবং তার নয় মাস পর নবম শ্রেণির ছাত্রী সৈয়দা নাফা সুলতানা নামে দুই সন্তানের অকাল মৃত্যু হয়।দুই সন্তানের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোঁকের ছায়া নেমে আসলেও তিনি ছিলেন আবিচল, তিনি নিজেই সন্তানদের জানাজা পড়ান। তখন তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেনঃ “পিতার নিকট সর্বাধিক ভারী তার সন্তানের লাশ! তবে আমার কোন দুঃখ নেই, আমার মালিকের খুশিতেই আমি খুশি।তবে আমার সন্তানরা কাউকে কোন কষ্টদিয়ে থাকলে তাদের আপনারা ক্ষমা করে দিবেন।”যুবক সন্তানের লাশ সামনে রেখে কোন পিতা এই ভাবে কথা বলতে পারেন সেটা খুবই বিড়ল।এতে করে লোকজন বুঝতে পাড়লেন যে সৈয়দ কুতুব উদ্দিন সাহেব স্রষ্টার প্রতি কতইনা আস্থাবান ও অবিচল ছিলেন।

তিনি ইন্তেকালের পূর্বে স্ত্রী দুই ছেলে সৈয়দ ফাইয়াজ হাসান, সৈয়দ মোমতাজ হাসান সুজন এবং দুই কণ্যা সৈয়্দা মুশফিকা সুলতানা রোমা (মজ্জুবিয়ত হালত) ছোট কণ্যা সৈয়দা শেগুফ্তা সুলতানা জিবা স্বামী ঐতিহাসিক খান্দুরা হাবেলীর পীর সৈয়দ আহমদ বখত মতিন।এ ছারাও ইলমী জগতের এ মহান প্রদীপ  লক্ষাধিক মুরিদ ভক্ত আশিক আত্মীয় ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গত ৩০ জুলাই ২০১৬ইং মোতাবেক ১৫ শ্রাবণ ১৪২৩ বাংলায় তারিখে নির্বাপিত হয়ে হায়াতে জিন্দেগী থেকে পর্দা করে মহান আল্লাহর দিদারে চলেযান। যে হস্তদ্বয় চিরদিন সত্যের প্রতিরক্ষায় ও বাতিলের অপসারণের কাজে মশগুল ছিলো তা কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং যে সব অঙ্গুলি লেখনী ধারণ করে বহু মহামূল্য ও বিরলদৃষ্টান্ত গ্রন্থ উপহার দিয়েছে তা নিথর হয়ে পড়ে।তার নিজ বাড়ীর সামনেই অষ্টগ্রাম হাবেলীতে অবস্থিত হোসাইনী মোকামের পার্শ্বে আল্লাহর এই ওলী শায়িত আছেন।প্রতি বছর ১৫ ই শ্রাবন বাংলা তারিখে তাঁর উরস শরীফ পালিত হয়।লাখ লাখ ভক্তবৃন্দের সুগমনে অনেক সুন্দর,সুষ্ঠ, নিরাপদ ও পবিত্রতার মধ্যদিয়ে অনুষ্টিত হয় পবিত্র বাৎসরিক ওরশ মোবারক।


সিপাহসালার | ইনস্টিটিউশনজুলাই ২০২০এস এইচ হক

মন্তব্য

  • 39.প্রাণের মুরশীদ কেমনে ভাল বাসি তোমারে
    তোমার নামের পবিএ চিন্তা নাহি আমার অন্তরে।

    ১.মুখে মুখে ভক্ত আমি, কাজের বেলায় দেই ফাঁকি
    প্রাণের ভিতরে কালি, কাঁদিয়া ভিজাই আখি
    নিরাপদ কালে কুলাকুলি বিপদ দেখলে যাই সরে।

    ২.গরলতা মোর অন্তরে, সরল হইলাম কেমনে?
    বাক্যে কাজে চিন্তায় মিলে সেবিলাম না তোমারে।
    অন্যভাবে মন মজাইয়া থাকি যে দূরে দূরে।

    ৩.মুখে আমি সব দিয়াছি দিবার বেলায় কিছুই নাই
    স্বার্থের বেলায় সবই আছে কে দেখে আমার বড়াই
    স্বার্থের একটু কমতি হইলে দুর্নাম ছড়াই সংসারে।

  • 58.মুরশীদ ও দিন গেল ফুরাইয়া দেখলানা আসিয়া
    তুমি না আসিলে মুরশীদ মরিব কাঁদিয়া

    ১.মুরশীদও তোমার পাইবার আশে ভ্রমি তালাশিয়া
    যতই দূরে থাক তুমি চাতকিনীর মত আমি যাইব উড়িয়া

    ২.প্রেম করিলাম তোমার সনে কত আশা লইয়া
    এই ছিল মোর কর্মের লেখা পাইলাম না তোমারই দেখা
    হৃদয় যায় চিড়িয়া।

    ৩.মুরশীদও প্রেমাগুনে পুড়ি আমি কে দিবে নিভাইয়া
    পাইলে প্রাণ বন্ধুয়ারে দেখব আমি জিজ্ঞেস করে
    কেমন তার হিয়া

    ৪.মুরশীদও ছাইড়া যদি যাও আমারে থাকব চরণ বানে চাইয়া
    কুতুব মিয়ার মনের আশা মুরশীদের চরণ ভরসা নিও গো তরাইয়া,

  • তিনিই প্রকৃত নেতা যিনি জনগণের খেদমতের মাধ্যমে জনগণের মন জয়
    করতে সক্ষম।
    :- হযরত সৈয়দ কুতুবউদ্দিন আহমদ আল হােসাইনী (কু)

  • 73.
    উম্মতের কান্ডারী নবী রহমতের ভান্ডার নবী বিনে রোজ হাসরে কে করিবে পার।

    ১.একা যখন ছিলেন আল্লাহ নূর নবীকে বানাইলা
    দুইয়ে মিলে প্রেমের খেলা খেলছের অনিবার

    ২.আশেক ও মাশুকের খেলা, কে বুঝিবে ইহার লিলা
    অপ্রেমিকে বুঝবে নারে প্রেমেরি কারবার

    ৩.এসে যখন মনকির নেকিয়ে, ছোয়াল করবে মোদের কবরে
    জবান বলিব আমরা উম্মত মস্তুফার

    ৪.কবর ও হাসরেতে বড় বিপদ পুল ছেরাতে
    দয়া করে পার করিবেন (নবী) উম্মত গুনাগার

    গ্রন্থকার সৈয়দ কুতুব উদ্দিন আহমদ

  • 61.নিজে আল্লা দুরুদ পড়েন সোনার মদিনায়
    পাঞ্জাতনের ভেদ না জেনে কেন আইলায় দুনিয়ায়

    ১.পাঞ্জাতন গোপনে ছিল, কি কারণে জাহের হইল
    মানুষ হইয়া কেনরে মন পাঞ্জাতন চিনলে না।

    ২.পাঞ্জাতনকে নিয়ে আল্লা, খেলছেন তিনি প্রেম খেলা
    বিশ্বভূবন হইল সৃজন পাঞ্জাতনের উছিলায়

    ৩.আলেম ফাজেল কতই ছিল
    বর্তমান চোখে দেখিল
    তবে কেন জেনে শুনে মারল ইমাম কারবালা।

    ৪.ইয়াজিদিগনের এবাদত, তাছবিহ্ তাহলিল তালাওয়াত
    সবই তাদের হইল বরবাদ হুব্বে পাচ তন না থাকায়

    ৫.হুব্বে পাচতন ছেড়ে দিয়ে যাও যদি নামাজ পড়িয়ে
    হাসরে ইয়াজিদের দলে শামিল হইয়া যাইবায়।

    ৬.ভক্তিহীন কুতুবে বলে, পাঞ্জাতন না ভজিলে
    মানব জনম বিফল যাবে শেষে করবে হায় হায়

  • 70.অতুল অমূল্য প্রেম কয় জনে জানে
    ধনী মানী পায়না তারে পায় কাংগাল জনে

    ১.ওয়েজ করণী প্রেম করিয়া, নিজের জীবন দিল বিলাইয়া
    বএিশ দন্ত ফেলে দিয়া প্রেম নিদর্শন দেখায় ভুবনে।

    ২.ইব্রাহিম নবী প্রেমিক ছিল, আপন ছেলে কুরবানী দিল
    তবুও না ছাড়িল খলিল রাব্বুল আলামিনে

    ৩.প্রেম মন্তে নিয়া দীহ্মা,জগতকে দিয়াছেন শিহ্মা
    দেখাইল তার পরীহ্মা লাইলী মজনুনে।

    ৪.যার সনে যার প্রেম খাইটাছে দুই দেহ এক হইয়াছে
    আল্লাহ রাছুল বাঁধাআছে প্রেমের কারণে

    ৫.কুতুব বলে শুনরে অবুঝ মন, অন্তরে কর প্রেমের আসন
    আল্লাহ রাছুল পাবেনাক প্রেম বিহনে।

মতামত দিন